পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগারটি কোনো কাজেই আসছে না। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ভূগর্ভস্থ অপরিশোধিত পানি থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ও রোগজীবাণু দূর করে পৌরবাসীর কাছে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ২০২১ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রটি সাঁথিয়া পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। হস্তান্তরের পর মাত্র কয়েক দিন চালু থাকার পর কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পৌর এলাকার কয়েক হাজার মানুষ বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভা ২৫ দশমিক ৫৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি পৌরসভা। এখানে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের বসবাস। নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের আওতায় গভীর নলকূপ স্থাপন, পানি শোধনাগার নির্মাণ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এ জন্য ব্যয় করা হয় ৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
২০২১ সালে প্রকল্পটি সাঁথিয়া পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলেও বর্তমানে কেন্দ্রটির অনেক মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং পৌরবাসী এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
পানি শোধনাগার বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী ফজলে রাব্বী বলেন, প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর এটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের। তবে আমরা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি।]\
একাধিক পানি ব্যবহারকারী জানান, সরকার যে উদ্দেশ্যে গভীর নলকূপ ও পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল, তা পূরণ হচ্ছে না। ফলে তাদের আর্সেনিক ও আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, প্রকল্পটি শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ের উদাহরণ নয়, বরং পৌরবাসীকে একটি মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত করারও উদাহরণ।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ রায়হান বলেন, পানি শোধনাগারটি চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রকল্পে যে পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে, সেটি তুলনামূলক ছোট হওয়ায় পৌরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রটি দ্রুত চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরটিভি/টিআর



