বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে ডিসেম্বর প্রান্তিকে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে নেওয়া এই ঋণের ফলে মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি ঋণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। এর আগে, সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১১২ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। আর জুন প্রান্তিকে এই ঋণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতে বিদেশি ঋণ গ্রহণ বেড়েছে বলেই মোট ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সে সময় আকু পেমেন্ট না হওয়া এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে ডলার প্রবাহ বাড়ার কারণে বিদেশি ঋণ বেড়েছে। ডিসেম্বর প্রান্তিকে আকু পেমেন্ট না হওয়ায় ওই অর্থ এখানে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে বিদেশ থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার আসায় ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণের প্রয়োজন রয়েছে। তবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না।
তিনি বলেন, বিদেশি ঋণের অর্থ যদি এমন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়, যা জনগণের উন্নতি ঘটায় এবং সেখান থেকে অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়, তাহলে তা ইতিবাচক। অন্যথায় এটি অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি খাতে বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার এবং বেসরকারি খাতে ২০ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার। সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় উভয় খাতেই বিদেশি ঋণ বেড়েছে।
সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশি ঋণ সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে তা পরিশোধের সক্ষমতা বাড়ায়। অন্যথায় এই ঋণই একসময় অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তাই এসব ঋণের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা সরকারের নজরদারিতে রাখা উচিত।
আরটিভি/এসএইচএম



