চলতি মৌসুমে চায়ের প্রথম নিলাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে সোমবার (২৭ এপ্রিল)। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে নিলামে অংশ নিচ্ছেন কয়েকশো বিডাররা। এর পাশাপাশি আগামীকাল পঞ্চগড় চা নিলাম ও বুধবার শ্রীমঙ্গল চা নিলাম শুরু হবে।
চলতি মৌসুমে দেশে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদন ও বিপণনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চা বোর্ড। বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গলে ৪৭টি করে চা নিলাম আয়োজন হলেও পঞ্চগড়ে নিলাম হবে ২৫টি।
চাহিদা থাকলেও নিলামে সরবরাহ কম থাকায় সর্বশেষ মৌসুমে তিন কেন্দ্রের পাঁচটি নিলাম বাতিল করেছে চা বোর্ড। মূলত দেশে চায়ের চাহিদা থাকলেও প্রত্যাশিত চা উৎপাদন না থাকায় শেষ দিকের নিলামগুলো কমানো হয়েছে।
চা বোর্ডের তথ্যমতে, সর্বশেষ বছরে দেশের ১৭১টি চা বাগান ও ক্ষুদ্রায়তন চা খাতে ১০ কোটি ২০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে আবহাওয়ার কারণে চায়ের উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ২৭ হাজার কেজি। দেশীয় প্রেক্ষাপটে নিলামে বাড়তি চাহিদা থাকায় প্রায় প্রতিটি নিলামেই রেকর্ড পরিমাণ চা বিক্রি হয়।
এজন্য শেষার্ধে এসে অবিক্রীত চায়ের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চা শূন্যতায় ছিল অনেক নিলাম। যার কারণে মৌসুমের শেষার্ধে এসে অনেক নিলাম বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে চা বোর্ড। চলতি মৌসুমে দেশের ১৭২টি বাগান ও ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদন ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে ১০ লাখ কেজি বাড়তি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসে সর্বমোট ৫ লাখ ৯৭ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ লাখ ৫৮ হাজার কেজি বেশি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৭৩ হাজার কেজি ও ফেব্রুয়ারিতে হয়েছে ২৪ হাজার কেজি। ডিসেম্বর থেকে পরিচর্যার জন্য বাগানগুলোর চা গাছের ওপরের অংশ কর্তন করায় উৎপাদন কমে আসে। মার্চ ও এপ্রিল থেকে চা বাগানে ধারাবাহিক উৎপাদন আবার শুরু হয়।
চা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিলাম বর্ষের শেষদিকে চায়ের মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়তি চায়ের কারণে বিক্রি ও দাম দুটোই কমে যায়। কিন্তু চলতি মৌসুমের শেষার্ধে এসেও চায়ের গড় দাম ২৫০ টাকার ওপরে ছিল। এমনকি প্রায় প্রতিটি নিলামেই ৬৫-৮০ শতাংশ পর্যন্ত চা বিক্রি হয়েছে। চায়ের ন্যূনতম দাম সংশোধন ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মৌসুমে চায়ের চাহিদা বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।
প্রসঙ্গত, দেশের বাগানগুলোয় চা উৎপাদনের পর নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করতে হয়। উৎপাদনের পর নমুনা পাঠানো হলে সেটি নিবন্ধিত ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতারা সংগ্রহ করে মান যাচাই করে।
এরপর নিলামে উত্তোলন হলে গ্রেড অনুযায়ী উন্মুক্ত বিডিং করে সর্বোচ্চ দরদাতা চা সংগ্রহ করে। এজন্য ঘোষিত দরের মধ্যে সরকার ১৫ শতাংশ, ১ শতাংশ ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠান এবং ১ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করে নির্ধারিত গুদাম থেকে চা সংগ্রহ করে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান।
আরটিভি/এমআই



