আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচাম) বাজেট-পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অ্যামচাম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট অব্যাহতি, শুল্ক ও কর কাঠামোর কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন, চট্টগ্রাম ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের জন্য ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর অব্যাহতির মতো উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের জন্য উৎসাহব্যাঞ্জক। তবে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আরো বিস্তৃত কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম. মাসরুর রিয়াজ।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের একটি বাস্তবসম্মত প্রচেষ্টা। তার মতে, বিনিয়োগ সহায়ক পদক্ষেপ, রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বাজেট ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, বাজেট বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে উচ্চাভিলাষী ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা, রাজস্ব আহরণের চ্যালেঞ্জ, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি এবং জ্বালানি খাতের দুর্বলতা অন্যতম। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর বাস্তবায়নকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দুর্বল বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য পূরণে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, অতিরিক্ত করের চাপ ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করা এবং প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অ্যামচামের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রযুক্তি উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আধুনিকায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক। তবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস এবং বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে অ্যামচামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
আরটিভি/ এসকেডি



