শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যা মামলায় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০৫:৪২ পিএম


শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যা মামলায় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম
শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন । ছবি: সংগৃহীত

শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের এক দিন পর থানায় মামলা হয়েছে। এতে আসামির তালিকা ফাঁকা রাখা হলেও সন্দেহভাজন হিসেবে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ কয়েকজনের নাম এসেছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) নাঈম আহমেদ টিটনের ভাই সাঈদ আক্তার রিপন ঢাকার নিউমার্কেট থানায় মামলাটি করেন। 

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মো. নাসিম বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চলমান।

বাদী সাঈদ আক্তার সুনির্দিষ্ট করে কাউকে আসামি না করলেও এজাহারে সন্দেহভাজন হিসেবে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল (পিচ্চি হেলাল), বাদল ওরফে কিলার বাদল, শাহজাহান, রনি ওরফে ড্যাগারি রনির নাম উল্লেখ করেছেন। তাদের সঙ্গে বছিলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে টিটনের বিরোধ চলছিল বলে বাদী জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত পৌনে আটটার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে টিটনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে ছিল তার নাম। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর ২০২৪ সালে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে অন্তঃকোন্দল টিটন হত্যাকাণ্ডের কারণ বলে সন্দেহ করছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। মামলার এজাহারের বর্ণনাও সেদিক ইঙ্গিত করে।

এজাহারে সাঈদ আক্তার বলেন, ২৬ এপ্রিল তাকে ফোন দিয়ে টিটন বলেছিলেন, ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল ওরফে কাইলা বাদল, শাহজাহান, রনি ওরফে ড্যাগারি রনিদের সঙ্গে বছিলা গরুর হাটের ইজারা নিয়ে ঝামেলা চলছে। পরদিন টিটন বলেন, আমাকে ডাকছে উভয়ের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করার জন্য।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু বেচা–কেনার জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসায়। এগুলো ইজারার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবার বছিলাসহ ১২টি হাট ইজারা দিতে দর প্রস্তাব আহ্বান করে। মোহাম্মদপুরের বছিলায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা ইজারার ভিত্তি দর ধরে দরপত্র আহ্বান করলেও কোনো দর প্রস্তাব জমা পড়েনি। ফলে সেখানে আবার দরপত্র আহ্বান করা হবে।

পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন। ধীরে ধীরে অপরাধজগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বও দেন। অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা।

২০০৪ সালে টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট জামিনে মুক্তির পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

টিটন হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে নিউমার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোল্লা শাহাদাত গতকাল রাতে বলেছিলেন, রাত পৌনে আটটার দিকে মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন দুর্বৃত্ত তাকে (টিটন) লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। খুব কাছ থেকে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচ থেকে ছয়টি গুলি করা হয়। এরপর দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারী ব্যক্তিরা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় টিটনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।

আরও পড়ুন

খুনিদের পুলিশ চিহ্নিত করতে পারেনি। পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম গতকাল রাতে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়া যায়নি। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission