এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্ন অপদার্থতার নজির: রাবির সাবেক উপাচার্য

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৫৯ পিএম


এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্ন অপদার্থতার নজির: রাবির সাবেক উপাচার্য
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য ও পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। ছবি: আরটিভি

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য ও পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্নপত্রে বিভিন্ন ত্রুটির অভিযোগ তুলে প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নির্বাচন করার আহ্বান জানান।

ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক নকীব লেখেন, এসএসসি এবং এইচএসসি এই দেশের সবচেয়ে বড় দুটি পাবলিক পরীক্ষা। এই দুই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কারা প্রণয়ন করবেন? অবশ্যই শিক্ষক হিসেবে যারা সেরা, তারা। প্রশ্নপত্র কারা মডারেট করবেন? অবশ্যই যারা বিষয়জ্ঞানে সেরা, তারা। পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্ন দেখলাম। অপদার্থতার ভালো নজির।

তিনি আরও লেখেন, বিজ্ঞান শিখতে এবং শেখাতে হলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হয়। এক, ছবি এবং ছবিতে দেওয়া গাণিতিক তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। দুই, শুধু গাণিতিক সামঞ্জস্য থাকাই যথেষ্ট নয়। ঠিকভাবে অঙ্ক করে যদি একটি অস্বাভাবিক ফলাফল আসে, তাহলে অঙ্কটির সেটআপই ঠিক হয়নি।

আরও পড়ুন

উদাহরণ দিয়ে ড. নকীব বলেন, ধরা যাক, অঙ্কের ফলাফল একজন মানুষের ভর। ঠিকভাবে অঙ্ক করে ফল পাওয়া গেল ১০ হাজার কিলোগ্রাম। তাহলে সেটি কোনো গ্রহণযোগ্য প্রশ্নই নয়। তিন, অঙ্ক করতে যা জানা অপরিহার্য, তা প্রশ্নেই সরবরাহ করতে হবে। তা না হলে প্রশ্নের বৈধতা থাকে না। চার, যদি শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত অনুমান (educated guess) করার সুযোগ রাখা হয়, তবে সেটি অবশ্যই যুক্তিসংগত হতে হবে। অনুর ব্যাস যেখানে অ্যাংস্ট্রম মাত্রার, সেখানে অঙ্ক মেলাতে গিয়ে যদি সেটিকে সেন্টিমিটারে নিতে হয়, তাহলে সেটি কোনো গ্রহণযোগ্য অঙ্ক নয়। উপরের প্রতিটি সমস্যা এ বছরের পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নে রয়েছে।

প্রশ্নপত্রে ত্রুটির কারণ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, আমার শিক্ষিত অনুমান (educated guess) হচ্ছে, প্রশ্নপ্রণেতা এবং মডারেটর নির্বাচন করা হয়েছে কে কাকে চেনে, সেই ভিত্তিতে অথবা রাজনৈতিক বিবেচনায়। যোগ্যতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি দ্রুত মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন (মেরিটোক্রেসি) প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, তাহলে শুধু পরীক্ষা নয়, জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমন সার্কাস দেখতে হবে।

উল্লেখ্য, সোমবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র পরীক্ষা। প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রশ্নপত্রে বৈজ্ঞানিক অসামঞ্জস্য, তথ্যগত ত্রুটি এবং কয়েকটি প্রশ্নের যৌক্তিকতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission