ডিজিটাল লেনদেন বা কার্ড পেমেন্টে ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনার প্রস্তাব

আরটিভি নিউজ  

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:১৬ পিএম


ডিজিটাল লেনদেন বাকার্ড পেমেন্টে ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনার প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে কার্ডভিত্তিক পেমেন্টে ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। অ্যামচেম জানায়, প্রস্তাবিত প্রণোদনার মধ্যে ৩ শতাংশ গ্রাহক এবং ২ শতাংশ ব্যবসায়ীরা পেতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটি থেকে এই প্রস্তাব করা হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে সভায় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

অ্যামচেমের মতে, কোভিড পরবর্তী সময়ে ভোক্তাদের মধ্যে অনলাইন শপিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ব্যবহারের কারণে ই-কমার্স খাতের সম্প্রসারণ ঘটছে। এতে নগদের ওপর নির্ভরতা কমছে এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়ছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য অর্থ স্থানান্তরও সহজ হচ্ছে।

আরও পড়ুন

ডিজিটাল লেনদেন আরও উৎসাহিত করতে পাঁচ শতাংশ নগদ প্রণোদনা চালুর সুপারিশ করে সংগঠনটি। প্রাথমিকভাবে এই প্রণোদনা ব্যাংক, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা এমএফএস সেবাদাতারা দিতে পারে এবং পরবর্তীতে সেই তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে সমন্বয় করা যেতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে অ্যামচেম বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নে একাধিক সুপারিশও তুলে ধরে। এর মধ্যে করনীতি সহজীকরণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংগঠনটি দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (ডিটিএএ) অনুযায়ী সরাসরি করহার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোকে আলাদা করে ডিটিএএ সনদ সংগ্রহ করতে হবে না। তবে, প্রয়োজন হলে আবেদন জমার সাত দিনের মধ্যে সনদ প্রদানের ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

উৎসে কর কর্তনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে অ্যামচেম। সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, রুল ৩৯ অনুযায়ী করপোরেট কর নির্ধারণ করা হলে উৎসে করের হার চার দশমিক ১২৫ শতাংশ এবং অন্যথায় পাঁচ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিদেশি ও স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য সমান করহার ৩৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ বজায় রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো সম্প্রসারণে স্মার্টকার্ড ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশের নিচে নামানোর প্রস্তাবও দিয়েছে অ্যামচেম। এছাড়া ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে কার্বনেটেড পানীয়র ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়। তৈরি পোশাক খাতের বর্জ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ সেবাকে ভ্যাট অব্যাহতির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে পুনর্ব্যবহার শিল্প আরও শক্তিশালী হয়। বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ বাড়াতে অ-বাসিন্দা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য করহার কমানোর সুপারিশও করা হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) ব্যক্তিগত আয়করের সর্বোচ্চ হার ২০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ওপর সারচার্জ মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছে। তারা গার্মেন্টস শিল্পে অন্তত ৫০ শতাংশ কাঁচামাল দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার সুপারিশও করে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ব্যক্তিগত আয়করমুক্ত সীমা সাড়ে চার লাখ টাকা নির্ধারণ, ট্রেড লাইসেন্স ফি ৫০ শতাংশ কমানো এবং নারী উদ্যোক্তাদের শোরুমে ভ্যাট অব্যাহতির দাবি জানিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবসায়ী সংগঠন ইউরোচ্যাম বিনিয়োগবান্ধব করনীতি প্রণয়ন, প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। একইসঙ্গে তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ডিজিটালাইজেশন উদ্যোগের প্রশংসা করলেও নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধান কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission