ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ, আইএমএফের পূর্বাভাস 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
প্রতীকী ছবি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছর শেষে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে দুই হাজার ৯১১ ডলার, আর ভারতের দুই হাজার ৮১২ ডলার।

প্রতিবেদনে আইএমএফ জানায়, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধীরগতির কারণে এ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই হার সামান্য কিছু বাড়লেও পরবর্তী বছর, ২০২৭ সালে আবার বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে যেতে পারে ভারত। আর এই বৃদ্ধি ২০৩১ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও ধারণা দিচ্ছে আইএমএফ।

এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মাথাপিছু জিডিপি বাড়ার পূর্বাভাস দেখে আত্মতুষ্টিতে ভোগার খুব বেশি সুযোগ নেই। কারণ এটা বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানে খুব একটা পরিবর্তন আনবে না।

মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকার পেছনে আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হারে স্থিতিশীলতাসহ কয়েকটি কারণে হতে পারে বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সাধারণত বছরে দুইবার আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রকাশিত হয়, যেখানে বিশ্ব অর্থনীতি বিশ্লেষণ করে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

গত ১৪ এপ্রিল আইএমএফ যে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ বছর যেখানে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে দুই হাজার ৯১১ ডলার, সেখানে ভারতের হতে পারে দুই হাজার ৮১২ ডলার।

এর আগে ২০২৫ সালের যে হিসাব রয়েছে সেখানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ভারতের জিডিপি ছিল তিন হাজার ৯১৬ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে বাংলাদেশের মাত্র ৪৫৮ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনেক বেশি পার্থক্য রয়েছে। কোনো এক বছরের মাথাপিছু জিডিপি দিয়ে কোনো একটি দেশের অর্থনীতিকে তুলনামূলক পার্থক্যের জায়গায় নেওয়ার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, যেহেতু আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হারকে জিডিপি দিয়ে ভাগ করা হয়, সে কারণে এই পার ক্যাপিটা জিডিপিতেও পরিবর্তন আসে। আইএমএফের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলেও সেটি আরও স্পষ্ট হয়।

অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, জিডিপিতে এগিয়ে থাকা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। বাংলাদেশের অর্থনীতি যে সংকটে আছে এখানে এটা আমাদের খুব বেশি স্বস্তির বার্তা দেবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

জনসংখ্যা কিংবা অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে পার্থক্য অনেক। তবু নানা কারণে মাথাপিছু জিডিপি প্রবৃদ্ধির দিক থেকে দুইটি দেশের গড় হিসাবের মধ্যে এক ধরনের তুলনা আসে এবং হ্রাস-বৃদ্ধির চিত্র দেখা যায় অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জিডিপি যেভাবে হিসাব করা হয়, সেটি একটি ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি। কেননা জিডিপি শুধু যেসব পণ্য ও সেবা বাজারে অর্থের বিনিময়ে কেনাবেচা করা যায়, সেগুলোকেই হিসাবের মধ্যে নেয়।

অন্যদিকে এই প্রবৃদ্ধির হিসাব অনুমাননির্ভরও হয়ে থাকে, যে কারণে আইএমএফ যে পূর্বাভাস দেওয়া হয় সেটি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তবে এর পেছনে আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার, মুদ্রাস্ফীতিসহ বেশ কিছু কারণকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, যেহেতু দেশীয় মুদ্রার বিনিময় হার দিয়ে জিডিপিকে ভাগ দেওয়া হয়, সেখানে যেই মুদ্রার বিনিময় হার ডিপ্রেশিয়েট (অবমূল্যায়ন) করেছে তারটা তো ডলারে কমে যায়। এটা একটি অন্যতম কারণ হতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বর্তমানে আইএমএফ যে পূর্বাভাস দিচ্ছে তার অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে নানা কারণে। তার মধ্যে অন্যতম একটি কারণ রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি। যে কারণে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের এক বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে যাওয়াও অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে এমনটি নয়।

অর্থনীতিবিদ ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, এর আগেও মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ ভারত থেকে এগিয়ে ছিল। তার মানে এই না যে আমাদের অর্থনীতি ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। কেননা বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো অনেক জটিল অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটা নিয়ে আত্মসন্তুষ্টিতে সময় কাটানোর কোনো সুযোগই নেই। কেননা আমাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী, বিনিয়োগেও আছে স্থবিরতা। সেই সঙ্গে এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, মূল্যস্ফীতির ধাক্কা লেগেছে ভালোমতোই।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, জিডিপির হিসাবের এই তথ্যগুলো নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা প্রশ্ন ছিল। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে মাথাপিছু জিডিপির হিসাব নিয়ে দুই দেশের কারোরই উৎসাহিত হওয়া কিংবা উপসংহারে আসার সুযোগ নেই।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রবাসীরা পাঠালেন ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা
চলতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম ১১ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১১৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।
প্রবাসীরা পাঠালেন ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা
গ্যাসকূপ খনন নিয়ে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’
চলতি অর্থবছরে ৩০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি কূপ খননের কাজ চলছে। স্থলভাগে (অনশোরে) মোট ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
গ্যাসকূপ খনন নিয়ে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’
দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। 
দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ
বিশ্ববাজারে কমলো সোনার দাম 
যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রভাবে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।
বিশ্ববাজারে কমলো সোনার দাম 
অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
২০২৬ সালে অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট ই হল ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল উডফোর্ড।
অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
আরও পড়ুন
ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন
ভারতীয় গরু নিয়ে বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের সংঘর্ষ, গুলিতে ইজারাদারের মৃত্যু
গাড়ির চাপায় তিন শিক্ষার্থী নিহত, চালক বললেন ‘বাবা সামলে নেবে’
দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি