গবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

গবি প্রতিনিধি

সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৬:৪০ পিএম


গবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ
অভিযুক্ত গবি শিক্ষক।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) আইন বিভাগের প্রভাষক মো. লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নানাবিধ অনৈতিক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন বিভাগটির বেশ কয়েকজন ছাত্রী।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন তারা।

উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ বরাতে জানা যায়, ক্লাসে ও ব্যক্তিগত কেবিনে অশালীন মন্তব্য করতেন শিক্ষক লিমন হোসেন। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বার্তা পাঠানোসহ নারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনে জোরপূর্বক হস্তক্ষেপের পাশাপাশি ক্লাসে সবার সামনে আলোচনা করে তাদের হেয় করতেন শিক্ষক লিমন। সেসব বার্তায় নিজের (লিমন) দাম্পত্য সমস্যা ও যৌন জীবনের প্রসঙ্গ তুলেও শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিতে ফেলতেন এই প্রভাষক। যেমন, তার (শিক্ষক লিমনের) স্ত্রী তাকে সুখী করতে পারে না, সে (লিমন) যৌনতার ক্ষেত্রে অনেক একাকীত্বতায় ভোগেন; এ ছাড়াও অনেক আপত্তিকর বিষয়েও লিখিত অভিযোগে আলোকপাত করেছেন বিভাগটির ছাত্রীরা।

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

এদিকে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও আরেকটি লিখিত অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে দেওয়া হয়েছে। ওই অভিযোগপত্রে পাঁচটি দফার বিষয়েও উপাচার্যকে জানান শিক্ষার্থীরা।

পাঁচ দফার মধ্যে রয়েছে- শিক্ষক লিমন হোসেন ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সশরীরে থানায় গিয়ে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছেন, অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টাও অপরাধের শামিল; ক্লাসে পড়ানোর ছলে শিক্ষার্থীদের ব্যাক্তিগত জীবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করে শিক্ষার্থীর ব্যাক্তিগত বিষয় সকলের সামনে উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের হেয় করেন তিনি; একজন শিক্ষক হিসেবে তার পড়ানোর পদ্ধতি কোনভাবেই গবেষণাকেন্দ্রিক নয়, উল্টো গলাদ্ধকরণ পদ্ধতিতে বিশ্বাস করেন তিনি, যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধাকে বিনষ্ট করেন; স্বজনপ্রীতি নীতি ব্যবহার করে ব্রিটিশ পদ্ধতি Divide and Rule policy প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করেন তিনি, যা পরবর্তীতে বড় অপরাধের জন্ম দেয় এবং ক্যাম্পাসে বিগত দিনে ঘটে যাওয়া প্রায় সব অপরাধের সঙ্গে জড়িত চক্রের সঙ্গে, এমনকি সম্প্রতি বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও প্রভাষক লিমন হোসেনের একান্ত সম্পর্কে বিদ্যমান এবং তাদের প্রকাশ্য মদদদাতা তিনিই, যা শিক্ষার্থী মনে ক্রমশ ভীতি সঞ্চারণ করে যাচ্ছে। 

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য দেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তারা।

অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অভিযোগ, মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহী তিনি, যা আমাদের বিব্রত করছে। এমনকি তার নিজের ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম-বিচ্ছেদের গল্পও একাধিকার বলে বিব্রত করছেন। শিক্ষার্থীরা কে কার সঙ্গে মিশবে-মিশবে না, সে ব্যাপারেও বারবার হস্তক্ষেপ করেন তিনি (শিক্ষক লিমন)। 

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে লিমন হোসেন বলেন, এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই। আমি এ ধরনের কোনো কথা বলি নাই। এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। 

তিনি এও বলেন, আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এ নিয়ে যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের প্রধান ড. ওয়াহিদা জামান লস্কর বলেন, আজই আমাকে যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের সভাপতির দায়িত্বের বিষয়ে প্রশাসন থেকে চিঠি প্রদান করা হয়েছে। তবে উপাচার্যের কাছে প্রদানকৃত অভিযোগপত্রের বিষয়ে এখনো অবগত নন তিনি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ৭ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তদন্ত চলাকালীন আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রফিকুল আলম ও প্রভাষক লিমন হোসেনকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এই সময়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে তাদের।

তদন্ত কমিটিতে ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জহিরুল ইসলাম খানকে সভাপতি ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবু রায়হানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

আরটিভি/এস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission