ঢাবিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় পদ হারালেন ছাত্রদলের ৩ নেতা

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ , ০৬:২৭ পিএম


ঢাবিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় পদ হারালেন ছাত্রদলের ৩ নেতা
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের একটি দোকানে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে তিনজনই ছাত্রদলের পদধারী নেতা। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর অভিযুক্ত ওই তিন নেতাকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

সোমবার (২৫ মে) ঢাবি ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দম্পর সম্পাদক (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদ মর্যাদা) মল্লিক ওয়াসী উদ্দিন তামী সাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের অব্যহতির বিষয়টি জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখার যুগ্ম-আহবায়ক চন্দন দাস, যুগ্ম-আহ্বায়ক ঝলক দাস এবং যুগ্ম-আহবায়ক রিপন চন্দ্র সরকারকে তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।

এর আগে রোববার (২৪ মে) জগন্নাথ হলের দোকানে বসা নিয়ে প্রতিবন্ধী এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান ছাত্রদল নেতারা। পরে সেখান থেকে রুমে ফিরলে সেই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী জানান, এ দিন সন্ধ্যার সময় রবীন্দ্র ভবনের নিচে মনশ্রী হালদার চায়ের দোকানে পা তুলে বসে থাকার মতো একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝলক দাস (২০২১-২২ জাপানিজ স্টাডিস), চন্দন দাস (২০২০-২১ ফ্রেঞ্চ ল্যাংগুয়েজ), রিপন (২০২১-২২ মার্কেটিং বিভাগ ) ও সাগর (২০২১-২২ ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ) আমার রুমে এসে আমাকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করেছে।

তিনি আরও বলেন, শুরুতে আমি যখন চায়ের দোকানে বসে ছিলাম, তখন কেউ না থাকায় আমি পা তুলে বসে ছিলাম হাঁটুতে সমস্যা থাকার কারণে। তখন চন্দন নামের এক ছেলে আর ঝলক দোকানে ঢুকে বসে। আমি পা তুলে দেওয়ার পরেও অনেক জায়গা থাকায় তারা ঠিকভাবেই বসতে পারে। পরবর্তীতে চন্দন নামের ছেলেটা আমাকে বলে পা নিচে নামিয়ে বসতে, এটা পা ওপরে তোলার জায়গা না, নিজের রুমে গিয়ে পা তুলে বস ইত্যাদি কথা বলে। পরে অপর পায়ে বেশি সমস্যা থাকায় আমি একটি পা নিচে নামিয়ে রাখি।

তিনি অভিযোগ করেন, ঝলকের (অভিযুক্ত) সঙ্গে দোকানে আমার কোনও কথাই হয়নি। পরবর্তীতে আমি আমার রুমে এসে আনন্দ বাজার যাই। আসার পর আমি রুমে ঢোকা মাত্রই চন্দন, ঝলক দাশ, রিপন, সৌরভ এই চারজন রুমে এসে আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন করে, থাপ্পড় মারে। এছাড়াও হুমকি দিয়েছে, যাতে আমাকে আর চায়ের দোকানের দিকে দেখা না যায়, নিচে যাতে দেখা না যায়।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর রুমে গিয়ে এভাবে হামলা করা শুধু অমানবিকই নয়, এটি জগন্নাথ হলের মানবিক পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত লজ্জাজনক। পাশাপাশি তিনি দোষীদের বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট দেবাশীষ পাল বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমাকে রাতেই অবগত করা হয়েছে। আমি ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. শিমুল হালদারকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এখন যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, তাই ক্যাম্পাসে যারা আছেন তাদেরকে সদস্য করে কমিটি করেছি। ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে চিঠি ইস্যু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলেছি। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিবেদন পেলেই সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর জমা দিবো।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission