ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ে বৃত্তি নিয়ে বড় সুখবর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
ফাইল ছবি

দেশের মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত ‘মেধা’ ও ‘সাধারণ’ বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধিসহ এর অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

জুনিয়র শিক্ষাবৃত্তি বাড়ানোর উদ্যোগের পর এবার এসএসসি, এইচএসসি এবং স্নাতক পর্যায়ের সব ধরনের বৃত্তির হার ২০ শতাংশ এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক ও এককালীন অর্থের পরিমাণ বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সমন্বিত প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) এসব তথ্য জানিয়েছেন মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক বি. এম. আব্দুল হান্নান।

প্রস্তাবনাটি কার্যকর হলে বর্তমানে বিদ্যমান ৪১ হাজার বৃত্তির সঙ্গে আরও নতুন করে যুক্ত হবে ৮ হাজার ১৯২ জন শিক্ষার্থী। প্রস্তাবিত সংখ্যা বাড়লে এই তিন স্তরের বৃত্তিযোগ্য শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা দাঁড়াবে মোট ৪৯ হাজার ১৫১ জনে।

মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক বি. এম. আব্দুল হান্নান বলেন, জুনিয়র শিক্ষাবৃত্তির হার ও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের বৃত্তি না বাড়ালে একটি অসামঞ্জস্য তৈরি হবে। এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমরা একটি বড় পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছি।

তিনি আরও বলেন, উচ্চতর শিক্ষাস্তর পর্যন্ত বৃত্তির সংখ্যা এবং অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই অর্থ বিভাগের অনুমোদন মিলবে এবং চলতি অর্থবছর থেকে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

মাউশির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নির্ধারিত হারে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। তবে গত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শিক্ষা উপকরণ সামগ্রীর দাম কয়েকগুণ বাড়লেও বৃত্তির অর্থের পরিমাণ বাড়েনি। বর্তমান বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিদ্যমান বৃত্তির অর্থ শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণে একেবারেই পর্যাপ্ত নয়। এই বাস্তবতায় দীর্ঘ ৯ বছর পর মেধাবীদের পড়ালেখায় উৎসাহিত করতে আর্থিক সুবিধা ও বৃত্তির সংখ্যা— উভয়ই বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবনায় মাউশি বলেছে, কেবল জুনিয়র শিক্ষাবৃত্তির সংখ্যা ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানো হলে তা উচ্চতর স্তরের (এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক) বৃত্তির হারের চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের সহকারী পরিচালক কামরুন নাহার জানান, প্রতিটি স্তরের শিক্ষায় সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এসএসসি ও এইচএসসি এবং স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতক (পাস)সহ সকল স্তরের রাজস্ব খাতভুক্ত বৃত্তির হার বাড়ানোর এই সমন্বিত প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু শিক্ষাবৃত্তির হার নয়, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক ও এককালীন অর্থের পরিমাণ বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাবনা দিয়েছি।

প্রস্তাবনাটির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম-সচিব সাইদুর রহমান বলেন, মাউশি থেকে জুনিয়র বৃত্তি ছাড়াও মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরের বৃত্তির হার, মাসিক ও এককালীন আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর সমন্বিত একটি প্রস্তাবনা আমাদের কাছে এসেছে। আমরা বর্তমানে প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করছি। এটি চূড়ান্ত করে অর্থ বরাদ্দের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এসএসসি পর্যায়ে বর্তমানে সারা দেশে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর ২৫ হাজার ৫০০ জন। প্রস্তাবিত খসড়ায় এই সংখ্যা ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৬০০ করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তির সংখ্যা ৩ হাজার ৬০০ এবং সাধারণ বৃত্তি ২৭ হাজার। আর এসএসসির ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক হার ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন অনুদান ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তির হার মাসিক ৩৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন অনুদান ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এই খাতে সরকারের দুই বছরে ব্যয় ২৫ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৬১ কোটি ৮৮ লাখ ৪০ হাজার টাকায় দাঁড়াবে।

আরও পড়ুন

নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এইচএসসি পর্যায়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজার ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৬০০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। আর এইচএসসির ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক হার ৮২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৬৫০ টাকা এবং এককালীন অনুদান ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৬০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।

বিপরীতে সাধারণ বৃত্তির মাসিক হার ৩৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা এবং এককালীন অনুদান ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এই খাতে ৫ বছরে সরকারের সম্ভাব্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪ কোটি ৮৫ লাখ ৭৫ হাজার টাক, এতে আগে বরাদ্দ ছিল ৩১ কোটি ২৯ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা।

মাউশি জানিয়েছে, এইচএসসি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা মেডিকেলে অধ্যয়নরত, তারা ৫ বছর বৃত্তির অর্থ প্রাপ্য হবেন। এক্ষেত্রে প্রাপ্যতা ৫ বছর ধরে এইচএসসির বৃত্তির হিসাব করা হয়েছে।

এছাড়া, স্নাতক সম্মানে বৃত্তির সংখ্যা ৪ হাজার ৬৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫৮০ এবং স্নাতক পাস কোর্সের জন্য ৩০৯ থেকে বাড়িয়ে ৩৭১ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রেও মাসিক ও এককালীন অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, স্নাতক স্তরের ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক হার ১ হাজার ১২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ২৫০ টাকা এবং এককালীন অনুদান ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৬০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তির মাসিক হার ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০ টাকা এবং এককালীন অনুদান ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এই খাতে এক বছরে সরকারের সম্ভাব্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। আগে বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

একইভাবে, স্নাতক (পাস) কোর্সের ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক হার ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং এককালীন অনুদান ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৬০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তির মাসিক হার ৩৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা এবং এককালীন অনুদান ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্নাতক (পাস) বৃত্তির বার্ষিক সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ টাকা, যা আগে ছিল ৩৩ লাখ ১৯ হাজার ২০০ টাকা।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পশু জবাই নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার আহ্বানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের অধিকার সবার রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের এক বক্তব্যে প্রশাসনের এ অবস্থান জানানো হয়। বক্তব্যে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর রাতে ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই বিষয়টির সমাধান করা হয়। পরদিন পারস্পরিক আলোচনা ও বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি আরও সন্তোষজনকভাবে সমাধান করা হয়। এদিকে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। প্রশাসনের বক্তব্যে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি বা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে সবাইকে এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান প্রক্টর। তবে তাঁর এ আহ্বানকে কেন্দ্র করে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে একটি উদ্‌যাপন যেন অন্য কোনো উদ্‌যাপনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ক্যাম্পাসে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আরটিভি/টিআর
পশু জবাই নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের
গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ, চলছে গরুভোজের প্রস্তুতি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে প্রথমে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে গরুভোজের কর্মসূচি দিলেও পরে তা এগিয়ে আগামীকাল করার ঘোষণা করেছেন তারা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।  বিক্ষোভকারীদের ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন রুখে দাও’, ‘তোমার আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ এবং ‘বিজেপির দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এদিকে, প্রশাসনের নির্দেশনার প্রতিবাদে প্রথমে শুক্রবার হলেও পরে একদিন এগিয়ে বৃহস্পতিবার গরুভোজ কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এ জন্য ইতিমধ্যে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনপ্রতি ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে রান্নার সময় মন্দিরের ইট ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।  তবে আয়োজকদের দাবি, ইটগুলো মন্দিরের বলে জানার পর তাঁরা সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ করেন এবং রান্নার স্থান পরিবর্তন করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।  বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। আরটিভি/এসআর    
গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ, চলছে গরুভোজের প্রস্তুতি
খুবিতে রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ বিজ্ঞান শিক্ষক
গবেষণা ক্ষেত্রে অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ পেলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত ৭টি ডিসিপ্লিনের ৭ জন শিক্ষক। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণাকর্মের মূল্যায়নের ভিত্তিতে জীব বিজ্ঞান স্কুলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলো।
খুবিতে রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ বিজ্ঞান শিক্ষক
চীন সফরে চবির ভিসি ও দুই প্রোভিসি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান ও দুই উপ-উপাচার্যসহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চীন সফরে গেছেন।
চীন সফরে চবির ভিসি ও দুই প্রোভিসি
খুবিতে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও এআইয়ের নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ফেলোশিপের সমাপনী
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের ১৫ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও সংবাদকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ছয় মাসের ফেলোশিপ সম্পন্ন হয়েছে।  দৃক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট জার্নালিজম অ্যান্ড এথিক্যাল এআই ইন নিউজরুম ফেলোশিপ-২০২৬’-এর সমাপনী ও প্রকল্প প্রদর্শনী বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, পদ্মার এপারে বিশাল জনবসতি থাকলেও এ অঞ্চল বরাবরই অবহেলিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে এবং মিঠাপানির প্রবাহও কমে গেছে। খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান উপাচার্য। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে সাংবাদিকতা শেখার সুযোগ তৈরি করায় দৃক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনুর রশীদ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং পেশা। এ পেশার মাধ্যমে মানুষের জীবনের নানা গল্প উঠে আসে। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে সাংবাদিকতা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই এআইয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেশাগত নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। দৃকের প্রতিষ্ঠাতা, আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আজকের খুলনা আগের তুলনায় ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। ফেলোরা সাংবাদিকতার প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে মানুষের গল্প তুলে ধরেছেন। তাঁদের কাজে মানুষের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা একটি ভিন্ন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। সেই বাংলাদেশ গড়তে সৎ ও সাহসী সাংবাদিক প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের মনের বিকল্প হতে পারে না এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের প্রধান মো. মাজিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসেন। ফেলোদের পক্ষে বক্তব্য দেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নওরিন হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক সারা মনামী হোসেন। অনুষ্ঠানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের পক্ষ থেকে দৃকের প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলমকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলা চত্বরে পরিবেশ ও জলবায়ু সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ফেলো এবং দৃক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
খুবিতে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও এআইয়ের নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ফেলোশিপের সমাপনী
আরও পড়ুন
এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন পলিসি
বিশেষ বৃত্তির অবশিষ্ট টাকা আবারও পাচ্ছেন জবির শিক্ষার্থীরা
সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবারকে ‘বড় সুখবর’ দিলো সরকার
এসএসসি পাসে ২ জেলায় চাকরি দেবে ওয়ালটন