ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৩০ এএম
ছবি: আরটিভি

নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন মুখের হাসি, স্বপ্ন ও প্রত্যাশায় মুখর হয়ে উঠেছে সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের অডিটোরিয়ামে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগ নিজস্ব আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল, কলম ও বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী দিয়ে আন্তরিকভাবে বরণ করে নেয়।

এবার ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচ। নতুন এ ব্যাচের আগমনে ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন বন্ধু, নতুন বিভাগ, নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাসের ছাপ। দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যস্ত ছিলেন অনেকেই। কেউ ছবি তুলেছেন, কেউ নতুন সহপাঠীদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, আবার কেউ ঘুরে দেখেছেন সবুজে মোড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান।

নবীন শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলেন, ক্যাম্পাসে এসে চারপাশের সবুজ পরিবেশ আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। খুবই শান্ত, সুন্দর ও স্নিগ্ধ একটি পরিবেশ। ওরিয়েন্টেশনে শিক্ষকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। সব মিলিয়ে খুব ভালো লেগেছে।

সংগীত বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী প্রজ্ঞা ভট্টাচার্য বলেন, আজ আমাদের ওরিয়েন্টেশন ছিল। পুরো আয়োজন আমার খুব ভালো লেগেছে। শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নিয়ে যে পরামর্শ দিয়েছেন, তা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। ক্যাম্পাসটি খুবই সুন্দর, সবুজ ও গোছানো। এখানে ভর্তি হতে পেরে নিজেকে সত্যিই গর্বিত মনে হচ্ছে। সিনিয়র ভাই-বোনদের আন্তরিকতাও আমাকে মুগ্ধ করেছে।

নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী মো. হযরত আলী রূপক বলেন, ভর্তি হওয়ার আগে এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে খুব বেশি জানতাম না। শুধু নামটাই শুনেছিলাম। আমি রংপুর থেকে এসেছি। এখানে এসে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ও পরিবেশ দেখে সত্যিই অভিভূত হয়েছি। এত সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।

মার্কেটিং বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী কর্ণক দাস বলেন, আজকের ওরিয়েন্টেশনের পরিবেশ ছিল দারুণ। শিক্ষক ও সিনিয়ররা খুব আন্তরিকভাবে আমাদের স্বাগত জানিয়েছেন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এখানে র‍্যাগিংয়ের কোনো সংস্কৃতি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নানা আয়োজন উপভোগ করার অপেক্ষায় আছি। বিশেষ করে বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচটি বড় পর্দায় দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অপ্রতিম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল, সর্বোচ্চ শাস্তি চায় পরিবার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে তদন্তকারী সংস্থা। গত ২০ অক্টোবর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এখন দ্রুত ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে অপ্রতিমের পরিবার। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আমাদের কাজ শেষ করে অভিযোগপত্র আদালতে পাঠিয়েছি। এখন বাকি কাজ আদালত করবে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, মুঠোফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিকল্পনায় সিয়াম জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতিমের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতিমের মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মুঠোফোন নিয়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। নিহত অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী। মামলার বাদী ও অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, গতকাল তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই আমাদের বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আশা করছি, আদালতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে। বয়সের ফাঁক যেন আসামিদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে না দেয়। আরটিভি/টিআর
অপ্রতিম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল, সর্বোচ্চ শাস্তি চায় পরিবার
টিউশনের আয়ে সিনেমা, ভর্তি-যুদ্ধের গল্প নিয়ে ‘অন্যপাতা’
পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অন্যপাতা’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে ২৩ অক্টোবর। সিনেমাটিতে রয়েছে ছয়টি মৌলিক গান ও আবহসংগীত। চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নৈসর্গিক ও প্রাকৃতিক দৃশ্য উঠে এসেছে ক্যামেরায়। প্রথম ধাপে দেশের ১০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। প্রেক্ষাগৃহগুলো হলো—ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সের সনি স্কয়ার শাখা, কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাস, ঢাকার শ্যামলী সিনেমা, চট্টগ্রামের স্টার সিনেপ্লেক্সের বালি আর্কেড শাখা, চট্টগ্রামের সুগন্ধা সিনেপ্লেক্স, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের কে স্ক্রিন, রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভার ভিউ, বগুড়ার মমো ইন সিনেপ্লেক্স, নারায়ণগঞ্জের সিনেস্কোপ এবং কুষ্টিয়ার স্বপ্নীল সিনেপ্লেক্স। দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলে পরবর্তী সময়ে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের। ছয় বন্ধুর শখ থেকে চল্লিশজনের দল পুরো উদ্যোগের শুরুটা ছিল খুব ছোট পরিসরে। সিনেমা বানানোর শখ থেকে ছয়জন একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। পরে এতে যুক্ত হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আরও অনেক শিক্ষার্থী। কেউ ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন, কেউ পেছনে থেকে সামলেছেন আলো, শিল্পনির্দেশনা কিংবা সম্পাদনার কাজ। কেউ লিখেছেন সংলাপ, কেউ বেঁধেছেন সুর। ছয়জনের সেই দল এখন ৪০ জনেরও বেশি সদস্যের একটি বড় পরিবার। ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক ও চুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহেজাহান এ্যানি। তার এই পথচলা এক দিনে শুরু হয়নি। কোভিডকালে জীবনের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করে তিনি নিজের ওপর ভরসা পান যে একদিন নির্মাতা হতে পারবেন। এরপর টানা তিন বছর কোনো কাজ করেননি। সেই সময়টা কাটিয়েছেন চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করে এবং অমিতাভ রেজার পরামর্শ নিয়ে। এরপর যখন তার মনে হয়েছে, এবার তিনি প্রস্তুত, তখনই হাত দিয়েছেন ‘অন্যপাতা’ নির্মাণে। এ্যানি বলেন, ‘অন্যপাতা’ তৈরি করতে গিয়ে আমি আবিষ্কার করেছি, আমার চারপাশের মানুষগুলো কতটা সুন্দর ও সহযোগিতাপরায়ণ। ছয়জনের একটি দল থেকে ধীরে ধীরে আমাদের দল ৪০ জনে পরিণত হয়েছে। তাই মাঝে মাঝে আমরা বলি, অন্যপাতা আমরা তৈরি করিনি, অন্যপাতাই আমাদের তৈরি করেছে। প্রথম সিনেমা নির্মাণের পথে নানা চ্যালেঞ্জ নিজেদের অর্থায়নে সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি বিতরণের দায়িত্বও নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন ‘অন্যপাতা’র তরুণ নির্মাতারা। প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা থাকলেও চলচ্চিত্রশিল্পের কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় নানা সময়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাদের। কীভাবে এগোতে হবে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে—এসব নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় এক লাখ টাকাও হারিয়েছেন তারা। তবু নানা বাধা পেরিয়ে নিজেদের স্বপ্নের সিনেমাটি বড় পর্দায় নিয়ে আসার প্রচেষ্টা থামাননি তারা। সিনেমাটির অন্যতম প্রযোজক অংকন দে অনিমেষ বলেন, নির্মাণের সময় আমরা এমন একটি দল নিয়ে শুরু করেছিলাম, যাদের কেউ কখনো শুটিং দেখেনি, কারণ চট্টগ্রামে তেমন শুটিং হয় না। তবে দলের মানুষগুলো এতটাই আন্তরিক ছিল যে তাদের বোঝাতে খুব বেশি সময় লাগেনি। আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ শুরু হয় সিনেমাটি বানানোর পর। গান, মিউজিক ভিডিও ও শুটিংয়ের কাজ শেষ করার পর আমরা সবাই শিক্ষার্থী হওয়ায় চলচ্চিত্রশিল্পে আমাদের তেমন যোগাযোগ ছিল না। ফলে সিনেমাটি কীভাবে মুক্তি পাবে, সেটাই ছিল বড় সমস্যা। অনেকেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে ভয় পান, আর সেই ভয় আমাদের মধ্যেও ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবু আমরা পিছিয়ে যাইনি। অনেক জটিলতা পেরিয়ে আজ আমরা এই জায়গায় এসেছি। মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি ১০টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে—এটি আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। প্রযোজনার পাশাপাশি সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন অনিমেষ। এমনকি অভিনয়ও করেছেন সিনেমাটিতে। শুরুতে পেছনের দৃশ্যে দু-একটি সংলাপ বলার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার চরিত্রটি পেয়েছে আলাদা গুরুত্ব। চরিত্রটির নিজস্ব গল্প ও বিচিত্র কর্মকাণ্ডে যেমন হাস্যরস রয়েছে, তেমনি উঠে এসেছে সমাজের কিছু চেনা বাস্তবতা। প্রকৌশলীদের বেকারত্ব, পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের কোটা এবং প্রকৌশল শিক্ষায় তীব্র প্রতিযোগিতার যৌক্তিকতা নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠে এসেছে চরিত্রটির কথোপকথনে। অন্যদিকে, সিনেমাটির আরেক প্রযোজক বুয়েটের শিক্ষার্থী আবতাহী শামসের কাছে ‘অন্যপাতা’ কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং স্বপ্নপূরণের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘অন্যপাতা’ আমার কাছে শুধু একটা সিনেমা নয়, এটা আমার জন্য একটা স্বপ্নকে সত্যি করার গল্প। প্রযোজক হিসেবে এটি আমার প্রথম কাজ, তাই প্রতিটি মুহূর্তেই নতুন কিছু শিখেছি, ভুল করেছি, আবার ঠিক করার চেষ্টা করেছি। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এতগুলো মানুষের বিশ্বাস আর পরিশ্রমকে একটি গল্পের মধ্যে একসঙ্গে দেখতে পারা। আমরা আমাদের জায়গা থেকে যতটা ভালোবাসা দিয়ে কাজটা করতে পেরেছি, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন সিনেমাটা দর্শকের, তারা কীভাবে নেন, সেটাই দেখার অপেক্ষা। পর্দার সামনে ও পেছনে গল্প গড়েছেন যাঁরা সিনেমার প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়া শাকিল ও প্রত্যাশা পাল। শাকিল বলেন, এটি আমার প্রথম সিনেমা। ছবির গল্প, পুরো দলের আন্তরিকতা এবং আমার অভিনীত চরিত্রের জীবনযাত্রা আমাকে অভিনয়ে অনুপ্রাণিত করেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখার অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। সিনেমাটি নিয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। আশা করি, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকেরা নতুন কিছু দেখবেন এবং প্রেক্ষাগৃহ দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রত্যাশা বলেন, ‘অন্যপাতা’র গল্পই আমাকে সবচেয়ে বেশি কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রথমবার গল্পটি শোনার পর মনে হয়েছিল, এই গল্পের প্রতি আমার একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে। ছবিটির পুরো যাত্রা আমি নিজের চোখের সামনে দেখেছি, তাই এটি নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী। আশা করি, ‘অন্যপাতা’ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এসজেএ প্রোডাকশনের সঙ্গে কাজ করাকে আমি সৌভাগ্য মনে করি। পুরো দলের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অভিনয়ের ক্ষেত্রে আমার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও তারা খুব সুন্দরভাবে সামলেছেন। পর্দার পেছনেও কাজ করেছেন তরুণ শিক্ষার্থীরা। কারিগরি ও শিল্পনির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দ্র নীল। চিত্রগ্রহণ করেছেন ইব্রাহিম বিন আনছারী। ছয়টি মৌলিক গানের সংগীত পরিচালনা করেছেন ফাহরিয়ান তাসজিম মনন, আর আবহসংগীত তৈরি করেছেন আইনান। কাস্টিং পরিচালনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নোমান। সিনেমার রং বিন্যাস করেছেন চুয়েটের তানভীর জানি, আর ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশনশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন মাশরাফি ইসলাম শাফিন। ভর্তি-যুদ্ধের গল্পে ‘অন্যপাতা’ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন, পরিবারের প্রত্যাশা আর টানাপোড়েনের জীবন—এসবের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলে ‘অন্যপাতা’র গল্প। ভর্তি পরীক্ষার মৌসুমে যখন চারদিকে কোচিং, ব্যাচ আর মডেল টেস্টের ব্যস্ততা, তখন এক মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণকে লড়তে হয় ভিন্ন বাস্তবতার সঙ্গে। আর্থিক সংকটের কারণে কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন ছাড়তে রাজি নয় সে। স্বপ্নপূরণের এই যাত্রায় পারিবারিক চাপের পাশাপাশি তার জীবনে আসে ভালোবাসা, আত্মপরিচয়ের দ্বন্দ্ব আর নানা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি। চেনা এই গল্পের মধ্য দিয়ে সিনেমাটিতে উঠে এসেছে ভর্তি-যুদ্ধের আড়ালে থাকা এক তরুণের সংগ্রাম ও বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সময়কে ঘিরেই গল্পের বিস্তার। পরিচালক এ্যানি বলেন, এটা কোনো পরীক্ষামূলক গল্প নয়। এটা আমাদের সবার গল্প, প্রতিদিনের লড়াইয়ের গল্প। দর্শক বড় পর্দায় এই গল্পের মধ্যে নিজেদেরই খুঁজে পাবেন। প্রযোজক অনিমেষ বলেন, ভর্তি-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সবাই যায়, অথচ এ নিয়ে খুব বেশি কাজ হয় না। এই গল্পটা কোথাও না কোথাও বলা খুব দরকার ছিল। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের দর্শকেরা এই সিনেমায় একটি মিষ্টি, কমেডির ছোঁয়াযুক্ত অভিজ্ঞতা পাবেন, যা সচরাচর দেখা যায় না। ‘অন্যপাতা’র গল্পের পাশাপাশি এর গান, আবহসংগীত এবং সামগ্রিক চলচ্চিত্রিক উপস্থাপন দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও উপভোগ্য করে তুলবে বলে আমার বিশ্বাস। তাই আমি সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, তারা যেন প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি উপভোগ করেন। আরটিভি/টিআর
টিউশনের আয়ে সিনেমা, ভর্তি-যুদ্ধের গল্প নিয়ে ‘অন্যপাতা’
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া সেই রাবি শিক্ষার্থী আর নেই
পূজার দাওয়াত খেয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে চেসি ত্রিপুরার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এএইচএম খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা আজ রাত ১১টা ৭ মিনিটে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি চিকিৎসকেরা আমাদের নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক বান্ধবীর বাসায় পূজার দাওয়াত খেয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে পেছন থেকে একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে চেসি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। আরটিভি/টিআর
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া সেই রাবি শিক্ষার্থী আর নেই
সরকারি ছুটিতেও কবি নজরুল কলেজের উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান
সরকারি ছুটির দিনেও কবি নজরুল সরকারি কলেজের চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের অগ্রগতি দেখতে কলেজে এসে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
সরকারি ছুটিতেও কবি নজরুল কলেজের উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান
জবির সমাবর্তন ফি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনে স্নাতক পর্যায়ে নিবন্ধন ফি প্রায় ৬৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। স্নাতক ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জবির সমাবর্তন ফি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
আরও পড়ুন
তিন মাসে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৯ শিক্ষার্থী
সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ র‍্যালি