বর্তমান সময়ের শোবিজের পরিচিত মুখ জুয়েল জহুর। ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’ নামের দলটিতে কাজ করছেন বেশ লম্বা সময় ধরে। এখন নাগরিক এর প্রচার সম্পাদক আর নাগরিক নাট্যাংগণ ইনস্টিটিউট অফ ড্রামা এর পরিচালক পর্ষদ সদস্য তিনি। নাগরিক নাট্যাঙ্গনে মঞ্চে কাজ করার পর তিনি পা রাখেন শোবিজ অঙ্গনে। সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকমনে জায়গা করে নিয়েছেন। এরপর তিনি ,‘পোস্ট মাস্টার ৭১’, হৃদি হকের একাত্তরের সেই সব দিন সহ আরও বেশ কিুছ চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।
শুধু চলচ্চিত্র নয়, বর্তমানে নাটক, ওটিটি এবং বিজ্ঞাপনে সমানতালে কাজ করছেন। আরটিভির সঙ্গে কথা হয় জুয়েল জহুরের। সমসাময়িক নানা ইস্যু, নিজের কাজ ও ক্যারিয়ার নিয়ে বেশ খোলামেলাই কথা বলেন এই অভিনেতা।

আরটিভি: বিভিন্ন পেশা থাকতে শোবিজ অঙ্গনে কাজ করার ইচ্ছে হলো কেন?
জুয়েল জহুর: ছোটবেলায় শিশুরা যেমন ভূতের গল্প শুনে ভাত খায়, আমার চাচা আমাকে যাত্রাপালার গল্প শোনাতে শোনাতে ভাত খাওয়াতেন। তখনই মনের মধ্যে প্রশ্ন হতো—যাত্রাটা আসলে কী? এরপর যখন বড় হয়েছি, তখন গ্রামে যাত্রা হলে দেখতে যেতাম। বাবা বারণ করলেও চাচা আমাদের নিয়ে যেতেন। তখন থেকেই চাচার হাত ধরে যাত্রা দেখা শুরু। সেখান থেকেই এই মাধ্যমটার প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়। আমার শৈশব-কৈশোরের বড় একটা সময় কেটেছে মাগুরায়। পত্রিকার বিনোদন পেজগুলোতেই বেশি নজর থাকত তখন। কারণ, আমার প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সম্পর্কে সব ধরনের খবরাখবর আমি সেখান থেকেই জানতে পারতাম।

উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকায় চলে আসি। ঘটনাক্রমে শিল্পকলা কেন্দ্রিক যাতায়াতও বাড়তে থাকে। শিল্পকলায় যখন মঞ্চনাটক দর্শকসারিতে বসে দেখতাম, তখন ভেতরে এক ধরনের অনুভূতি হতো— ‘ইশ! আমিও যদি এই মঞ্চে মন খুলে অভিনয় করতে পারতাম।’
পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই মনে হলো, চাকরি করে শুধু দিন পার করলে ভালো লাগবে না। যদি মঞ্চে কাজ করতে পারি, তাহলে মনের মধ্যে এক ধরনের শান্তি কাজ করবে। অনেক দিনের চিন্তাভাবনা এক জায়গায় জমাট বাঁধার পর মনে হয়েছে, এ মাধ্যমেই কাজ করা উচিত। যেই কথা সেই কাজ অনার্স শেষ হবার আগেই আমি থিয়েটারের সাথে যুক্ত হয়ে যাই।

আরটিভি: অভিনয় ক্যারিয়ারে কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন?
জুয়েল জহুর: শুরুর দিকে চারপাশেই ছিল নেতিবাচক ভাইব। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, এমনকি অনেক পরিচালককেও বলতে শুনেছি— ‘আয়নায় নিজের চেহারা দেখেছ? তোমাকে দিয়ে আর যাই হোক, অভিনয় হবে না।’
সবাইকে বিশ্বাস করানোই ছিল সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। প্রতিবন্ধকতা দূর করার অনেক পদ্ধতি হয়তো আছে, কিন্তু আমি মনে করি, অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়ার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হয় অভিনয়ের মাপকাঠিতেই।
তাই চাওয়ার দৃঢ়তা, আমার বুকশেলফের বইগুলো, নাগরিক নাট্যাঙ্গনে যুক্ত হওয়া—সমস্যা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার পথে এগুলোই ছিল আমার বন্ধু।

আরটিভি: নাটক ও সিনেমা—দুই জায়গাতেই সিন্ডিকেট কাজ করে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। সেই জায়গা থেকে আপনি কখনো সিন্ডিকেটের শিকার হয়েছেন কি?
জুয়েল জহুর: সিন্ডিকেটের দেয়াল এতটাই শক্ত যে, আমি তো সেখানে ঢুকতেই পারিনি। (হাসি)
যতদূর এসেছি, তা বারবার নিজেকে প্রমাণ করেই। সেটা হোক আমার প্রথম সিনেমা নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ-এ নাম ভূমিকায় অভিনয়, কিংবা সম্প্রতি বঙ্গ-তে রিলিজ পাওয়া ওয়েব সিরিজ কানাগলিতে বান্টি হয়ে ওঠা—সবকিছুতেই নিজের জায়গা নিজে বানাতে হয়েছে।

আরটিভি: ওটিটি ও সিনেমায় কাজ করছেন, কমার্শিয়াল সিনেমায় নিয়োমিত হচ্ছেন কবে?
জুয়েল জহুর: সব সিনেমাইতো কমার্শিয়াল যেহেতু কমার্স জড়িত। ভালো এবং বড় প্রজেক্টে কাজ করতে চাই, আমাকে বেইজ করে গল্পের গাথুনি হবে , তেমন কাজ করতে চাই, বাকিটা নির্ভর করছে যারা নির্মান করবেন তাদের উপর।

আরটিভি: আরটিভি: নায়ক নাকি খলনায়ক—কোন চরিত্রে আপনি বেশি আকৃষ্ট বা কোনটি করতে বেশি ইচ্ছুক? আপনি কোনটিকে প্রাধান্য দেবেন?
জুয়েল জহুর: আমার কাছে অভিনয়টাই মুখ্য। নায়ক কিংবা খলনায়, গ্রহনযোগ্যতার মাপকাঠি দর্শকের হাতে।

আরটিভি: অভিনয় শিল্পীরা এখন অনেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
জুয়েল জহুর: সিভিল ও পলিটিকাল রাইটস প্রত্যেক নাগরিকেরই থাকে। অন্য পেশার মানুষ করলে কেউ কিছু বলে না, কিন্তু শোবিজের মানুষ করলে প্রশ্নবিদ্ধ কেন? আমি মনে করি, সব পেশার মানুষই রাজনীতি করতে পারে যদি সেটা তার ইচ্ছা থাকে।

আরটিভি: নতুন কাজ নিয়ে জানতে চাই...
জুয়েল জহুর: সম্প্রতি বঙ্গ-এ মুক্তি পেয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘কানাগলি’। মুক্তির অপেক্ষায় আছে দুটি সিনেমা—‘বকুল কথা’ এবং ‘নাদান’। এছাড়া শুটিং চলছে ‘শাপলা শালুক’ সিনেমার। হাতে রয়েছে ওটিটির বেশ কয়েকটি কাজ এবং আরেকটি সিনেমা।
আরটিভি/এএ/এআর





