চিকিৎসায় মানুষের মল ব্যবহার, প্রথমবারের মতো মিললো সত্যতা

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৩:০৩ পিএম


চিকিৎসায় মানুষের মল ব্যবহার, প্রথমবারের মতো মিললো সত্যতা
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো ভৌত প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পেয়েছেন যে প্রাচীন রোমানরা মানুষের মলকে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করত। তুরস্কের গবেষকদের এই আবিষ্কার দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রোমান চিকিৎসাবিষয়ক লিখিত বর্ণনাকে বাস্তব প্রমাণে রূপ দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি জার্নাল অব আর্কিওলজিক্যাল সায়েন্স রিপোর্টস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরে। গবেষণায় বলা হয়, রোমান গ্রন্থে এমন চিকিৎসার উল্লেখ থাকলেও এবারই প্রথম সরাসরি বস্তুগত প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গবেষণার প্রধান লেখক তুরস্কের সিভাস কামহুরিয়াত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ সেনকার আতিলা জানান, ২০২২ সালে প্রকাশিত “কাঁচের বস্তু থেকে বার্গামা মিউজিয়াম” শীর্ষক গবেষণায় কাজ করার সময় তিনি বার্গামা জাদুঘরে সংরক্ষিত কয়েকটি রোমান কাচের বোতলে অবশিষ্ট পদার্থের চিহ্ন লক্ষ্য করেন। তিনি সাতটি ভিন্ন পাত্রে অবশিষ্টাংশ শনাক্ত করলেও দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রাচীন শহর পেরগামনে খনন করা একটি নিদর্শন থেকেই নিশ্চিত ফলাফল পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

পেরগামনে জন্ম নেওয়া গ্যালেন ছিলেন একজন প্রখ্যাত শারীরস্থানবিদ এবং তিনজন রোমান সম্রাটের চিকিৎসক। তার চিকিৎসাবিষয়ক লেখাগুলো প্রায় ১,৫০০ বছর ধরে চিকিৎসা জগতে প্রভাব বিস্তার করে। আতিলা বলেন, গ্যালেন যে ওষুধের কথা লিখেছিলেন, সেই ওষুধের বাস্তব নমুনা খুঁজে পাওয়া ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর ও উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা।

gettyimages-2201114790.jpg?c=original&q=w

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, প্রাচীন লেখায় মানুষের ও পশুর মল প্রদাহ, সংক্রমণ এবং প্রজননজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এসব উপাদান নিয়ে আলোচনা প্রায়ই সতর্কতার সঙ্গে বা রূপক ভাষায় করা হলেও সেগুলোকে অযৌক্তিক হিসেবে দেখা হয়নি; বরং প্রাচীন চিকিৎসাবিদ্যায় এগুলো কার্যকর উপাদান হিসেবে বিবেচিত ছিল।

আতিলা বলেন, এই গবেষণা প্রমাণ করে যে লিখিত ঐতিহ্যের চিকিৎসা-পদ্ধতি এখন প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত হলো। একই সঙ্গে এটি দেখায়, আধুনিক চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ‘ফিকাল ট্রান্সফার’ বা মল স্থানান্তর পদ্ধতির ধারণা প্রাচীনকালেও পরিচিত ছিল। এ পদ্ধতিতে সুস্থ ব্যক্তির মল থেকে উপকারী মাইক্রোবায়োটা সংগ্রহ করে রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় পাওয়া কাচের বোতলগুলো সাধারণত সুগন্ধি রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো। তবে সংশ্লিষ্ট বোতলটি পরে চিকিৎসার কাজে পুনঃব্যবহার করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে থাইম নামের এক ধরনের ভেষজ উদ্ভিদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী গুণের জন্য পরিচিত এবং দুর্গন্ধ দমনে সহায়ক।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বোতলটি খোলার সময় কোনো উল্লেখযোগ্য গন্ধ পাওয়া যায়নি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ইতিহাসের এমেরিটাস অধ্যাপক নিকোলাস পারসেল বলেন, অনুসন্ধানটি বৈজ্ঞানিকভাবে যথেষ্ট শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তার মতে, রোমান লেখায় এ ধরনের চিকিৎসার উল্লেখ থাকায় ফলাফল খুব বিস্ময়কর নয়; তবে লিখিত ঐতিহ্যকে প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের সঙ্গে যুক্ত করা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও পড়ুন

পারসেল আরও জানান, বোতলটি জাদুঘরে পৌঁছানোর আগে কোন প্রেক্ষাপটে উদ্ধার হয়েছিল তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। তার ধারণা, এটি কোনো সমাধি থেকে উদ্ধার হয়ে থাকতে পারে, যেখানে কোনো চিকিৎসক বা রোগীর সঙ্গে এটি কবর দেওয়া হয়েছিল। এতদিন ধারণা ছিল, সমাধিতে পাওয়া ছোট কাচের পাত্রে মূলত সুগন্ধি বা প্রসাধনী থাকত। নতুন এই গবেষণা সেই ধারণার পরিসর আরও বিস্তৃত করতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission