ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বট আইডি থেকে ফেসবুকে নারী শিক্ষার্থীকে ‘গালি’ শিবিরকর্মীর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
আলি আহসান মোজাহিদ : ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আলি আহসান মোজাহিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সে চবির শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী।

শনিবার (২৩ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপ ও পেজে এ সংক্রান্ত স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে।

চবি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারী শিক্ষার্থী পোস্ট করেন। ওই পোস্টে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, ‘আপনার নামেও গিয়ে বিচার দিয়ে দিবে, আর সিট ক্যান্সেলের হুমকি দিবে দেখেন।’ এর জবাবে ‘ScenicLizard7729’ নামের একটি অজ্ঞাত আইডি থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে বিরূপ ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়।

আরও পড়ুন

পরবর্তীতে ওই আইডির পরিচয় শনাক্ত করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তিনি দাবি করেন, আইডিটির মালিক আলী আহসান মুজাহিদ, যিনি নিজেকে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে পরিচয় দিতেন। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযুক্তের সঙ্গে কথোপকথনের স্ক্রিনশট ও তার স্বীকারোক্তির দাবি সংবেদিত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফেসবুক গ্রুপে প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, শামসুন নাহার হল এবং হল সংসদ নিয়ে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ গ্রুপে করা এক পোস্টে আমি কমেন্ট করি। সেখানে এক বট আইডি আমাকে অশ্লীল ভাষায় রিপ্লাই দেয়। পরে ওই আইডির মালিকের পরিচয় জানতে পারি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি আমার পরিচিত একজন। আমরা একসঙ্গে কয়েকটি প্রোগ্রামে ছিলাম এবং আমি তাকে ছোট ভাই হিসেবেও পরিচয় দিতাম।

তিনি আরও লেখেন, আলি আহসান মুজাহিদ (আরবি বিভাগ, সেশন: ২২-২৩) নিজেও একাধিকবার দাবি করেছে যে সে শিবিরের সঙ্গে যুক্ত। বিষয়টি জানার পর আমি তাকে মেসেজ দিই এবং সে এই কাজের কথা স্বীকার করে। পরে সে বলে, তাকে এ কাজের জন্য লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রুপের অ্যাডমিন ও মডারেটরদের কাছে অনুরোধ, আপনারা গ্রুপের বাউন্ডারি সেট করুন। এভাবে আর কত? বট আইডি থেকে ক্রমাগত হয়রানি ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা হচ্ছে, অথচ তাদের অপসারণ করা হচ্ছে না কেন?

চাকসুর আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফজলে রাব্বি তাওহিদ বলেন, এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বুলিং বিরোধী সেলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী আপুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। অভিযুক্তের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, আমরা তাকে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি। এ ক্ষেত্রেও চাকসুর ফ্রি লিগ্যাল এইড সেল থেকে মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে। শুধু এ ধরনের বিষয় মোকাবিলার জন্য আমাদের সেলে অভিজ্ঞ নারী আইনজীবীও আছেন। এছাড়া কারা তাকে এ কাজে প্ররোচিত করেছে, সেটিও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাখা শিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, সে শিবিরের কর্মী হলেও নিষ্ক্রিয় কর্মী। আমাদের সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত থাকলে অন্য কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা যায় না। তবে যেহেতু সে অন্য সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত আছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুক্তভোগীকেও সহযোগিতা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আলী আহসান মুজাহিদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব: ইরানের রাষ্ট্রদূত
সত্য, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ, বিশ্ব গণতন্ত্র, নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। ফারসি ভাষায় দেওয়া তার বক্তব্য পরে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়। সেমিনারে বক্তাদের ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান এবং ইরানের জনগণের প্রতি সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ইরানের জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুধু সামরিক, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে গণমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত। তার ভাষ্য, পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমে অনেক সময় যুদ্ধের ঘটনাগুলো একপেশেভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে। স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল—কোনো পক্ষের হয়ে অবস্থান নেওয়া সাংবাদিকতার কাজ নয়। সত্য, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যুদ্ধের আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিশু, স্কুল, নারী ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় হামলা কতটা বৈধ। বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত। ইরান নিজেদের দেশ ও জনগণকে রক্ষায় সেই অধিকার প্রয়োগ করছে। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সনদের ৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কোনো রাষ্ট্র হুমকি সৃষ্টি করলে নিরাপত্তা পরিষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে, যার মধ্যে বলপ্রয়োগের অনুমোদনও থাকতে পারে। তবে ইরানে হামলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদ এমন কোনো অনুমোদন দেয়নি। বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ধরে নিন, আমরা সবাই সন্ত্রাসী। ইরানের শিক্ষার্থীরাও সন্ত্রাসী। তারপরও কি যুদ্ধের কোনো আইন থাকবে না? বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা করা কি বৈধ? হাসপাতাল কিংবা শিশুদের ওপর হামলা কি বৈধ? যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরতে বিশ্বের স্বাধীন গণমাধ্যমগুলোকে ইরান সফরের আহ্বান জানান তিনি। সাংবাদিকদের সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং নিজেদের মতো করে যুদ্ধের পরিস্থিতি তুলে ধরার আহ্বান জানান ইরানি রাষ্ট্রদূত। উল্লেখ্য, সেমিনারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব: ইরানের রাষ্ট্রদূত
ইসরায়েলকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র নিজের আধিপত্যই ক্ষয় করছে: গেগরি জে. সিমনস
ইসরায়েলকে সমর্থন করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী তার দীর্ঘদিনের আধিপত্যই ক্ষয় করছে বলে মন্তব্য করেছেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গেগরি জে. সিমনস। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধ, বিশ্ব গণতন্ত্র, নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তব্যে গেগরি জে. সিমনস বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতকে শুধু ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব, ইসরায়েলের আঞ্চলিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের বিষয়ও জড়িত। তিনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতা থাকলেও দুই দেশের স্বার্থ সব ক্ষেত্রে এক নয়। যুক্তরাষ্ট্র মূলত তার দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক নেতৃত্ব বা ‘Pax Americana’ ধরে রাখার চেষ্টা করছে। তবে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত সেই প্রভাবকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। ইরান প্রসঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যের যে বয়ান দেওয়া হচ্ছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গেগরি জে. সিমনস পশ্চিমা দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতিতে ‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ অভিযোগও তোলেন। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও নৈতিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে পশ্চিমা প্রতিক্রিয়ার তুলনা করেন। তার দাবি, আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগে রাষ্ট্রভেদে ভিন্ন মানদণ্ড দেখা যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের কথা বলা হলেও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ক্ষেত্রে এসব নীতির প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েল যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, সেটিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এ সময় তিনি ‘Greater Israel’ ধারণার কথাও উল্লেখ করেন। সেমিনারে পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নৈতিক জবাবদিহি, গণতন্ত্রের বর্তমান সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে ইরানের রাষ্ট্রদূত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
ইসরায়েলকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র নিজের আধিপত্যই ক্ষয় করছে: গেগরি জে. সিমনস
খাবারের নির্যাসে ক্যানসার প্রতিরোধের সম্ভাবনা
গবেষকেরা জানিয়েছেন, উদ্ভাবিত সিরাপটি এখনো গবেষণাগার পর্যায়ের একটি প্রোটোটাইপ। এটি ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কোনো বাণিজ্যিক ওষুধ নয়। সিরাপের বোতলের লেবেলেও বিষয়টি স্পষ্ট করতে ‘ফর রিসার্চ পারপাস অনলি’ উল্লেখ করা হয়েছে।
খাবারের নির্যাসে ক্যানসার প্রতিরোধের সম্ভাবনা
২৫ টাকায় মেলে প্লেটভর্তি খাবার
এক প্লেট ভাত, অর্ধেক সিদ্ধ ডিম, পটল ভাজি, আলু ভর্তা, আলু ভাজি ও শাক ভাজির সঙ্গে মিলছে ডালও। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে ২৫ টাকায় ছয় পদের খাবার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্টেশন বাজারের ‘হোটেল মাদারীপুরে’ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন খাবারই পরিবেশন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এই খাবার পরিচিত ‘সিস্টেম’ নামে। দামে কম হলেও খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের রয়েছে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা। ফলে সকাল ও দুপুরের খাবারের সময়ে হোটেলটিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের ভিড়। ছয়টি পদ দিয়ে খাবার পরিবেশন করা হয় বলেই এর প্রচলিত নাম ‘সিক্স আইটেম’। তবে শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে এটি ‘সিস্টেম’ নামেই বেশি পরিচিতি পেয়েছে। জানা গেছে, ‘সিস্টেম’-এর উদ্যোক্তা হোটেল ব্যবসায়ী মানিক মিয়া। ছোটবেলায় জীবিকার সন্ধানে কুমিল্লার লাকসাম থেকে রাজশাহীতে আসেন তিনি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মেহেরচণ্ডী এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে ষাটের কোঠায় তাঁর বয়স। একসময় রিকশা চালালেও প্রায় ৩৬ বছর ধরে হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তিনি। মানিক মিয়া বলেন, প্রায় ২৬ বছর ধরে হোটেল মাদারীপুরে ‘সিস্টেম’ চালু রয়েছে। শুরুতে ২০ বছর আগে এই খাবারের দাম ছিল মাত্র ৬ টাকা। সময়ের সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় ধীরে ধীরে ‘সিস্টেম’-এর দামও বেড়ে বর্তমানে ২৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ছয় পদের খাবারের মধ্যে রয়েছে এক প্লেট ভাত, অর্ধেক ডিম, পটল ভাজি, আলু ভর্তা, শাক ভাজি ও আলু ভাজি। এর সঙ্গে ডাল সবার জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হয়। হোটেলে মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছে ‘সিস্টেম’-এর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। হোটেলটির নামকরণের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। মানিক মিয়া জানান, আগে দোকানটির মালিক ছিলেন মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা। তাঁর বাড়ির জেলার নাম অনুসারেই হোটেলটির নাম রাখা হয় ‘হোটেল মাদারীপুর’। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানে হোটেলটি চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি। মানিক মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন হোটেলে ৫০০টির বেশি ‘সিস্টেম’ বিক্রি হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টাকার বেশি খাবার বিক্রি হয়। ‘সিস্টেম’-এর পাশাপাশি হোটেলে মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারও পাওয়া যায়। সকালে ও দুপুরে ‘সিস্টেম’ বিক্রি হলেও রাতে খিচুড়িসহ অন্যান্য খাবার পরিবেশন করা হয়। স্টেশন বাজারে হোটেলটির অবস্থান হওয়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও সহজ। এর পাশেই রয়েছে মাদার বখ্শ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল। কিছুটা দূরে রয়েছে শহীদ শামসুজ্জোহা ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল। ফলে এসব আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের অনেকেই নিয়মিত হোটেলটিতে খাবার খেতে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটির ‘সিস্টেম’ খাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমি এখানে সাড়ে তিন বছর ধরে খাচ্ছি। এখানকার বিশেষত্ব হচ্ছে কম টাকায় অনেকগুলো আইটেম দিয়ে খাবার খাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের অনেক খরচ থাকে। তাই কম টাকায় যেখানে ভালো খাবার পাওয়া যায়, সেখানেই খাই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই সেবা দিয়ে আসছেন। প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এখানে খেতে আসেন। খাবারের মানও ভালো। কম দামে খাবার দেওয়ার বিষয়টিকে হোটেল মালিকের মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থী তারিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, সিস্টেম মিল যেন অমাবস্যায় এক আলোর মশাল। ক্রমাগত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে সবকিছুই সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। ঠিক এমন সময়ে ২০–২৫ টাকায় তৃপ্তি করে খাওয়া যায়—এটি আমাদের কাছে মানবিক উদ্যোগ। একই সঙ্গে অন্য হোটেল মালিকদের জন্যও এটি অনুকরণীয়। রাবি শিক্ষার্থীদের গল্প-কথায় হোটেলটি যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহীদ শামসুজ্জোহা হলে থাকা শিক্ষার্থী জুবাইর হোসেনও মাঝেমধ্যে হোটেলটিতে খেতে যান। তিনি বলেন, ‘এত কম দামে এমন খাবার রাজশাহীর অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। কম দাম হলেও খাবারটি বেশ তৃপ্তিদায়ক।’ দ্রব্যমূল্যের চাপে যখন স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের খাবারের খরচও বাড়ছে, তখন ২৫ টাকার এই ‘সিস্টেম’ শুধু একটি সস্তা খাবারের নাম নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে রাবির শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক পরিচিত নাম। ৩৬ বছর ধরে টিকে থাকা হোটেল মাদারীপুর তাই হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবারের সংস্কৃতিরও এক ছোট্ট অংশ। আরটিভি/টিআর
২৫ টাকায় মেলে প্লেটভর্তি খাবার
রাবির জুলাই-৩৬ হলের ৪৬ জন নারী শিক্ষার্থীকে কৃতি সংবর্ধনা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জুলাই-৩৬ হলে ৪৬ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হলটির অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
রাবির জুলাই-৩৬ হলের ৪৬ জন নারী শিক্ষার্থীকে কৃতি সংবর্ধনা
আরও পড়ুন
জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যেই চবির শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ নেতার ভিডিও কল
ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগে চবি শিক্ষার্থীকে শিবিরের মারধর
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কগুলো যেন একেকটি মরণফাঁদ
চীনের সহযোগিতায় চবিতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট