সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সমাজকল্যাণ ও ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী মিলে ডেকে নিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৪ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর অন্তরকে চিকিৎসার জন্য ধামরাই উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সাভারস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
ভুক্তভোগী মনোয়ার হোসেন অন্তর বলেন, গত বৃহস্পতিবার আমার জরিমানা বিষয়ক চিঠি আসে। আজ (সোমবার) সকাল ১০টায় বন্ধুসহ কয়েকজন প্রশাসনিক ভবনে যাওয়ার সময় সিএসই বিভাগের মেহেদী (৩য় বর্ষ) এবং ফার্মেসীর শিহাব (৪র্থ বর্ষ) আমাকে ডাক দেয় এবং উগ্রভাবে কথা বলে। আমি পাত্তা না দিয়ে এগিয়ে যাই। তবে ক্যান্টিন বিষয়ক কথা বলবে বলে ডেকে নিয়ে পরবর্তীতে অশ্লীল এবং উগ্রভাবে কথা বলতে শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, তারা আমাকে ক্যান্টিন সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য বারবার বলতে থাকে। পরবর্তীতে প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ফেরার সময় তারা দুজন আমাকে টেনে-হিচড়ে মাঠে নিয়ে যায় এবং আমার ওপর হামলে পড়ে। এ সময় তারা ‘আমাদের নিয়ে ভিডিও বানানোর শাস্তি কি হতে পারে দেখ’ বলতে থাকে।
ঘটনার সময় নিকটস্থ এলাকায় উপস্থিত ছিলেন প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য সুজন মাহমুদ।
তিনি বলেন, আমিসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলা শেষ করে নিচে আসছিলাম। তখন অন্তর আমার কাছে আসে এবং রিসার্চ নিয়ে কিভাবে কাজ করা যায়, সে নিয়ে কথা হচ্ছিল। কথা চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত মেহেদী তাকে কথা বলার জন্য ডেকে নিয়ে যায়। আমিও চলে আসতে থাকি৷ কিছুক্ষণ পরে হামলার কথা শুনে দ্রুত সেখানে গিয়ে অন্তরের মাথায় পানি ঢেলে দ্রুত চিকিৎসার জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান করি, যেন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, তারা সবাই আমার শিক্ষার্থী। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মেহেদী কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে আরেক অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শিহাব বলেন, কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আন্দোলনে অন্তর কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়াই আমার ওপর ক্যান্টিনের বিষয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ দেয়। আজ (সোমবার) উপাচার্যের কক্ষে নতুন করে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হলে তাকে নিচে ডেকে চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে প্রমাণ আছে কি না, জানতে চাই।
‘তবে সে তখন সুন্দর ভাষায় কথা না বলে তুই-তুকারি করে এবং নাম ধরে কথা বলে। যেহেতু আমি তার সিনিয়র, তার ব্যবহার আমার ভালো না লাগায় তাকে দুইটা থাপ্পড় দিই।’ বলেন শিহাব।
এ বিষয়ে গকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কাম্য নয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কনক চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির বিষয়টি আমরা অবগত। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বা তার পক্ষের কেউ এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি গবিসাস কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মেহেদীসহ কয়েকজন একটি জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেছিলেন।
আরটিভি/আইএম



