রিকন্ডিশন্ড ও হাইব্রিড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের আহ্বান বারভিডার

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ , ০৮:৫০ পিএম


রিকন্ডিশন্ড ও হাইব্রিড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের আহ্বান বারভিডার
ছবি: সংগ্রহীত

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রিকন্ডিশন্ড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির উপর কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।

শনিবার (২০ জুন) ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা সভাপতি আবদুল হক এসব দাবি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ১ থেকে ১ হাজার ৫০০ সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তন করে ১ থেকে ১ হাজার ২০০ সিসি এবং ১ হাজার ২০১ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে এসব গাড়ির আমদানির ওপর বিদ্যমান সামগ্রিক করভার প্রায় ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশে উন্নীত হবে।

তিনি আরও বলেন, এতে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। একটি রিকন্ডিশন্ড প্রিমিও গাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং একটি অ্যাক্সিও গাড়ির মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও প্রত্যাশিতভাবে বাড়বে না।

বারভিডা নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২ হাজার সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে এবং ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্ষেত্রে উভয় ক্ষেত্রেই ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রক শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক বলে মনে করে সংগঠনটি।

তারা রিকন্ডিশন্ড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রক শুল্ক সমন্বয়ের দাবি জানান। বারভিডার মতে, প্লাগ-ইন হাইব্রিডের তুলনায় হাইব্রিড গাড়ি দেশের বাস্তবতায় বেশি অর্থনৈতিক ও কার্যকর। হাইব্রিড গাড়িগুলো প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ ও ২০ শতাংশ ব্যাটারি-নির্ভর প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে জ্বালানি সাশ্রয় করে। ফলে প্লাগ-ইন হাইব্রিডের মতো শুল্ক সুবিধা হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও দেওয়া উচিত।

বারভিডা জানায়, প্রায় চার দশক ধরে সংগঠনটি বাংলাদেশে উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন রিকন্ডিশন্ড মোটরযান আমদানি ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে পরিবহন খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং উৎপাদক দেশগুলোতে গাড়ির মূল্য বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের পর দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে গাড়ি বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। একই সঙ্গে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানিকৃত গাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে মোটরযান বিক্রি ও আমদানি উভয়ই হ্রাস পেয়েছে।

বারভিডা সভাপতি আবদুল হক বলেন, মোটরযান খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এ খাতের বিক্রি কমে যাওয়া মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের প্রতিফলন। তাই ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট বাস্তবায়নের পাশাপাশি মোটরযান খাতের টেকসই বিকাশে সহায়ক নীতি গ্রহণ প্রয়োজন। 

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্টবৃন্দ, সাবেক সভাপতি ও সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission