দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। সর্বশেষ সমন্বয়ের ফলে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) থেকে সোনা বিক্রি হচ্ছে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে। তবে সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম আগের অবস্থানেই অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত ১৪ জানুয়ারি রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সোনার নতুন দাম ঘোষণা করে। এতে ভরিতে ২ হাজার ৬২৫ টাকা বাড়ানো হয়। বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকায়, যা দেশের বাজারে সোনার সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।
বাজুস আরও জানিয়েছে, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পার্থক্য হতে পারে।
এর আগে, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা, যা কার্যকর হয় ১৩ জানুয়ারি থেকে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সাতবার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচবার দাম বেড়েছে এবং দুইবার কমেছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বেড়েছে এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
এদিকে সোনার দাম বাড়লেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত চারবার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইবার দাম বেড়েছে এবং দুইবার কমানো হয়েছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ১৩ বার, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং তিনবার কমানো হয়েছিল।
আরটিভি/এসকে




