বাংলাদেশের সঙ্গে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি হয়েছিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ)। এখন পর্যন্ত ৫ কিস্তিতে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি পরিমাণ অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু, বাকি অর্থ ছাড়ের বিষয়টি ঝুলে আছে অনেকদিন ধরে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্থগিত করে রাখা এ অর্থ ছাড়ের বিষয়টি দ্রুত সমাধানে এখন দেন-দরবার করে যাচ্ছে নবনির্বাচিত সরকার।
এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের চলমান বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সেখানে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে তার।
বাংলাদেশের ঋণের কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে আইএমএফ এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে দেন-দরবারে কয়েকটি বিষয়ে সমাধান হয়নি। আগামী দুই সপ্তাহে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। আইএমএফের হ্যাঁ বা না বলার সুযোগ নেই। বিষয়টি এমন না আলোচনা আজকে শেষ, সামনে আরও আলোচনা হবে। সবাইকে বুঝতে হবে এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া।
কম রাজস্ব আহরণ ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কিস্তি না করে দিয়েছে— এমন একটা সংবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, যিনি এমন সংবাদ লিখেছেন তাকে এর উত্তর দিতে হবে আমার এমন বিষয়ে কিছু জানা নেই।
ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভায় এই ঋণের অর্থ ছাড় নিশ্চিতের চেষ্টা ছিল অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের। গত ১৩ এপ্রিল শুরু হওয়া বৈঠকের পঞ্চম দিনে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠকেও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয় ঋণের কিস্তি ছাড়ের বিষয়টি।
এবারের বসন্তকালীন বৈঠকের আলোচনাগুলোতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন খাতে সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে আইএমএফ।
এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেবে বাংলাদেশ। আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। কিছু বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে যা আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, এরইমধ্যে অনেকগুলো বিষয় সফলভাবে সমাধান করা হয়েছে। অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/এসএইচএম



