ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

ফিরে দেখা ১৬ জুলাই: এ দিন ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস পায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
ফিরে দেখা ১৬ জুলাই: এ দিন ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস পায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  । ছবি: ফাইল ফটো

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও উত্তাল হয়ে ওঠে। কোটা সংস্কার আন্দোলন দমন করতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ মাঠে নামে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের হুমকি, বাধা ও হামলার অভিযোগ ওঠে। তবে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিতে সক্ষম হন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তৎকালীন সমন্বয়কারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৬ জুলাই ছিল আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানো দিন। সেদিন আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি ছিল দুপুর আড়াইটায়। একই স্থানে এক ঘণ্টা পর ছাত্রলীগও জমায়েতের ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্দোলনকারীরা গোপনে কর্মসূচির সময় এগিয়ে এনে আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান।

দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকা থেকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে প্রধান ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। সেখানে শতাধিক পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তারা বাধা দেননি। সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের অনেকের হাতে রড, লাঠি ও পাইপ ছিল।

আরও পড়ুন

মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা দলে দলে বেরিয়ে আসেন। প্যারিস রোডে পৌঁছালে আরও কয়েকশ শিক্ষার্থী মিছিলে যোগ দেন। পরে মেয়েদের হলের সামনে প্রায় দেড় হাজার ছাত্রী মিছিলে অংশ নেন। এরপর মিছিলটি বিজ্ঞান ভবনের পাশ দিয়ে হবিবুর রহমান হল মাঠ হয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে গেলে সেখানে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা পিছু হটে মাদার বখ্শ হলের দিকে চলে যান।

এদিকে শাহ মখদুম, লতিফ ও আমীর আলী হল থেকেও শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল গালিবকে ধাওয়া দেন। তিনি মোটরসাইকেলে করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। পরে তার কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। গালিবের ক্যাম্পাস ছাড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর বিজয় ২৪ হলের সামনে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কক্ষেও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় পুলিশ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, তার কক্ষ ও দপ্তর সেল থেকে তিনটি পিস্তল, ছয়টি রামদা, ১০ থেকে ১৫টি মদের বোতল, কয়েকটি দা ও রড উদ্ধার করে পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সমন্বয়ক মেহেদী সজীব আরটিভিকে বলেন, ১৬ জুলাই আমরা ছাত্রলীগকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত করি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য ক্যাম্পাসেও একই ঘটনা ঘটে। আমাদের এই কর্মসূচিই ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করে।

আরেক সাবেক সমন্বয়ক মেশকাত মিশু আরটিভিকে বলেন, ছাত্রলীগ আন্দোলন ঠেকাতে একই স্থানে কর্মসূচি দেয়, বিভিন্ন হলে নজরদারি বসায় এবং কয়েকটি হলে তালাও লাগিয়ে দেয়। এরপরও শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি জানান, মাদার বখ্শ হলের সামনে তিনি নিজেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান দেখেছিলেন। পরে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ধাওয়ায় তারা ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হন।

সাবেক সমন্বয়ক ফাহিম রেজা আরটিভিকে বলেন, ১৫ জুলাই রাতেই আন্দোলনের পরিকল্পনা করা হয়। শিক্ষার্থীরা ছেলেদের হল, মেয়েদের হল এবং বিনোদপুরে আলাদা অবস্থান নেন। পরে ছাত্রলীগ হামলার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে বিভিন্ন হল দখলমুক্ত করেন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের দাবি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের প্রভাবের অবসান ঘটানোর ঘটনাই পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের গতি বাড়ায় এবং ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পথ আরও সুগম করে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে 'প্যাগসা'র যাত্রা শুরু
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড গভর্ন্যান্স স্টাডিজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (প্যাগসা)।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে 'প্যাগসা'র যাত্রা শুরু
কুবি প্রেস ক্লাবের দুই দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে ‘তারুণ্যের ক্যানভাসে আগামীর সাংবাদিকতা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।
কুবি প্রেস ক্লাবের দুই দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা
ক্যাম্পাসে কুকুরের উৎপাতে আতঙ্ক, আহত রুয়েট শিক্ষার্থী
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ক্যাম্পাসে কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ক্যাম্পাসে কুকুরের উৎপাতে আতঙ্ক, আহত রুয়েট শিক্ষার্থী
পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা
ভুয়া মনে করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় কর্মরত দুই পুলিশ সদস্যকে মারতে মারতে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।  বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের তুলে নেওয়া হয়। এসময় পুলিশের এক সোর্সকেও মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যরা হলেন— কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, কনস্টেবল মো. হানিফ এবং পুলিশের সোর্স জাহিদ। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিউশনি শেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম ও অর্প রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন বাস ধরার জন্য। এসময় পুলিশ পরিচয়ে তিনজন তাদের পথরোধ করে তল্লাশি চালান। ওই শিক্ষার্থীরা পুলিশের পরিচয়পত্র দেখাতে বলায় তারা পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে তাদের ভুয়া পুলিশ মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বাস থেকে নেমে তাদের মারধর করে টেনে-হিঁচড়ে বাসে তুলে ফেলেন।  দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে মারতে মারতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয় দুজন পুলিশ এবং একজন তাদের সোর্স। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। মারধরের শিকার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা বলেন, আমরা দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চেয়েছিলাম। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। আমাদের সঙ্গে পরিচয়পত্র না থাকায় ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। পাশাপাশি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটি না শুনেই মব সৃষ্টি করে আমাদের তুলে নিয়ে যান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোতোয়ালি থানার একজন এএসআই, একজন কনস্টেবল ও পুলিশের একজন সোর্স ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের তল্লাশি করার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এভাবে কাউকে তুলে না এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল। একইভাবে পুলিশ সদস্যদেরও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত ছিল। উভয় পক্ষেরই কিছু ঘাটতি ছিল। পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ঘটনাস্থল থেকেই থানায় বা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি সমাধান করা যেত। বাসে করে পুলিশ সদস্যদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ৫ আগস্টের পর থেকে একটা মব কালচারের রেশ ছিল। সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আরটিভি/এসআর  
পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা
অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে মধ্যরাতে পুলিশের হামলার অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিচারের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে কলেজের মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।  এর আগে কলেজের সামনের সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দুই দফা দাবি তুলে ধরেন। প্রথম দাবিতে বলা হয়, মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। পাশাপাশি হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয় দাবিতে কলেজের সব শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। তার পদত্যাগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি পূরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দাবি আদায় না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। এর আগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশি অভিযানে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, মধ্যরাতে পুলিশের হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো এবং এক নারী শিক্ষার্থীর চুল ও হিজাব ধরে টানাটানির অভিযোগও করেছেন তারা। আরটিভি/এসআর  
অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের
আরও পড়ুন
রাবিতে সংঘর্ষে ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের
দ্রুত সময়ে রাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি ছাত্রনেতাদের
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দপ্তর ছাড়লেন রাকসুর সাবেক জিএস আম্মার 
রাবিতে চার দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন