সেতুর কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ 

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৫৭ পিএম


সেতুর কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার
সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ হওয়ায় সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছেন মানুষ : ছবি আরটিভি

খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে উধাও হয়ে যাওয়ায় ভাঙা সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে হাজার হাজার মানুয।

জানা গেছে, কপোতাক্ষ নদের ওপর শালিখা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর। এলজিইডির উদ্যোগে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁকা-পাটকেলঘাটা সড়কে ৬৬ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি গার্ডার সেতুর কাজ ২০২৩ সালের আগস্টে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ করার পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ইতোমধ্যে ঠিকাদার ৪ কোটি ৪৫ লাখ, ৬৬হাজার ৭২৩ টাকা তুলে নিয়েছেন। এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ও যন্ত্রপাতি রাতের আঁধারে সাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ফলে তালা উপজেলার খেশরা, শালিখা, বালিয়া, জালালপুর ও মাগুরা ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছেন। সাইকেল, ভ্যান, ইঞ্জিনভ্যান ও মোটরসাইকেলও চলছে এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর ওপর দিয়ে।

আরও পড়ুন

কাটিপাড়া বাজার, বাঁকা বাজার, পাইকগাছা, কয়রা, আশাশুনি ও সাতক্ষীরা জেলার সঙ্গে যোগাযোগের এই গুরুত্বপূর্ণ পথে প্রতিদিন চলাচল করেন হাজারো মানুষ।

এলজিইডি সূত্র জানায়, ঠিকাদারকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও সাড়া না মেলায় ২০২৩ সালের ১০ মার্চ ২৮ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে কাজ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু গত ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস এ-জেডটি (জেভি)’ পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়।

প্রতিষ্ঠানটির এস এ-জেডটি (জেভি) জিয়াউল হাসান টিটুর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল নাম্বারে কয়েকবার ফোন দিয়েও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব জানান, আপাতাত শালিখা ব্রিজের কাজ বন্ধ রয়েছে। আমরা বারবার কার্যাদেশটি বাতিলের জন্য জেলা অফিসে সুপারিশ করেছি। কাজটি বাতিল হলে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে নতুন করে কাজ শুরু করা হবে।

পাঁচ বছর পার হলেও শেষ হয়নি এই সেতুর কাজ। ঠিকাদার পালিয়ে গেলেও প্রশাসনের নেই কার্যকর পদক্ষেপ। এমন পরিস্থিতিতে ভোগান্তির শেষ কোথায়, তা নিয়েই থেকে যাচ্ছে প্রশ্ন?

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission