বুলগেরিয়ার রোমা বা রোমানি সম্প্রদায়ের এক বিরল এবং বিতর্কিত রীতি হলো ‘বিয়ের হাট’, যেখানে বিবাহযোগ্য মেয়েদের নির্দিষ্ট দিনে সাজিয়ে পাত্রদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এই উৎসবে পরিবারগুলো তাদের কন্যাদের সম্ভাব্য পাত্রদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং পাত্রপক্ষ মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে, পছন্দ-অপছন্দ বিবেচনা করে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এর সঙ্গে মেয়েদের গায়ের রং ও সতীত্বকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিয়ের জন্য মেয়েদের বয়স সাধারণত ১২ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত থাকে। এই প্রথায় মেয়েদের দামও নির্ধারিত হয় এবং অর্থ বা দেনমোহরের ভিত্তিতে বিয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়। রোমা সম্প্রদায়ের কাছে এটি বহু পুরোনো সামাজিক রীতি হলেও বাইরের দৃষ্টিতে এটি এক ধরনের ‘কেনাবেচার’ সংস্কৃতি হিসেবে দেখা হয়।

রোমা জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের প্রান্তিক ও সামাজিকভাবে অবহেলিত অংশ। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাবে তারা এই রীতিকে বিয়ের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ উপায় হিসেবে মনে করে। তবে আধুনিক মানবাধিকার সংস্থা ও সমালোচকরা এই প্রথার বিরুদ্ধে, কারণ এতে মেয়েদের মতামত প্রাধান্য পায় না, আর অল্পবয়সী বিয়ে, নারীর স্বাধীনতা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চনার আশঙ্কা থাকে।

আইনগত বয়স্ক সীমা থাকা সত্ত্বেও রোমা সম্প্রদায়ের অনেক বিয়ে সামাজিক রীতিনীতি অনুসারে অনুষ্ঠিত হয় এবং আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন কম হয়, যার ফলে আইনগত তদারকি দুর্বল হয়।

তবে নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা শিক্ষায় মনোযোগী এবং পারস্পরিক সম্মতিতে বিয়ের পক্ষে। তারা এই ঐতিহ্য থেকে বের হয়ে নারীর অধিকারের জন্য সচেতন হতে চায়, যদিও রক্ষণশীল অংশ এখনো এটিকে সংস্কৃতির অংশ হিসেবে ধরে রাখছে।
রোমা সম্প্রদায়ের ‘বিয়ের হাট’ হলো ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার সংঘাতের প্রতীক। সমাজ ও শিক্ষা যত উন্নত হবে, এই প্রথার পরিবর্তনও তত দ্রুত আসবে—এটাই এখন দেখার বিষয়।
আরটিভি/এসকে





