বৈষম্য নিরসন ও দীর্ঘদিনের ক্লাসরুম সংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একাধিকবার আলোচনা ও আশ্বাসের পরও সংকট নিরসন না হওয়ায় তারা এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে নতুন কলাভবন থেকে একটি মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা ‘ইংরেজি বিভাগের রুম কোথায়-প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমাদের প্রতি বৈষম্য কেন-প্রশাসন জবাব চাই’, ‘পড়ালেখার সুযোগ চাই-দিতে হবে দিতে হবে’, ‘ক্লাস করার রুম চাই-দিতে হবে দিতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কর্মসূচিতে বিভাগের ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেনের সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখেন।
৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তাহমিনা বিনতে তৃষা বলেন, ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্স পর্যায়ে প্রতি ব্যাচে প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ পুরো বিভাগের জন্য ক্লাসরুম রয়েছে মাত্র আড়াইটি। এই অপ্রতুল রুমে কোনোভাবেই নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা সম্ভব নয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্য বিভাগে ক্লাস নিতে গেলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন ও অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে।
“একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহাবস্থানের পরিবেশে এমন ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক,” বলেন তিনি।
শীতকালীন ছুটির পর ক্লাসরুম সংকট সমাধান না হলে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে তালা দেওয়ার কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
একই আবর্তনের আরেক শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, বিভাগের সভাপতি, অনুষদের ডিন, উপাচার্যসহ প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি। আমাদের আশ্বস্ত করা হলেও বাস্তবে কোনো সমাধান হয়নি। ক্লাসরুম সংকট নিরসন না হলে আমরা রেজিস্ট্রার ভবনেই ক্লাস করবো এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, আমাদের আন্দোলনের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। আমরা আমাদের ন্যায্য শিক্ষার অধিকার চাই। জাবির অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হওয়া সত্ত্বেও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা আজ ন্যূনতম ক্লাসরুম সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
তিনি বলেন, একটি ব্যাচের ক্লাস চলাকালে অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান চরম অনিয়মের উদাহরণ।
“বছরের পর বছর ধরে প্রতিশ্রুতি পেলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি; বরং আশপাশের বিভাগ আমাদের ক্লাসরুম দখল করে নিয়েছে,” অভিযোগ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীরা জানান, এর আগেও একাধিকবার আলোচনা, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করা হলেও ক্লাসরুম সংকটের কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
আরটিভি/কেআই




