খালে বাঁধ দিয়ে বালু ভরাটের অভিযোগ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৪৮ পিএম


খালে বাঁধ দিয়ে বালু ভরাটের অভিযোগ
খালে বাঁধ দিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ভরাট করে পুরো খাল আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: আরটিভি

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার গালা এলাকার মাজারসংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর একটি শাখা খালে বাঁধ দিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ভরাট করে পুরো খাল আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হেলাল নামের এক স্থানীয় বাসিন্দার বিরুদ্ধে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নের গালা মাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ধলেশ্বরী নদীর শাখা খালের ব্রিজের পাশে বাঁধ দিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলে পুরো খাল আটকে দেওয়া হয়েছে। ফলে খালের পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারছে না। টানা বৃষ্টির কারণে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খালের উজানে পানি জমে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে পানি আটকে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই আশপাশের ধানখেত ও অন্যান্য ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, খালটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্ষা মৌসুমে এই খাল দিয়েই অতিরিক্ত পানি ধলেশ্বরী নদীতে নেমে যায়। কিন্তু খাল ভরাটের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে খালের ওপর বাঁধ দিয়ে বালু ভরাট করা হয়েছে। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কয়েকশ' বিঘা কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত খালের ওপর নির্মিত বাঁধ অপসারণ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা হোক। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমি প্লাবিত হয়ে কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষক মতলব মিয়া বলেন, আমাদের জমিতে কিছু আবাদি ফসল। পানি বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় বৃষ্টি হলেই জমিতে পানি জমে যাচ্ছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

আরেক বাসিন্দা হাসমত আলী বলেন, এটা শুধু কৃষকদের ক্ষতিই নয়, বরং পরিবেশ ও পানি প্রবাহের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। খাল দখল বা ভরাটের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

এ সব অভিযোগের বিষয়ে হেলাল বলেন, ওইখানে আমারও জায়গা আছে। আমি পানি যাওয়ার জন্য পাইপ দিয়েছি। তাও যদি সমস্যা হয় তবে আমি ভেকু দিয়ে কেটে ঠিক করে দেব।

আরও পড়ুন

এ ব্যাপারে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন বলেন, বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission