গ্রেপ্তার রেপিস্ট রাব্বিকে নিয়ে পুলিশের চাঞ্চল্যকর তথ্য

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:০৪ পিএম


গ্রেপ্তার রেপিস্ট রাব্বিকে নিয়ে পুলিশের চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

মেয়ে সেজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব, তারপর ফাঁদে ফেলে নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল করছিল ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ রাশেদুল ইসলাম রাব্বি। মাত্র দুই মাসে অন্তত ১৩ জন তরুণীকে ব্লাকমেইল করেছেন তিনি। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

পুলিশ বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘উপহার’ দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড়ের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ডেকে নিত রাব্বি। সেখানে নিয়ে জোরপূর্বক নির্যাতন করে তা মোবাইলে ধারণ করত। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করত এবং মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এবং সোনার গহনা হাতিয়ে নিতেন।

আরও পড়ুন

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের ডিসি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত রাব্বি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ফেইক আইডি ওপেন করে এবং মেয়ে কন্ঠে কথা বলে একজন ভিকটিমের কাছ থেকে কৌশলে তার মোবাইলটি নিজের নিয়ন্ত্রনে নেয়। এরপর ঐ ফোনে লগইন করা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও সিম ব্যবহার করে নারী কণ্ঠে কথা বলে ভিকটিমের বন্ধু তালিকায় থাকা কতিপয় স্কুল ও কলেজের ছাত্রীদের টার্গেট করত। নারী কণ্ঠে কথা বলে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার পর উপহার আদান-প্রদানের কথা বলে ভিকটিমদের যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ৫ম তলায় নিয়ে আসত। সেখানে ভিকটিমদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং সেই নগ্ন দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখত। পরবর্তীতে ভিকটিমদের সাথে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিত। পরবর্তীতে ধারণকৃত নগ্ন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল বা পর্ন সাইটে আপলোড করার হুমকি দিয়ে সে ভিকটিমদের পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করত এবং নিয়মিত টাকা আদায় করত।

ওয়ারী বিভাগের ডিসি আহসান উদ্দিন সামী বলেন, গত শুক্রবার দুপুরে এক মেয়ে ভিকটিমকে ফ্যামিলি মিট-আপের কথা বলে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায় রাব্বি। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই নগ্ন ভিডিও ডার্ক পর্ন সাইট ও টেলিগ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য নিয়মিত চাপ দিতে থাকে।

পরবর্তীতে রাব্বি প্রথম ভিকটিমের মোবাইল ব্যবহার করে তার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা অপর এক ভিকটিমকে টার্গেট করে। গত সোমবার পোশাক ডেলিভারি দেওয়ার কথা বলে দ্বিতীয় ভিকটিমকে যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ি মোড় সংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন ভবনের চতুর্থ তলায় ডেকে নেয়। সেখানে তাকে দুই ঘণ্টা আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং তার মোবাইল ও নগদ টাকা লুটে নেওয়া হয়।

এছাড়া গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আরেক ভিকটিমকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিকটিমের মোবাইল ফোন,নগদ অর্থ এবং সোনার গহনা হাতিয়ে নেয়।

পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় আসা এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী থানাধীন দনিয়া কলেজের সামনে অভিযান পরিচালনা করে রাশেদুল ইসলাম রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার হেফাজত হতে পাঁচজন ভিকটিমের পাঁচটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় বর্তমানে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের ডিসি জানান, গ্রেপ্তারের পর এখন পর্যন্ত এই আসামির বিরুদ্ধে ১০টি অভিযোগ পেয়েছি, আর ১০টা ঘটনায় একই ধরনের। আর সব ভিকটিম মিরপুর এলাকায়। অন্য কোথাও এ ধরনের কাজ করছে কিনা জানার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও জানান, রাশেদুল ইসলাম রাব্বি যে নারীকে বিয়ে করেছে তাকেও একই কায়দায় ট্রাপে ফেলে বিয়ে করেন তিনি। গত ২ মাসেই এ ধরনের ১৩টি ঘটনা ঘটিয়েছে। সব ভিকটিমের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission