উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানায় করা নতুন একটি বিস্ফোরক মামলায় মহানগর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল পাঠানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলগেট থেকে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
রাসেল পাঠানের পরিবার ও আইনজীবীরা একে আদালতের আদেশের সরাসরি অবমাননা ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন।
এর আগে গত ৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিট পিটিশন নং ৮৫৮১ এর শুনানি শেষে আদেশ প্রদান করেন। ওই আদেশে আদালত বিবাদী পক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া রাসেল পাঠানকে যেন আর কোনোভাবে হয়রানি বা গ্রেপ্তার দেখানো না হয়।
আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু এবং বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত এ রুল জারি করেছিলেন ।
রাসেল পাঠানের আইনজীবী সেকান্দার আলীর অভিযোগ, রোববার বিকেলে তার জামিননামা কারাগারে পৌঁছায়। পরে রাত ১০টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাকে ফের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে নতুন একটি বিস্ফোরক মামলা করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ময়মনসিংহ নগরীর কাশর এলাকার স্থানীয় অরুন মিয়ার ছেলে মো. রাকিব বাদি হয়ে ১২ জুলাই রাতে বিষ্ফোরক আইনে একটি মামলা করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয় যে, মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে নগরের বাতিরকল মোড়ে বাদী ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের গতিরোধ করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
রাসেল পাঠানের পরিবারের সদস্যরা জানান, রাসেল পাঠান যখন আগের সবগুলো মামলায় উচ্চ আদালত থেকে সব আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিন পেয়ে মুক্তির প্রত্যাশায় ছিলেন, তখনই তাকে জেলগেট থেকে নতুন মামলা করিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
রাসেল পাঠানের মা জোবেদা খাতুনের ভাষ্যমতে, হাইকোর্ট সুনির্দিষ্টভাবে হয়রানি বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পরও পুলিশ ২০২৪ সালের পুরোনো ঘটনার নাটক সাজিয়ে নতুন মামলা দায়ের করল। এটি আমাদের পরিবারের প্রতি অবিচার এবং আদালতের আদেশের প্রতি চরম অবজ্ঞা।
রাসেলের আইনিজীবী আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে বারবার হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। বিশেষ করে, যখন উচ্চ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন তখন তা অমান্য করার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ময়মনসিংহের যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল পাঠান। তিনি নগরীর সানকিপাড়া শেষ মোড় এলাকার আব্দুর রাজ্জাক পাঠানের ছেলে।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলেন, আগের সব মামলায় জামিনে থাকলেও নতুন করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ছাড়া অন্যা কোনো পাবলিক বিষ্ফোরক আইনে মামলা করতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মামলা করতেই পারে।
আরটিভি/এমএইচজে




