বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, স্বাভাবিক হয়নি সড়ক যোগাযোগ

বান্দরবান প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ  

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ১০:১৮ পিএম


বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, স্বাভাবিক হয়নি সড়ক যোগাযোগ
সড়কে পাহাড় ধসে পড়া মাটি সরানোর কাজ করছেন সেনাবাহিনী : ছবি আরটিভি

বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর পানি কমতে শুরু করায় জেলা সদরের বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, তবে এখনো অনেক নিম্নাঞ্চল হাঁটু পরিমাণ পানি জমা দেথা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে কিছু কিছু পরিবার বাসতবাড়িতে পরিস্কারের কাজ করতে দেখা গেছে এবং ওইসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। 

এদিকে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক গত তিনদিন বিচ্ছিন্ন থাকলেও পানি কিছুটা কমে যাওয়ার রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে ছোট বড় যানবাহন চলাচল করছে। বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের রাঙ্গুনিয়া এলাকায় সেতু ধসে পড়ায় জেলার সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলার ৭টি উপজেলায় বন্যায় প্লাবিত হয়ে ও সড়কে পাহাড় ধসে অনেক উপজেলার সড়কে যান চলাচল বিচ্ছিন্ন রয়েছে, ফলে বাড়ছে নিত্য পণ্যের দাম। 

রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, ঘরবাড়ি ছেড়ে যারা বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন, তারা কাজ ও উপার্জন হারিয়ে অসহায় ও মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে জেলার রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি ও বান্দরবান-রাঙ্গামাটিসহ অভ্যন্তরীণ উপজেলাগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। টানা এক সাপ্তাহ ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড় ধস, সড়ক ভেঙে যাওয়া এবং সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে রুমা নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। 

এখনো প্রায় দেড়শতাধিক পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। রুমা উপজেলা বেথেলপাড়া থেকে মুনমামপাড়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস ও মাটি সরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই সড়কে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পাহাড় ধসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে থানচি উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ সচল রাখতে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেনাসদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে জমে থাকা মাটি ও উপড়ে পড়া গাছপালা অপসারণ করছেন। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে থানচি-আলীকদম ও রুমা-থানচি সড়কের বেশ কিছু স্থানে মারাত্মক ধস নামে।

এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করতে সেনাসদস্যরা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছায় উদ্ধার ও অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

অপরদিকে এ দিন সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে আসায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে এখনো শহরের অলিগলিতে সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ সড়কে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনী সড়ক পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শ্রমজীবি মানুষ ও যানবাহনের চালক-শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জেলায় ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৬ হাজার ২৫০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

এসব আশ্রয় কেন্দ্রে প্রশাসন, বিজিবি ও সেনাবাহিনী, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শুকনা খাবার, রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ যাবতীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন।

জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানান, ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ৮ লাখ ৪০ হাজার নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদম উপজেলার নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। 

অন্যদিকে বালাঘাটা এলাকার রাস্তায় পানি পুরোপুরি না নামায় বান্দরবান-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কে পানি কমে যাওয়ায় এ সড়কপথে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission