প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব)-এর আয়োজনে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ জাতীয় বিতর্ক উৎসব ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) চট্টগ্রামে এ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ৭ নভেম্বর শুরু হওয়া দুই দিনের এই মেগা ইভেন্টটি যুক্তির ধার, মুক্তচিন্তার চর্চা এবং তরুণদের মেধা বিকাশে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে।
দুপুর ১টা থেকে শুরু হওয়া চূড়ান্ত পর্বে আন্তঃস্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিতার্কিকরা তর্কযুদ্ধের মঞ্চে নামেন। তরুণ বিতার্কিকদের তথ্যসমৃদ্ধ উপস্থাপনা, প্রাঞ্জল বক্তব্য ও যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণে দর্শকরা মুগ্ধ হন।
উৎসবের তিনটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় স্কুল বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ মহিলা সমিতি ডিবেটিং সোসাইটি এবং রানার্সআপ হয় আগ্রাবাদ বালিকা বিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি। ফাইনালের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হন আফরা আনান সারা (সরকার দলের মন্ত্রী) এবং টুর্নামেন্টের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক হন তানজিম রহমান।
কলেজ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি এবং রানার্সআপ হয় চট্টগ্রাম কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি। ফাইনালের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হন সানজিদা মারিয়াম অবন্তি (সরকার দলের সংসদ)। টুর্নামেন্টের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক হন সাবিহা তাবাসসুম (চট্টগ্রাম কলেজ) ও আতেফ শাহরিয়ার (চট্টগ্রাম বন্দর কলেজ)।
বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস ডিবেটিং ক্লাব এবং রানার্সআপ হয় জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন। ফাইনালের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হন সাদ আল আশরাফি (সরকার দলীয় সংসদ) এবং টুর্নামেন্টের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক হন মিরাজ বিশ্বাস।
পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ ও বিতর্কপ্রেমীরা। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর রহমান (সেক্রেটারি, আইইবি), মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব (প্রক্টর, ইউএসটিসি), প্রফেসর ড. নুরুল আবসার (ট্রেজারার, ইউএসটিসি) এবং ড. হেদায়েত উল্লাহ (অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও ডিন, ফেস্ট, ইউএসটিসি)।
পুসাব-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আল জাকারিয়া মাহফুজ, স্থায়ী সদস্য ফাহমিদুর রহমান অমি এবং চট্টগ্রাম জোনের উপদেষ্টা মাশরুর আনোয়ার।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আল জাকারিয়া মাহফুজ বলেন, জুলাই পুনর্জাগরণ শুধুই একটি বিতর্ক উৎসব নয়; এটি মুক্তবুদ্ধি, যুক্তি ও তারুণ্যের প্রতিচ্ছবি। আজকের বিতার্কিকরাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে।
তিনি সফলভাবে উৎসব আয়োজনে যুক্ত সব বিতার্কিক, বিচারক ও স্বেচ্ছাসেবীদের ধন্যবাদ জানান।
আয়োজকরা বলেন, ভবিষ্যতেও পুসাব তরুণ সমাজকে যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল চিন্তার চর্চায় অনুপ্রাণিত করতে এমন জ্ঞানভিত্তিক আয়োজন অব্যাহত রাখবে।




