৬ বছরের কঠিন লড়াইয়ের পর জাপানি ব্যান্ড ‘এক্সজি’র বিশ্বজয় 

বিনোদন ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ , ০২:২০ পিএম


৬ বছরের কঠিন লড়াইয়ের পর জাপানি ব্যান্ড ‘এক্সজি’র বিশ্বজয় 
জাপানি পপ ব্যান্ড এক্সজি । ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ছয় বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ, অসংখ্য চ্যালেঞ্জ আর একসঙ্গে পথচলার পর বিশ্ব সংগীতের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে জাপানি পপ ব্যান্ড এক্সজি (XG)। নিজেদের আলাদা পরিচয়, বন্ধন ও ব্যতিক্রমী সংগীতের মাধ্যমে এখন তারা পরিণত হয়েছে বিশ্বজোড়া জনপ্রিয় ব্যান্ডে। 

যারা মঞ্চে ওঠার আগে প্রতি রাতে সাত সদস্য একসঙ্গে হাত ধরে একটি বিশেষ শপথের মতো মুহূর্ত তৈরি করেন। দলের প্রধান জুরিন ‘হেসোনো’ বলে ডাক দেন, আর অন্য সদস্যরা একসঙ্গে সাড়া দিয়ে হাত আকাশের দিকে তুলে ধরেন। জাপানি ভাষায় ‘হেসোনো’ শব্দের অর্থ নাড়ির বন্ধন। এক্সজির কাছে এটি তাদের গভীর সম্পর্ক ও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক। 

দলের সদস্য চিসা বলেন, তারা একে ওপরের সঙ্গে এতটাই যুক্ত যে অনেক সময় একই বিষয় একইভাবে ভাবেন। শুরুতে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারা যেন একটি নাড়ির মাধ্যমে যুক্ত। সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয় তাদের বিশেষ পরিচয়ের ধারণা।

আরও পড়ুন

২০১৬ সালে জাপানের হাজারো আগ্রহীর মধ্য থেকে এক্সজির সদস্যদের বাছাই করা হয়। এরপর ২১ জনকে নিয়ে শুরু হয় কঠোর প্রশিক্ষণ। একই জায়গায় থেকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলত গান, নাচ ও বিভিন্ন ভাষা শেখার অনুশীলন।

2
জাপানি পপ ব্যান্ড এক্সজি

 

প্রশিক্ষণের সময় ছিল অত্যন্ত কঠিন। কখনো কঠোর শাসন, কখনো শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাদের। সদস্য মায়া বলেন, সেই সময় ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা, যেন নিজের সঙ্গে এক যুদ্ধ।

ছয় বছরের প্রস্তুতির পর ২০২২ সালে প্রথম গান প্রকাশ করে এক্সজি। প্রথম গানেই তারা নিজেদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য জানায়। এরপর তাদের বিভিন্ন গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তাদের গানে নব্বইয়ের দশকের সুর, আধুনিক ধাঁচ ও ভবিষ্যতমুখী ভাবনার মিশেল দেখা যায়। ২০২৫ সালে বিশ্বের অন্যতম বড় সংগীত উৎসব কোচেল্লায় অংশ নেওয়া একমাত্র জাপানি দল ছিল এক্সজি।

1
জাপানি পপ ব্যান্ড এক্সজি

 

তবে ব্যান্ডের পথচলায় ব্যক্তিগত এক বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি হন দলের সবচেয়ে ছোট সদস্য কোকোনা। ২০তম জন্মদিনে তিনি নিজের পরিচয় নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন এবং জানান, তিনি নিজেকে পুরুষালি পরিচয় ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যের অংশ হিসেবে দেখেন।

কোকোনার এই সিদ্ধান্তে দলের সদস্যরা পুরোপুরি পাশে দাঁড়ান। ভক্তদের কাছ থেকেও আসে ভালোবাসা ও সমর্থন। কোকোনা বলেন, তার এই প্রকাশ অন্যদের জন্য আশা ও সাহসের কারণ হলে তিনি আনন্দিত।

কোকোনার পরিবর্তনের পর এক্সজি নিজেদের নামের অর্থেও নতুন ভাবনা যোগ করে। আগে ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি গার্লস’ বোঝালেও এখন এটি ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি জিনস’ হিসেবে নিজেদের আলাদা পরিচয় তুলে ধরে।

নতুন গানে তারা নিজেদের পুরোনো ধারা থেকে বেরিয়ে আরও বিস্তৃত সংগীতের দিকে এগোচ্ছে। দলের সদস্যরা বলছেন, তাদের মূল বার্তা হলো—নিজের মতো করে নিজেকে গ্রহণ করা।

আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের ওয়েম্বলি মঞ্চে প্রথমবারের মতো বড় আয়োজনের অনুষ্ঠানে অংশ নেবে এক্সজি। বিশ্ব সফরের অংশ হিসেবে তারা আবারও প্রমাণ করতে চায়, ছয় বছরের কঠিন পরিশ্রম আর বন্ধনের শক্তিই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

সূত্র: বিবিসি 


আরটিভি/জেএমএ 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission