ইইউর বাজারে প্রতিযোগিতায় ভালো করছে বাংলাদেশ

বাসস

সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০১:৩৬ পিএম


ইইউর বাজারে প্রতিযোগিতায় ভালো করছে বাংলাদেশ

গত পাঁচ বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সামগ্রিক আমদানি প্রবৃদ্ধি সীমিত থাকলেও ইইউ বাজারে একাধিক প্রধান প্রতিযোগীর তুলনায় ভালো করেছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২০২৫ সময়ে ইইউর পোশাক আমদানি বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবৃদ্ধির গতি স্পষ্টভাবে ধীর হয়েছে।

২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের দুই বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্ববাজার থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পোশাক আমদানি মাত্র ২.১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৮.১৫ বিলিয়ন ইউরো থেকে বেড়ে ৯০.০০ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। এই দুই বছরে বাংলাদেশ থেকে আমদানি ৫.৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া একই সময়ে চীন থেকে আমদানি ১.১৭ শতাংশ বেড়ে ২৬.২৭ বিলিয়ন ইউরো থেকে ২৬.৫৮ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশ থেকে আমদানি ১৮.৩২ বিলিয়ন ইউরো থেকে ৫.৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। এর বিপরীতে, একই সময়ে তুরস্ক থেকে আমদানি কমেছে ১০.৭৩ শতাংশ।

তবে ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি চিত্রটা ভিন্ন। বিশ্ববাজার থেকে ইইউয়ের পোশাক আমদানি ৭২.২৫ বিলিয়ন ইউরো থেকে ৯০.০০ বিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত হয়েছে, যা ২৪.৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি। এই সময়ে চীন থেকে আমদানি ২১.৪৮ শতাংশ (২১.৮৮ বিলিয়ন থেকে ২৬.৫৮ বিলিয়ন ইউরো), বাংলাদেশ থেকে ৩৫.৮১ শতাংশ (১৪.৩০ বিলিয়ন থেকে ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরো) এবং ভারত থেকে ৩৩.১৮ শতাংশ (৩.৪০ বিলিয়ন থেকে ৪.৫২ বিলিয়ন ইউরো) বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, তুরস্ক থেকে আমদানি ২০২১ সালের ৯.২২ বিলিয়ন ইউরো থেকে ২০২৫ সালে ৮.৩৪ বিলিয়ন ইউরোতে নেমেছে, যা ৯.৪৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘গত দুই বছরে ইইউ’র সামগ্রিক আমদানি প্রবৃদ্ধি সীমিত থাকলেও বাংলাদেশ কয়েকটি প্রধান প্রতিযোগী দেশের তুলনায় ভালো করেছে। প্রায় ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি-যেখানে বাজারের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ শতাংশের কিছু বেশি-সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক সংকেত।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে চীন ও তুরস্কের তুলনায় বাংলাদেশ তার আপেক্ষিক অবস্থান শক্তিশালী করেছে। এটি প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, সরবরাহ চেইনের স্থিতিশীলতা এবং ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন। তবে বছরের শেষে আমরা আমাদের অবস্থান পুরোপুরি ধরে রাখতে পারিনি।’

বিজ্ঞাপন

মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, যদিও সামগ্রিকভাবে বছরের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল, তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধ ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক দিকে মোড় নেয়। এটিও সত্য যে পুরো ইউরোপ এবং চীন বছরটি নেতিবাচক প্রবণতায় শেষ করেছে। তবে পার্থক্য হলো, চীন বা অন্যান্য প্রতিযোগীর তুলনায় বাংলাদেশের নেতিবাচক ফলাফল তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।

একই সময়ে ইউরোপে সামগ্রিক মূল্যচাপের কারণে পোশাকের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ পরিমাণের দিক থেকে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, কারণ ইউরোপের দেশগুলো তাদের বর্ধিত চাহিদা মেটাতে সব সরবরাহকারীর ওপর দাম কমানোর জন্য ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছিল। 

আরও পড়ুন

মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, চীনের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তাকে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের চেয়ে বেশি দামে ছাড় দিতে সক্ষম করেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল এবং নতুন সরকার প্রতিযোগিতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে বিশ্ব পরিস্থিতির বড় কোনো অবনতি না হলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে পারবে।

তিনি জানান, এই মূল্যচাপ প্রায় সব দেশকেই প্রভাবিত করেছে, তবে ভিয়েতনাম ও তুরস্ক তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission