দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় ১৬১টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ রক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।
রোববার (১২ জুলাই) অধিদপ্তরের ভোকেশনাল-১ শাখার এক আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশে টানা বৃষ্টি এবং উজানে ভারতের ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, সিলেট বিভাগ, ময়মনসিংহ, রংপুর এবং ফেনী ও নোয়াখালীর নদ-নদীতে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলসমূহ প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
এই আকস্মিক দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ৪টি জরুরি নির্দেশনা অবিলম্বে প্রতিপালন করতে সকল প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বন্যার পানি প্রবেশ করার আশঙ্কায় ল্যাবরেটরির মূল্যবান বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, লাইব্রেরির বই, ছাত্র-ছাত্রীদের আসবাবপত্র এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দ্রুততার সাথে ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করতে হবে।
দুর্যোগ সময়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জরুরি প্রয়োজন বা চিকিৎসাজনিত কারণ ব্যতীত অন্য কোনো প্রকার ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া যাবে না। সার্বিক সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হবে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে স্থানীয়ভাবে একটি 'জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলা সেল' গঠন করে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়কে অবহিত করতে হবে।
নির্দেশনায় আরো বলা হয়, স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যা উপদ্রুত এলাকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে সাময়িকভাবে স্থানীয় জনগণের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।
আরটিভি/টিআর




