‘ছাত্রীকে আদর করে মারতে চাওয়া’ সেই অধ্যাপককে নিয়ে খুবিতে উত্তেজনা

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ , ০৫:২৪ পিএম


‘ছাত্রীকে আদর করে মারতে চাওয়া’ সেই অধ্যাপককে নিয়ে খুবিতে উত্তেজনা
অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে পুত্তলিকা দহন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার  (১৮ জুন) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। 

সমাবেশ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল- দফা এক দাবি এক, রেজাউলের বহিষ্কার, রেজাউলের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে, রেজাউলের চামড়া তুলে নিব আমরা, রেজাউলের চামড়া কুত্তা দিয়ে কামড়া, যৌন হেনস্তাকারীর ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবেনা, রেজাউলের বডিতে আগুন দেব এক সাথে এবং জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো। 

সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রতীকী পুত্তলিকা দহন করেন।

এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিমেষ দে বলেন, অতীতে বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও আমরা তেমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাইনা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। আমরা এই শিক্ষকের স্থায়ী বহিস্কার চাই।

তানভীর বিন মুহিত বলেন, একজন শিক্ষক তার অবস্থান ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের প্রতি অনৈতিক আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হলে তা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগজনক। আমরা এই শিক্ষককে আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দেখতে চাইনা। এই শিক্ষককে স্থায়ী বহিস্কার না করলে আমরা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবো।

এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসেজ দিয়ে উত্ত্যক্ত করা মেসজসম্বলিত প্রমাণপত্রসহ যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, শুরুতে ওই শিক্ষক তার সঙ্গে ভালো আচরণ করলেও ধীরে ধীরে মেসেঞ্জারে ও হোয়াটসঅ্যাপে নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। উপর্যুক্ত প্রমাণসহ নথি পত্রে দেখা যায়, তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল, আই লাভ ইউ মোর দ্যান আই ক্যান সে, লাভ ইন ইংলিশ দ্যা জান্নাহ, আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না, তাহলে আজ থেকে ভালোবাসা শুরু হোক, বন্ধুর সাথে হাগ করলে সব ডিপ্রেশন থাকেনা, তোমার মতো সুন্দরী মেয়ে দুনিয়ায় কম আছে, ডিসিপ্লিনে আমি শুধু মারি, আদর করে মারি কোনো মেয়েদের মারিনা কিন্তু তোমাকে মারতে হবে এমন সব বাক্য প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, ‘আমি ফেসবুকে তাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানোর পরদিনই তিনি তা গ্রহণ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বার্তা পাঠানো শুরু করেন। বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছিল। পরবর্তীতে তার পাঠানো বার্তাগুলো ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আমি বিষয়টি আর সহ্য করতে না পেরে সহপাঠী ও ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধিদের জানাই। প্রথমদিকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না দেখলেও, পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। শুরুতে প্রভাবশালী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেলেও, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রয়োজন মনে করেই আমি সামনে এসেছি। আমি চাই অন্য ভুক্তভোগীরাও সাহস করে কথা বলুক এবং এ ঘটনার এমন একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।’

এদিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

জানা যায়, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে ড. রেজাউল ইসলাম জানান, তার মোবাইল ফোন হারিয়ে যায় ফেব্রুয়ারিতে এবং এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। 

তবে ওই সময়ের পরও তার সঙ্গে একাধিকবার একাডেমিক বিষয়ে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি সম্প্রতি তিনি নিজের প্রোফাইল থেকে গবেষণা-সংক্রান্ত সংবাদও শেয়ার করেছেন । পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনার পর আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন বলেও জানা গেছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission