বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ , ০৯:১৫ পিএম


বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। মার্কিন ডলারের দরবৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা (ইয়েল্ড) বেড়ে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই ধাতুর দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। খবর রয়টার্স

শুক্রবার (১৫ মে) নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে স্পট মার্কেটে সোনার দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৭.৮০ ডলারে নেমে আসে।

গত ৫ মের পর এটিই সোনার সর্বনিম্ন দাম। শুধু চলতি সপ্তাহেই ধাতুটির দাম কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ। এদিকে, আগামী জুনে সরবরাহের চুক্তি হওয়া মার্কিন সোনার ফিউচার মূল্যও ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

পণ্যবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘মারেক্স’-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারে এই দর-পতনের পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, মার্কিন ডলার আজ বেশ শক্তিশালী অবস্থানে আছে। দ্বিতীয়ত, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বিশ্বজুড়ে বন্ডের মুনাফার হার বাড়ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বন্ডের মুনাফা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগ কমিয়ে দেন, যাকে অর্থনীতিতে ‘অপর্চুনিটি কস্ট’ বা বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ হারানোর ব্যয় বলা হয়।

অন্যদিকে, মার্কিন ডলার গত দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক লাভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ডলারের মান বাড়লে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলারের মূল্যে নির্ধারিত সোনা কেনা অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

এরই মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে তার ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে আসছে। অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধে বা বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে চীনের কাছ থেকে বড় কোনো আশানুরূপ সাড়া বা অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।

এডওয়ার্ড মেয়ার আরও বলেন, সংঘাত নিরসনে চীন কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখেনি। ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির পারদ আরও ওপরে তুলছে। আর এই পরিস্থিতি ধাতু বাজারের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়ে থাকে। আর সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনার আকর্ষণ কমে যায়।

শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (সিএমই) ‘ফেডওয়াচ টুল’ অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা প্রায় নাকচ করে দিয়েছেন। উল্টো সুদের হার আরও বৃদ্ধির পূর্বাভাস মিলছে।

সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও বড় পতন হয়েছে।

স্পট সিলভার বা রুপার দাম ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৬.২৬ ডলারে নেমে এসেছে। একপর্যায়ে রুপার দাম প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল, যা গত ৩ মার্চের পর ধাতুটির সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৬৭.৩৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪০৯.৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই তিনটি ধাতুই চলতি সপ্তাহে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।

আরও পড়ুন

এদিকে, শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission