আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে মুদ্রাস্ফীতি ও দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার থাকার আশঙ্কা বাড়ায় আবারও বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে সোনা ও রুপা। এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে সোনার দাম।
শুক্রবার (১৫ মে) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬১৯.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম মোট ১.৯ শতাংশ কমেছে। জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার ১.৩ শতাংশ কমে ৪,৬২৫.৭০ ডলারে নেমেছে।
চলতি সপ্তাহে ডলারের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য ডলার-মূল্যের সোনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এদিকে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এ সপ্তাহে ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
আজ দিনের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে বসবেন। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের সমাপ্তিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সফরে বাণিজ্য চুক্তি ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি শি জিনপিং সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু সঠিকভাবে সামাল দেয়া না হলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে’ যেতে পারে।
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস বৃহস্পতিবার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে এই মুহূর্তে সুদের হার নীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখছেন না তিনি।
এদিকে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য মহাপরিচালক জানিয়েছেন, দেশটি অগ্রিম অনুমোদন প্রকল্পের আওতায় স্বর্ণ আমদানি ১০০ কিলোগ্রামে সীমাবদ্ধ করবে। যদিও ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য কিছু ছাড় রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতার আবেদন সামান্য বেড়েছে, যা এখনো স্থিতিশীল শ্রমবাজারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়ছে।
এপ্রিল মাসে টানা তৃতীয় মাসের মতো যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও এর একটি অংশ মূল্যস্ফীতির কারণেও হয়েছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ১.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮২.০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ২,০৪৩.২৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.১ শতাংশ কমে ১,৪৩৫.৩৬ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতেও স্বর্ণবাজারে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
আরটিভি/ এসআর




