কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সঙ্গে বিজিএমইএ’র সভা

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ০৩:১৩ পিএম


কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সঙ্গে বিজিএমইএ’র সভা
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সঙ্গে বিজিএমইএ’র সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার লাইসেন্স নবায়ন, এসএমই কারখানার বাস্তবতা এবং শিল্পবান্ধব সমাধান বিষয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) শ্রম ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফরহাদ সিদ্দিক এবং বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মো. মতিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সভায় নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিককে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ শুভেচ্ছা জানান এবং শিল্পখাতের উন্নয়ন ও শ্রমবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণে তার সফলতা কামনা করেন।

মতবিনিময়ে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, বিজিএমইএ সবসময় শ্রম আইন ও নিরাপত্তা নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। 

তিনি বলেন, আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল (আরএসসি), নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘নিরাপন’, ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান (এনএপি) এবং অন্যান্য কমপ্লায়েন্স কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বাস্তবসম্মত সমাধান প্রয়োজন।

ইনামুল হক খান বলেন, লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ হয়ে গেলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে কর্মসংস্থান হ্রাস এবং রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর আলোকে সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ থাকা তৈরি পোশাক কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। বিজিএমইএ এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান।

আরও পড়ুন

বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী বলেন, লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়ায় বাস্তবতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, ডাইফের তত্ত্বাবধানে এনএপি মনিটরিংয়ের আওতাভুক্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ কারখানার মধ্যে বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে আনুমানিক ৩০০টি চালু রয়েছে।

তিনি বলেন, শতভাগ সংশোধনমূলক কর্মপরিকল্পনা (সিএপি) বাস্তবায়নের শর্তে নবায়ন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে এসএমই কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সব কমপ্লায়েন্স পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, যেসব কারখানা গত বছর লাইসেন্স নবায়ন পেয়েছে এবং ইতোমধ্যে রিমেডিয়েশন ও কমপ্লায়েন্স উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে চলতি বছরে শর্তসাপেক্ষে নবায়নের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে এসএমই কারখানাগুলোকে ধাপে ধাপে কমপ্লায়েন্সভিত্তিক শিল্পাঞ্চলে স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সভায় বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ জানান, শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে কারখানা লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হলেও মাঠ পর্যায়ে এখনও এক বছরের নবায়ন কার্যকর রয়েছে।

এ বিষয়ে মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিক জানান, বিষয়টি নিয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ফি ও প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে পাঁচ বছরের নবায়ন কার্যকর করা হবে।

গত বছরে যেসব কারখানা নবায়ন পেয়েছে, তাদের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্প কারখানা সচল রাখতে ডাইফ সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও উল্লেখ করেন।

সভায় শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের আরও সমন্বিত ও নির্দেশনা মতো কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission