সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও পর্যালোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার(১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংক খাতে কিছুটা আস্থা ফিরেছে, তবে তা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, যারা অর্থ পাচার করেছে তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা করেছে, তবুও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কারা, কোন দেশে এবং কত টাকা পাচার করেছে সেসব তথ্য চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচিত সরকার আন্তরিক হলে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও স্বাধীনতা চাচ্ছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রসঙ্গে তিনি জানান, দু-এক দিনের মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তা প্রকাশ করতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, এই সময়ে বাংলাদেশকে এমন একটি অবস্থানে নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারবে বলেও জানান তিনি।
ভবিষ্যতে আবার সরকারে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান।
নিজের কর্মকাল মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে নিজেকে ১০০-তে ৭০ নম্বর দেবেন। অনেক কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও সব শেষ করা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে এনবিআর সংস্কার পুরোপুরি শেষ করা যায়নি। তিনি আরও বলেন, আমি একা ভালো হলেই হবে না, সবাইকে ভালো হতে হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সংযোগ প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা জানান, এ সেবা আর কোনো একক প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকবে না। বিদ্যালয়গুলো নিজেরাই রবি, বাংলালিংক কিংবা গ্রামীণফোন (জিপি) থেকে ইন্টারনেট সেবা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
আরটিভি/এসকে





