ইবির পুকুর থেকে ডুবন্ত শিক্ষার্থী উদ্ধার

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ০৭:৩০ পিএম


ইবির পুকুর থেকে ডুবন্ত শিক্ষার্থী উদ্ধার
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) : ছবি আরটিভি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পুকুর থেকে এক শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসীর আরাফাত সাজ্জাদ। 

জানা গেছে, বৃষ্টিতে ভিজে দুই বন্ধ (ইউসুফ আর সাজ্জাদ) পুকুরে যায়। দুই জনের সিদ্ধান্ত হয় সাঁতার কেটে পুকুরটি পার হবে। যথারীতি সাঁতার শুরু করলে মাঝপথে ডুবে যায় এক বন্ধু (সাজ্জাদ)। আরেক বন্ধু (ইউসুফ) কোনো মতে অপর পাড়ে গিয়ে দেখে সাজ্জাদ ডুবে যাচ্ছিল। তখন চিল্লাচিল্লি করলে ঘটনাস্থলের কয়েকজন মিলে উদ্ধার করে মেডিকেলে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুষ্টিয়া সদরে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ইউসুফ বলেন, আমি আর ও সাঁতার কেটে পার হওয়ার জন্য একসাথে পানিতে নেমেছিলাম। আমি ওকে আগেই সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু পানিতে নামার পর ও পিছিয়ে পড়ে আর আমি অর্ধেক পথ যেতেই প্রচণ্ড হাঁপিয়ে যাই। কোনোমতে শ্বাস নিয়ে ভেসে ভেসে অন্য পাড়ের কাছাকাছি পৌঁছালেও পায়ে দেওয়ার মতো কোনো মাটি পাচ্ছিলাম না। এমন সময় ও পিছন থেকে ডেকে বলল, ‘ইউসুফ, আমি পারতেছি না, আমাকে একটু নিয়ে যাও।’ 

ওর ডাক শুনে আমি প্যানিক হয়ে যাই এবং ওকে বাঁচাতে পিছনে ফিরতে গিয়ে আমার মুখে পানি ঢুকে যায়। আর না পেরে বাধ্য হয়ে আমি পাড়ে ফিরে আসি এবং চিৎকার করে সবাইকে ওকে বাঁচাতে বলি। পাড়ের একজন ওরে ধরতে যাওয়ার আগেই চোখের সামনে ও পানিতে ডুবে যায়; আমি দিশেহারা হয়ে হাতের কাছে কিছু না পেয়ে নিজের শার্টটা খুলে ওরে উদ্ধারের শেষ একটা চেষ্টা চালাই। পরে পাড়ের শিক্ষার্থীরা এসে ওকে উদ্ধার করেন।

আরও পড়ুন

ইবি মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জাকিয়া বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে এখানে আনা হয় অচেতন অবস্থায়। পরে আমরা পেটে চাপ দিয়ে পানি বের করি। তারপর অক্সিজেন দিলাম। এখন মোটামুটি একটু ভালো আগের চেয়ে। আমরা প্রাইমারি ট্রিটমেন্ট দিয়ে দিছি। ভেতরের ফুসফুসের পানি বের করার ইন্সট্রুমেন্ট তো আমাদের এখানে ওরকম ব্যবস্থা নাই। এখন শ্বাসকষ্ট হচ্ছে দেখে অ্যাম্বুলেন্সে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, আমি সদরে শিক্ষার্থীর সাথে আছি। ডাক্তার পালস ও অক্সিজেন চেক করেছে। এখন মেডিসিন দেওয়া হয়েছে সাথে ২৪ ঘণ্টা অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের পুকুরে নামার বিষয় আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission