পেশায় অটোচালক, করেন আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ১০:০৯ পিএম


পেশায় অটোচালক, করেন আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা
ছবি: পিবিআই

প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ডাঙ্গির ছলেয়াপাড়া এলাকার মৃত কছিমুদ্দিনের ছেলে মো. খাইরুল ইসলাম (২৪) এবং বকসাপাড়া এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে মো. জাবেদুল ইসলাম (৩৮)। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তারা।

পিবিআই জানায়, সরাইল থানার মামলা নং-২২, তারিখ ১৫ মার্চ ২০২৬ এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২২ ধারায় দায়ের করা মামলার তদন্তে প্রতারক চক্রটির সন্ধান পাওয়া যায়।

মামলার বাদী মোহাম্মদ সামাল অভিযোগ করেন, কথিত অস্ট্রেলিয়ান মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারক চক্রটি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তাকে উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে তার ও তার স্বজনদের বিকাশ নম্বর থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

এক পর্যায়ে প্রতারকরা সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে ভুক্তভোগী আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। পরে তিনি সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি.) মো. শাহাদাত হোসেন তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন বিকাশ নম্বরগুলোর কেওয়াইসি এবং লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মে পিবিআইয়ের একটি দল নীলফামারীর সৈয়দপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার খাইরুল ইসলাম পেশায় একজন অটোচালক। চক্রের পলাতক সদস্য ‘প্রাণ ইসলাম’ তাকে একটি মোবাইল ফোন কিনে দিয়ে প্রতারণামূলক ভিডিও তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়। পরে ‘আরিফ মণ্ডল’ ছদ্মনামে একটি ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হয়, যেখানে খাইরুল নিজেকে সৌদি প্রবাসী পরিচয় দিয়ে, স্বল্প খরচে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তিনি সফল হয়েছেন বলে দাবি করেন।

পিবিআই জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ভিডিও ও ভুয়া পোস্ট বুস্ট করে সৌদি প্রবাসীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হতো। ভিডিও তৈরির জন্য খাইরুলকে আড়াই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

অপরদিকে জাবেদুল ইসলাম বিকাশের একজন ডিএসও (ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি নিজের পদের অপব্যবহার করে বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে প্রতারণার অর্থ ক্যাশ আউট এবং লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনের গতিপথ পরিবর্তনে সহায়তা করতেন। এর বিনিময়ে তিনি প্রতি লাখে ৫০০ টাকা এবং প্রতি হাজারে ৫ টাকা কমিশন নিতেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

আরও পড়ুন

পিবিআইয়ের বলছে, চক্রটি গত চার মাসে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা আন্তর্জাতিক প্রতারণা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission