নেদারল্যান্ডসের রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব তাদের ৫৫তম আসরের অফিসিয়াল সিলেকশন ঘোষণা করেছে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত রাজনৈতিক থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘মাস্টার’। উৎসবের দুটি প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগের একটি ‘বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশন’-এ লড়বে ছবিটি।
নতুন প্রতিভা আবিষ্কার এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব বিশ্বজুড়ে বিশেষভাবে পরিচিত। ক্রিস্টোফার নোলান, বং জুন-হোর মতো খ্যাতিমান নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হয়েছিল এই উৎসবের মাধ্যমেই। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের আসরে বাংলাদেশের সিনেমার অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
রটারডামের ‘বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশন’ বিভাগটি মূলত এমন চলচ্চিত্রের জন্য, যেগুলো শৈল্পিক মানের পাশাপাশি বাণিজ্যিক দর্শকপ্রিয়তার সক্ষমতা রাখে। অর্থাৎ, এই বিভাগে নির্বাচিত সিনেমাগুলো শুধু উৎসবকেন্দ্রিক নয়, বরং বড় পর্দায় সাধারণ দর্শকদের জন্য উপযোগী করে নির্মিত। এই বিভাগের বিজয়ী চলচ্চিত্র পাবে ৩০ হাজার ইউরো (প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা) পুরস্কার এবং নেদারল্যান্ডসের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির জন্য বিশেষ সহযোগিতা।
‘নোনাজলের কাব্য’ খ্যাত নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাস্টার’-এর দৈর্ঘ্য ১২২ মিনিট। ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে জহির নামের এক আদর্শবান শিক্ষককে ঘিরে, যিনি পরিস্থিতির চাপে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ক্ষমতায় যাওয়ার পর জনমানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক চাপ এবং ব্যক্তিগত নৈতিকতার দ্বন্দ্বে জহিরের জীবন কোন পথে মোড় নেয়-সেই প্রশ্নই উঠে এসেছে ছবিতে।
ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না, আমিনুর রহমান মুকুল ও মাহমুদ আলম।
চিত্রগ্রহণ করেছেন তুহিন তামিজুল এবং প্রডাকশন ডিজাইনে ছিলেন ভারতের জোনাকি ভট্টাচার্য। ছবির সম্পাদনা করেছেন অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত ছবি ‘জুডাস অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাক মেসায়া’-এর সম্পাদক ও একাডেমি মেম্বার ক্রিস্টান স্প্রাগ। সংগীত পরিচালনা করেছেন লস এঞ্জেলেসে কর্মরত তাইওয়ানিজ কম্পোজার হাও টিং শি।
‘মাস্টার’-এর কালার গ্রেডিং, সাউন্ড ডিজাইন ও মিক্সিং সম্পন্ন হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ও বুসানের বিশ্বমানের স্টুডিওতে। বং জুন-হোর ‘স্নোপিয়ার্সার’-এর সম্পাদক স্টিভ এম. চো এবং ‘বার্নিং’-এর সাউন্ড ডিজাইনার হান ম’হুয়ানের তত্ত্বাবধানে কাজ করেছেন বাংলাদেশের শব্দ সম্পাদক শৈব তালুকদার ও পরিচালক নিজে।
বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় চলচ্চিত্র অনুদানপ্রাপ্ত এই ছবিটি প্রযোজনা করেছে মাইপিক্সেলস্টোরি-যারা এর আগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘নোনাজলের কাব্য’ প্রযোজনা করেছিল।
আরটিভি/কেআই




