জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে।
এ নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)সহ বিভিন্ন পদে চারটি ছাত্র সংগঠনের প্যানেল শিবির সমর্থিত 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য ' ছাত্রদল সমর্থিত 'ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান ' ছাত্রশক্তি সমর্থিত 'ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান ' ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্ট সমর্থিত ' মাওলানা ভাসানী ব্রিগেড ' এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থী সংখ্যা ১৮৭ জন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। তাদের আশা, শিক্ষার্থী সংসদ শুধুমাত্র একটি প্লাটফর্ম নয়, হয়ে উঠুক শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের কণ্ঠস্ব। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্বাচিত হবেন সৎ, যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব যারা একই সাথে ভূমিকা রাখবে জাতীয় রাজনীতিতেও।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, যারাই শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট পাবেন, তারা যেন আমাদের হয়ে কাজ করে। তাদের কাছ থেকে সম্পূরক বৃত্তি কার্যকর করা, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার প্রত্যাশা।
আধুনিক ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউটের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজানা সুলতানা বলেন, জকসু নির্বাচনে সব প্যানেল থেকেই প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো একক প্যানেলের একচ্ছত্র বিজয় হবে না। তবে যারাই বিজয়ী হোন, তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন,নির্বাচনে সব প্রার্থীরই ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন। যারাই নির্বাচিত হোন, তাদের আবাসন সংকট নিরসন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আল মারুফ বলেন, জকসু নির্বাচনে সব প্যানেলের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে শিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের অধিকাংশ প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একই সঙ্গে ছাত্রদলের প্যানেলেও বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় ও শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন, যাদের জয়ের ভালো সম্ভাবনা আছে।
এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও বিজয়ী হয়ে আসবে।
এর আগে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে জরিপ প্রকাশ করেছে বুদ্ধিভিত্তিক সংগঠন ‘ন্যারেটিভ’ ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘সোচ্চার–টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’।
‘ন্যারেটিভ’ কর্তৃক ৫৯৩ জন শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, জকসু নির্বাচনের ভিপি, জিএস ও এজিএস—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
জরিপে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সুস্থ ও গঠনমূলক ছাত্ররাজনীতির পক্ষে মত দিয়েছেন। ভোটের হিসাবে ভিপি, জিএস ও এজিএস—এই তিনটি পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
অন্যদিকে, ‘সোচ্চার–টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’ পরিচালিত জরিপেও একই চিত্র উঠে এসেছে। যেখানে দেখা যায়, ভিপি পদে কাছাকাছি প্রতিদ্বন্দী হলেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের মো. রিয়াজুল ইসলাম ও ছাত্রদল সমর্থিত এ কে এম রাকিব। তবে ৩ শতাংশ ভোট বেশী পেয়ে জিততে পারেন ছাত্রশীবিরের রিয়াজুল। অন্য দুই পদেও বেশ ব্যাবধানে এগিয়ে আছেন ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা। তবে জরিপেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী এখনো সিদ্ধান্তহীন বলে জানিয়েছে সংস্থাগুলো।
আরটিভি/এমএ




