ভিসা নিয়ে বাংলাদেশের জন্য অস্ট্রেলিয়ার বড় দুঃসংবাদ 

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:০১ পিএম


ভিসা নিয়ে বাংলাদেশের জন্য অস্ট্রেলিয়ার বড় দুঃসংবাদ 
ফাইল ছবি

ভিসা আবেদনে ‘স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত সমস্যার’ কারণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশকে ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকির ক্যাটাগরিতে’ অন্তর্ভুক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। বাকি দেশগুলো হলো ভারত, নেপাল ও ভুটান। এখন থেকে এ চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করবে অস্ট্রেলিয়া।

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিউজ.কম.এইউ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এই চার দেশের। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন দপ্তরের সাবেক উপসচিব ড. আবুল রিজভি জানান, ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ কায়দায় চারটি দেশকেই এভিডেন্স লেভেল টু থেকে এভিডেন্স লেভেল থ্রি-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।

এর আগে, অস্ট্রেলিয়ার হোম অ্যাফেয়ার্স বিভাগের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত ৮ জানুয়ারি দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের এভিডেন্স লেভেল পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন করে সামনে আসা স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী প্রকৃত শিক্ষার্থীদের সুযোগ অব্যাহত থাকবে।’

আরও পড়ুন

মুখপাত্র আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ান সরকার চায়, সব শিক্ষার্থী যেন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে একটি ইতিবাচক শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা পান এবং উচ্চমানের শিক্ষা লাভ করেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও স্টুডেন্ট ভিসা প্রোগ্রামে সঠিক কাঠামো থাকা জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন যে তারা সর্বোত্তম শিক্ষায় বিনিয়োগ করছেন।’

এভিডেন্স লেভেল ট্রি রেটিংয়ের অর্থ হলো—ভিসা আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সক্ষমতা ও শিক্ষাগত ইতিহাস সংক্রান্ত বিশদ নথিপত্র উপস্থাপন করতে হবে।

ড. রিজভি বলেন, ‘মূলত এভিডেন্স লেভেল যত বেশি হয়, তত বেশি নথিপত্রের প্রয়োজন হয়। কাগজপত্র যাচাইয়ে আরও বেশি ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ থাকে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে ট্রান্সক্রিপ্ট যাচাই করা হতে পারে, এমনকি ব্যাংকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হতে পারে।’

সাধারণত প্রতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে আগের বছরের তথ্যের ভিত্তিতে এসব রেটিং সংশোধন করা হয়। তবে এবার বছরের শুরুতেই এমন সিদ্ধান্তের কারণ কী হতে পারে, সে বিষয়ে ড. রিজভির ব্যাখ্যা, ‘এর পেছনে গত ডিসেম্বরের শুরুতে ভারতে বড় ধরনের ভুয়া ডিগ্রি জালিয়াতি উদ্ঘাটনের ঘটনা ভূমিকা রাখতে পারে। দেশটিতে সে সময় ১ লাখের বেশি সন্দেহজনক সনদ জব্দ করে কর্তৃপক্ষ।’

১৯৯১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত অভিবাসন দপ্তরে কর্মরত থাকা ড. রিজভি বলেন, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগবে।

তবে, অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০২৬ সালের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্লটে কোনো পরিবর্তন আনেনি। গত অক্টোবরে তারা জানায়, এ বছর ২ লাখ ৯৫ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সুযোগ পাবে। এই সংখ্যা ২০২৫ সালের তুলনায় ২৫ হাজার বেশি।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission