সাংবাদিককে মামলার হুমকি পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তার

নওগাঁ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৫২ পিএম


সাংবাদিককে 'মামলার হুমকি' পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তার
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গোলাম মো. আজম। ছবি: আরটিভি

নওগাঁয় দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র। এতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রত্যন্ত ওই ইউনিয়নের অন্তত ৪০ হাজার মানুষ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধের কারণ এবং কবে নাগাদ এটি চালু হতে পারে—এমন প্রশ্ন করায় এবার সাংবাদিকের ওপর চটেছেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গোলাম মো. আজম। অসৌজন্যমূলক আচরণসহ প্রকাশ্যে মামলার হুমকি দিয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শফিক ছোটনকে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে নওগাঁর বিভিন্ন টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে। শফিক ছোটন নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক। জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক নেতার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ায় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালকের এমন আচরণ সরকারি কর্মচারী বিধিমালার লঙ্ঘন কি না, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা সংবাদদাতা আরমান হোসেন রুমন জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সৃষ্ট জনদুর্ভোগের দায় এড়াতে পারে না পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। এ-সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে উপপরিচালক গোলাম আজম সাংবাদিক শফিক ছোটনের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। খবর পেয়ে অন্য টেলিভিশন সাংবাদিকরা সেখানে গেলে সবার সামনেই তাকে প্রকাশ্যে মামলার হুমকি দেন। একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়েও তার আচরণ সন্ত্রাসীদের মতো মনে হয়েছে।

যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শফিক ছোটন জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দারা। প্রত্যন্ত ওই জনপদের কয়েক হাজার পরিবারের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। সেই প্রশ্ন করলে উপপরিচালক গোলাম মো. আজম আকস্মিকভাবে আমার ওপর মারমুখী আচরণ করেন। তিনি অকথ্য ভাষায় আমার ভিডিও জার্নালিস্টকে গালিগালাজ করেছেন। পরে সহকর্মীদের ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে পুনরায় দেখা করলে তিনি আমাকে মামলার হুমকি দিয়েছেন।

এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার আসাদুর রহমান জয় বলেন, ছোটনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ হচ্ছে—এমন খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়েছিলাম। ওই কর্মকর্তা যেভাবে প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি দিলেন, তার আচরণ কোনোভাবেই স্বাভাবিক মনে হয়নি। নিজের মধ্যে চেপে রাখা অন্য কারও ওপরের ক্ষোভ তিনি সাংবাদিকদের ওপর ঝাড়লেন বলে মনে হয়েছে। এমন কর্মকর্তা শান্তিপ্রিয় জেলা নওগাঁর জন্য সঠিক নন।

নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফরিদুল করিম জানান, জনগণের স্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। অবিলম্বে এই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা না হলে কর্মসূচি গ্রহণ করবে টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গোলাম মো. আজম জানান, তিনি (যমুনা টিভির ভিডিও জার্নালিস্ট) অনুমতি ছাড়াই ক্যামেরা বের করেছিলেন। ওই সময় একটু উচ্চ স্বরে কথা বলেছি। তবে মারমুখী আচরণ করা হয়নি। ক্যামেরায় কথা বলার ক্ষেত্রে আমাদের বিধিনিষেধ আছে। পরে তিনি মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission