শিশুসহ ভারতীয় নাগরিককে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা, অতঃপর...

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০১:৫৮ পিএম


শিশুসহ ভারতীয় নাগরিককে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা, অতঃপর...
ভারতীয় নাগরিকদেরও বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে পুশ-ইন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শুধু ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকই নয়, ভারতীয় নাগরিকদেরও বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় এমনই এক নারী রেশমা বিবির সন্ধান পাওয়া যায়। তার সঙ্গে রয়েছে একটি শিশু সন্তান। চোখে মুখে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার ছাপ নিয়ে তিনি দেশে ফেরার উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে মানবিক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

রেশমা বিবি ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পাকুর জেলার মহেশপুর থানার খাগড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী রাজু শেখ এবং বাবা বুলু শেখ। তিনি দুই সন্তানের জননী।

রেশমা জানান, তিনি ভারতীয় নাগরিক। জীবিকার তাগিদে মুম্বাইয়ে একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সেখান থেকে ভারতীয় পুলিশ কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে তাকেও সন্তানসহ আটক করে। তিনি বারবার নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। পরে তাকে অন্যদের সঙ্গে বিমানে কলকাতায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে গভীর রাতে চট্টগ্রাম বিভাগের এক সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশে তার কোনো আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত না থাকায় তিনি চরম বিপাকে পড়েন। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে সহায়তা করে বাসে তুলে বেনাপোলে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে তিনি নিজ দেশে স্বামী ও সন্তানের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য চেকপোস্ট এলাকায় ঘুরছেন। তার আরেক সন্তান মুম্বাইয়ের একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। সে সেখানকার একটি হোস্টেলে থাকে।

স্থানীয় সীমান্তবাসীরা বলেন, যদি রেশমা প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় নাগরিক হন, তাহলে মানবিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে নিজ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুই দেশের কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমাদের করণীয় তেমন কিছু নেই। বিষয়টির সমাধান হয়তো বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হতে পারে।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, এ বিষয়ে আসলে আমাদের করণীয় কিছু নেই। এটি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান হওয়া প্রয়োজন। আইনি জটিলতা এড়াতে এবং মা-শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা এবং বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

এদিকে, সীমান্তে ভারতীয় নাগরিক দাবি করা নারী চেকপোস্ট এলাকায় চলাফেরা করলেও এ বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি সেখানে অবস্থানরত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর মধ্যে। তবে বিষয়টি তারা তাদের কর্মকর্তাদের অবহিত করবেন বলে জানা গেছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission