নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় মাদকসেবনের প্রতিবাদ করায় মো. ফারুক ওরফে শহীদ (৫০) নামে এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবককে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া। এর আগে বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজার সংলগ্ন পল্লি বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ২টার দিকে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শহীদ উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন।
এ ঘটনায় আটকরা হলেন- মো. আরশাদ ওরফে আকাশ (২৪) এবং মো. সাজ্জাদ হোসেন আকাশ (১৯)।
নিহতের বড় ছেলে মো. ইমরান হোসেন বলেন, আকাশ আগে মাঝে মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতেন এবং এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। তার বেপরোয়া মাদকসেবনের প্রতিবাদ করেন উপজেলা ছাত্রদল নেতা জহির। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের একটি দোকানে আকাশের মাদকসেবন নিয়ে কথা ওঠে। এ সময় আকাশ বেপরোয়া আচরণ করে ছাত্রদল নেতা জহিরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি তার মাদকসেবনের প্রতিবাদ করার কে? তখন ওই দোকানে থাকা আমার বাবা তাকে আকাশকে ঘাড় ধরে দোকান থেকে বের করে দেন।
ইমরান আরও বলেন, পরদিন বুধবার সকালে আকাশ কয়েকজনের কাছে তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেন। পরে রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তেঁতুলতলা বাজার সংলগ্ন পল্লি বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে পেছন থেকে আমার বাবার মেরুদণ্ডে ছুরিকাঘাত করেন আকাশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সে তার মৃত্যু হয়।
ওসি রোমেল বড়ুয়া জানান, মাদকসেবনের প্রতিবাদ করার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক দুজন বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
আরটিভি/এমএইচজে



