ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় ১৬১টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ রক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।

রোববার (১২ জুলাই) অধিদপ্তরের ভোকেশনাল-১ শাখার এক আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশে টানা বৃষ্টি এবং উজানে ভারতের ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, সিলেট বিভাগ, ময়মনসিংহ, রংপুর এবং ফেনী ও নোয়াখালীর নদ-নদীতে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলসমূহ প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এই আকস্মিক দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ৪টি জরুরি নির্দেশনা অবিলম্বে প্রতিপালন করতে সকল প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বন্যার পানি প্রবেশ করার আশঙ্কায় ল্যাবরেটরির মূল্যবান বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, লাইব্রেরির বই, ছাত্র-ছাত্রীদের আসবাবপত্র এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দ্রুততার সাথে ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করতে হবে।

দুর্যোগ সময়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জরুরি প্রয়োজন বা চিকিৎসাজনিত কারণ ব্যতীত অন্য কোনো প্রকার ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া যাবে না। সার্বিক সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হবে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে স্থানীয়ভাবে একটি 'জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলা সেল' গঠন করে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়কে অবহিত করতে হবে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যা উপদ্রুত এলাকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে সাময়িকভাবে স্থানীয় জনগণের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের ফেসবুকে যে বার্তা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের ফেসবুকে যে বার্তা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
ইবিতে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ক্লিন ক্যাম্পাস’ বাস্তবায়নে আলোচনা সভা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং ক্লিন ক্যাম্পাস কর্মসূচি-২০২৬’ বাস্তবায়ন বিষয়ে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভাটি আয়োজন করা হয়। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের নেতৃত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান।  এ সময় সাংবাদিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় ক্যাম্পাসে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ, মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করা, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও আবর্জনা অপসারণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।  এ ছাড়া পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগে সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ‘ক্লিন ক্যাম্পাস কর্মসূচি-২০২৬’-এর মাধ্যমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করবে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী বলেন, আমরা নিজেরা সচেতন হই। এখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীলরা আছেন, যেহেতু বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্ব নিয়েছি, যে-কোনো বিপর্যয় এক সঙ্গে মোকাবিলা করবো। প্রশাসন সহযোগিতা করতে পারে, বাকিটা নিজেদের ওপর নির্ভর করে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, অনেকেই বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন। তা আমরা পালন করার চেষ্টা করবো। প্রতিটি সংগঠন যেন ভালো কাজের প্রতিযোগিতায় নামুক আমরা সেটাই দেখতে চাই। সকল রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো নিজেদের মতো করে প্রতিযোগিতায় নামলে যে-কোনো বিপর্যয় সামাল দেওয়া যায়। শুধু নির্দিষ্ট কোনো দপ্তরে গিয়ে বা ব্যানার ধরে সচেতন করলে হবে না। নিজ থেকে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সংগঠনগুলো যদি নির্দিষ্ট জায়গা ভাগ করে নিয়ে পরিচ্ছন্ন রাখে তাহলে ক্যাম্পাস পরিবর্তন হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি সংগঠনকে ১৫টি করে ঝুড়ি দিয়ে দেব। তাদের মতো করে গোছাবে। আরটিভি/এসএস
ইবিতে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ক্লিন ক্যাম্পাস’ বাস্তবায়নে আলোচনা সভা
ইবিতে দিনব্যাপী কৃষিভিত্তিক ‘ফিউচার হারভেস্ট সামিট’ সেমিনার
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কৃষি গবেষণা, উদ্ভাবন ও টেকসই কৃষিতে শিক্ষার্থীদের সংযোগ স্থাপনে ‘ফিউচার হারভেস্ট সামিট–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ‘ইবি আইএএস বাংলাদেশ’ ও ‘ক্বামারুন এগ্রো ফার্ম’–এর যৌথ উদ্যোগে সামিটটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ইয়ুথ পার্লামেন্টের সার্ক অঞ্চলের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার হাসান মাহমুদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ড. মো. সামিউল ইসলাম, কাজী কনসালট্যান্টসের অধ্যাপক এস. এম. আরিফুজ্জামান এবং চিত্ত মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জুয়েল রানা।  ‘গবেষণা ও উদ্ভাবনের সংযোগে টেকসই কৃষির ভবিষ্যৎ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত সামিটে অতিথিরা ইনোভেশন, সাস্টেনিবিলিটি ও নেটওয়ার্কিং–কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য দেন। সামিটে গ্লোবাল ইয়ুথ পার্লামেন্টের সার্ক অঞ্চলের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার হাসান মাহমুদ বলেন, তরুণদের শুধু সনাতন কৃষিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বিশ্বমানের জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই কৃষিতে নেতৃত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়পর্যায়ের গবেষণাগারের উদ্ভাবনগুলোকে কেবল কাগজের গবেষণায় সীমাবদ্ধ না রেখে সরাসরি প্রান্তিক কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অণুজীববিজ্ঞানের ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ড. মো. সামিউল ইসলাম বলেন, কৃষি খাতকে সচল ও লাভজনক রাখতে হলে অ্যাগ্রো-ইকোনমি ও এগ্রো-বিজনেসকে প্রাধান্য দিতে হবে। নতুন উদ্যোগ ও স্টার্টআপগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। কাজী কনসালট্যান্টসের অধ্যাপক এস. এম. আরিফুজ্জামান বলেন, দক্ষ তরুণ সমাজই পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে কৃষিখাতের উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক গাইডলাইন ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া মেলবন্ধন। চিত্ত মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জুয়েল রানা বলেন, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ ও সফল গল্পগুলো মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে হবে। প্রচার ও সঠিক বিপণন ব্যবস্থা নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবে। আয়োজকরা বলেন, এই উদ্যেগে শিক্ষার্থীদের থেকে ভালো রেসপন্স পাচ্ছি অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করেছে এবং অংশগ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে এধরনের সামিট আরো আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে। টেকসই কৃষির ভবিষ্যৎ নির্মাণ, গবেষণাকে মাঠপর্যায়ের উদ্ভাবনে রূপান্তর করে কৃষিভিত্তিক নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এ সামিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা রাখছি। আরটিভি/এসএস
ইবিতে দিনব্যাপী কৃষিভিত্তিক ‘ফিউচার হারভেস্ট সামিট’ সেমিনার
ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে বাকৃবিতে ‘মিট দ্য গভর্নর’ 
ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণ ও ‘বাংলা কিউআর’ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রথমবারের মতো ‘মিট দ্য গভর্নর’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যেও প্রথমবারের মতো বাকৃবিতে এ আয়োজন করা হয়। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ‘এক দেশ এক কিউআর, লেনদেন বাংলা কিউআর’ স্লোগানে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসির সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল লেনদেন ও ‘বাংলা কিউআর’ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। গভর্নর এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন। অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশও দ্রুত ক্যাশলেস ও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন ব্যাপকভাবে চালু হয়েছে। বাংলাদেশও গভর্নরের রূপরেখা অনুযায়ী দ্রুত ক্যাশলেস সমাজের দিকে এগিয়ে যাবে। বাকৃবি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে গবেষণায় অনেক দূর এগিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার গতি বজায় রাখতে এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ ব্যাংকিং খাতকে সিএসআর ফান্ডের মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে দেশে ক্যাশলেস লেনদেন আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে রিকশা ও ছোট দোকানেও যেন সহজে ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে লেনদেন করা যায়, সে সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের পাশাপাশি, বাকৃবির শিক্ষক ও গবেষকদের গবেষণা এবং সিএসআর ফান্ডের আওতায় বিভিন্ন টেকসই উদ্যোগে ডাচ-বাংলা ব্যাংক সহযোগিতা করবে। অনুষ্ঠানে ‘বাংলা কিউআর’-এর বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের লেনদেন করা সম্ভব হওয়ায় খুচরা টাকার সমস্যাও থাকবে না। একই সঙ্গে লেনদেনের খরচ কমবে। বর্তমানে দেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের কম, যা একসময় ১০ শতাংশ ছিল।  তিনি বলেন, কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়লে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব হতে পারে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিউআর লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) শূন্য করা হবে। ফলে কোনো গ্রাহক ১০০ টাকা দিলে মার্চেন্টও ১০০ টাকা পাবেন। এ ছাড়া বর্তমানে নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিউআর কোড সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ ব্যয় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে। আরটিভি/এসএস
ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে বাকৃবিতে ‘মিট দ্য গভর্নর’ 
দুইবার ব্যর্থ হয়ে তৃতীয়বারের চেষ্টায় জজ হলেন শরিফুল
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সিভিল জজ/জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ ফলাফল প্রকাশিত হয়। তিনি ১৬তম ও ১৭তম বিজেএসে ভাইভা দিয়েছিলেন, তবে সফল হননি। ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় তিনি সফল হয়েছেন। আরটিভির সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি জানান, ‘দুইবার ভাইভা দিয়েছি— দুইবারই স্বপ্নটা পূরণ হয়নি। তৃতীয়বারও যখন ভাইভা বোর্ডের সামনে দাঁড়ালাম, মনে শুধু একটাই কথা ছিল— চেষ্টা আমার, ফলাফল আল্লাহর হাতে। আজ সেই তৃতীয় চেষ্টায়— আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ আমাকে সফল করেছেন।’ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি জানান, ‘অনুভূতিটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অপেক্ষা, ব্যর্থতা ও নতুন করে শুরু করার পর যখন ১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবর পেলাম, তখন প্রথমে নিজের কাছে বিশ্বাসই হচ্ছিল না। সবচেয়ে বেশি যে অনুভূতিটা হয়েছে, সেটা হলো— আলহামদুলিল্লাহ, এতদিনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। তবে এটাকে শুধু নিজের অর্জন হিসেবে দেখি না। আমার পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু এবং যারা বিভিন্ন সময়ে আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন— এই সাফল্যের পেছনে তাদের প্রত্যেকের অবদান আছে।’ সফলতার গল্প জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার কাছে এই সাফল্যের গল্পটা মূলত ধৈর্য ও লেগে থাকার গল্প। বিজেএস এমন একটি পরীক্ষা, যেখানে শুধু মেধা থাকলেই হয় না, দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া এবং নিজের ভুলগুলো সংশোধন করার মানসিকতাও প্রয়োজন। আমার জীবনে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার পরিবারের সহযোগিতা। তারা আমাকে সবসময় মানসিকভাবে শক্তি দিয়েছে।  পাশাপাশি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে দিকনির্দেশনা পেয়েছি। আরেকটি বিষয় আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল— ব্যর্থতাকে শেষ হিসেবে না দেখে সেটাকে শেখার সুযোগ হিসেবে নেওয়া। আগের প্রচেষ্টাগুলোতে যে-সব জায়গায় ঘাটতি ছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী প্রস্তুতিতে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয়, এই ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত কাজে দিয়েছে। যারা এখন জজ হওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য পরামর্শ হিসেবে তিনি বলেন, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন, ধারাবাহিক থাকুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। Bare Act-কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার ingredients, exception এবং application বোঝার চেষ্টা করুন। বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন বিশ্লেষণ করুন। নিয়মিত লিখিত উত্তর লেখার অনুশীলন করুন। শুধু পড়বেন না। নিজেকে প্রশ্ন করুন- এই বিধানটি আদালতে কীভাবে প্রয়োগ হবে?  সাম্প্রতিক আইন, গুরুত্বপূর্ণ রায় ও সাংবিধানিক বিষয়গুলো সম্পর্কে আপডেট থাকুন। বিজেএস একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা। একবার বা দুবার ব্যর্থ হলেই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নিজের ভুলগুলো খুঁজে বের করে আবার শুরু করতে হবে। কতবার চেষ্টা করেছেন, সেটা বড় কথা নয়, প্রতিবার চেষ্টা করার পর আপনি কতটা উন্নতি করেছেন— সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা দেশের বিচার বিভাগে সহকারী জজ পদে নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। আরটিভি/এসএস
দুইবার ব্যর্থ হয়ে তৃতীয়বারের চেষ্টায় জজ হলেন শরিফুল
আরও পড়ুন
মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের জন্য পুলিশের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি
‘নতুন ক্লিনিক’ তৈরি নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা
টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের জন্য প্রশাসনের জরুরি নির্দেশনা