ভালোবাসা বিভিন্ন অনুভূতি, অবস্থা এবং মনোভাব যা আকর্ষণ থেকে শুরু করে আনন্দ বা সন্তুষ্টি পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি একটি অনুভূতি এবং শক্তিশালী আকর্ষণ যা ব্যক্তিগত সংযুক্তিকে নির্দেশ করে। একটি গভীর টানের এক তীব্র অনুভূতি। ভালোবাসার প্রতিশব্দ ব্যবহার করা হয়। যেমন, স্নেহ, আবেগ-প্রবণতা, উষ্ণতা, অন্তরঙ্গতা, আদর, ভক্তি, শ্রদ্ধা, নিবেদন, অনুরাগ, পূজা, ব্যগ্রতা, ইচ্ছা, লিপ্সা, মোহ ইত্যাদি। কিন্তু এসব প্রতিশব্দ দিয়ে ভালোবাসাকে বোঝানো সম্ভব নয়। ‘ভালোবাসা’-শব্দটি এক বিশাল ব্যঞ্জনা। ভালোবাসা বর্ণনাতীত। এটা শুধু অনুভব করা যায়। শব্দ দিয়ে এ অনুভূতি বর্ণনা করা যায় না। ভালোবাসা এমন কিছু যে, শুধু অনুভূতি তা বর্ণনা করতে পারে। ভালোবাসার অনুভূতি হয় তখনই যখন আপনি দেখতে পান বা ভাবেন যে কেউ একজন আপনার হৃদয়কে পরিপূর্ণ, বিশুদ্ধ এবং অনন্য এক সুখে ভরে দিয়েছে।
অনেকেই বলেন ভালোবাসা সার্বজনীন। এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। মা-বাবা, সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, প্রতিবেশী আরো কতো শত মানুষ। শুধু মানুষ নয়, নদীর স্বচ্ছ জলধারা, পাহাড়ের নীরবতা, সমুদ্রের বিশালতা, বনভূমির নির্জনতা, পাতার মর্মর ধ্বনি, ফুলের বর্ণময়তা কিংবা মাতাল করা সৌরভ, প্রাণীর প্রতি গভীর টান এমনকি কবিতার চিত্রকল্প, উপন্যাসের মগ্ন চরিত্র কিংবা, হৃদয় আকুল করা গানের কথা কিংবা সুর, শিল্পীর ক্যানভাসের জল কিংবা তেল রং, বছরের পর বছর মনের মাঝে গেঁথে থাকা চলচ্চিত্রের সে দৃশ্য ইত্যাদি সব কিছুতেই তো জড়িয়ে রয়েছে ভালোবাসা। এ ভালোবাসা সবার জন্য। এ ভালোবাসা সর্বব্যাপী।
ভালোবাসা আসলে কী
ভালোবাসা স্বত:স্ফূর্ত এক অনুভূতি। এর প্রকাশ সহজ মনে হলেও ভালোবাসার মধ্যে রয়েছে জটিলতা এবং বহুমাত্রিকতা। ভালোবাসা আসলে কী তা বুঝতে হলে ‘ভালোবাসা’ ধারণাটিতে কোন উপাদান রয়েছে সেটি জানতে হবে। সাধারণভাবে মানসিক আকর্ষণ, কল্যাণ কামনা, বস্তুগত এবং ভাবগত স্বার্থ, জ্ঞান, আবেগ, ইচ্ছা এবং প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উপাদান হচ্ছে দৈহিক কামনা। ভালোবাসার সাধারণ উপাদান ৬টির একটিকে বাদ দিলেও ভালোবাসা হয় না। ভালোবাসাকে আধার না ধরে, ভাবের বস্তুটিকে আধার ধরতে হবে। ভাবের বস্তুটি যে প্রকৃতির তা বুঝতে হবে। এখানে ব্যক্তি হচ্ছে তার নির্দেশক। যেমন, ভালোবাসার পাত্র ‘মা’ হলে যা বোঝাবে, ‘প্রেমিকা’ হলে তা বোঝাবে না। প্রেমিক বা প্রেমিকা যখন ভালোবাসার আধার তখন কামভাব বা ‘দৈহিক কামনা’ থাকবে।
নারী ও পুরুষের সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভালোবাসার সম্পর্ক বোঝাটা বেশ কঠিন। আরো কঠিন যেখানে নারী ও পুরুষ বিপরীত লিঙ্গ বা সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বোধ বা সাড়া প্রদান করে। এখানে শারীরিক কল্পনা, বিয়ে, যৌনতা, আনন্দ বা তৃপ্তি ও প্রজনন ইত্যাদি বহুবিধ বিষয় জড়িত। অন্তরঙ্গ সম্পর্কের ক্ষেত্রে যৌন অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষা থাকে। যৌন অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষা মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু ফ্রয়েড এবং ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্বের সমর্থকগণ যারা মনে করেন, সব প্রেমের উৎস হচ্ছে কাম তাদের সাথে এ আলোচনার মিল পাওয়া যাবে না। এ ভালোবাসা বুঝানোর জন্য হয়তো বাংলা ভাষার আর একটি শব্দ ‘প্রেম’ ব্যবহার করা যেতো। কিন্তু ‘প্রেম’ শব্দটির সঙ্গে দেশপ্রেম, প্রকৃতি প্রেম, ঈশ্বর প্রেম সবই জড়িয়ে আছে। তাই এখানে ‘ভালোবাসা’ শব্দই ব্যবহার করা হয়েছে।
ভালোবাসা কী আবেগ না অন্য কিছু
ভালোবাসা প্রায়শ' আবেগতাড়িত হয়। কিন্তু এটি অসাধারণ শক্তিশালী কিছু একটা। বিজ্ঞানীরা মুখের অভিব্যক্তি দিয়ে আবেগকে ব্যাখ্যা কারার চেষ্টা করেছেন। সুখ, দুঃখ, বিরক্তি, রাগ, বিস্ময় এবং অন্যান্য মৌলিক আবেগ মুখের ওপর সহজে দেখা যায়। কিন্তু ভালোবাসা একটি উদ্যম (drive) এবং একটি প্রেরণা। এটি মুখের কোন নির্দিষ্ট অভিব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত নয়। বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক রবার্ট প্লুটচিক (Robert Plutchik) তাঁর তত্ত্বে ৮টি প্রাথমিক আবেগের কথা বলছেন। যেমন, ভয়, রাগ, বিষণ্ণতা, আনন্দ, বিতৃষ্ণা বোধ, বিশ্বাস, প্রত্যাশায় সাড়া, বিস্ময়। এ ৮টি প্রাথমিক আবেগের মধ্যে ভালোবাসার কোনো স্থান নেই। যখন প্রয়োজন আবেগ শুধু তখনই দেখা দেয়। সাধারণভাবে আবেগ পরিবর্তিত হয়। পরিবেশের প্রতিক্রিয়ায় আবেগের পরিবর্তন হয়। আবেগ নিজে বারবার পুনরাবৃত্তি করে কিংবা বহুবার একই তীব্রতা নিয়ে আসে। তখন কিছু ভুলও হয়। কিন্তু প্রকৃত ভালোবাসা এবং সুস্থির প্রতিশ্রুতি সারা জীবন এবং মৃত্যুর পরেও অন্তহীন সময়কাল জুড়ে ফিরে ফিরে আসে। ভালোবাসা শুধু পরিবেশ প্রতিক্রিয়ায় বাড়ে বা কমে না। এটা হাওয়া বদলের মতো করে পরিবর্তিত হয় না। ভালোবাসা শুধু একটি আবেগ নয়; আবেগ যেভাবে আচরণ করে ভালোবাসা তেমনটা করে না। প্রকৃত ভালোবাসার নিজস্ব একটা ধরণ আছে।
ভালোবাসার রকমফের
আসলে ভালোবাসার বিভিন্ন ধরন বর্ণনা করা বেশ কঠিন। অনেকে ভালোবাসাকে রহস্যময় ভালোবাসা (mystical love) বা বিশুদ্ধ ভালোবাসা (pure love) হিসেবে চিহ্নিত করেন। এটা ভালোবাসার অন্য দু'ধরনের তুলনায় অনেক দুর্লভ। যেহেতু আত্মপ্রেম (love mode of narcissism) নিজের মধ্যে নিবদ্ধ থাকে এবং অন্যকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে ঈর্ষা (love mode of jealousy) থাকে কিন্তু বিশুদ্ধ ভালোবাসায় কোনো উদ্দেশ্য থাকে না। এটি হঠাৎই আসে এবং সবকিছুর প্রতি এটি উদ্যমের মোহন একটি প্রবাহ। শুধু সে সময় একজন ভালোবাসা অনুভব করে যখন কেউ কারো ভালোবাসায় আচ্ছন্ন হয়। তারপর সমগ্র পৃথিবী একটা জাদুর মতোই বিস্ময়কর জগতে রূপান্তরিত হয়। আবার যখন সে জাদু ঝরে পড়ে, ভালোবাসার সে অনুভূতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় এবং ভালোবাসার মাঝে দেখা যায় ঈর্ষা। কিন্তু কিছুটা যৌক্তিকতা আনার প্রয়োজনে এখানে শুধু ‘রোমান্টিক ভালোবাসা’ এবং ‘অঙ্গীকারবদ্ধ ভালোবাসা’র কথা বলতে হচ্ছে।
রোমান্টিক ভালোবাসা : এ ভালোবাসার বৈশিষ্ট্য ‘... পছন্দের ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার, বাড়তি মনোবল, ছন্দময় মন, সহানুভূতি, কখনো ঘাম ঝরানো কখনো নিষ্পেষিত হৃদয়, মানসিক নির্ভরতা, যৌন ইচ্ছা অত্যধিক চিন্তা, সংযুক্ত দেহভঙ্গি, লক্ষ্যভিত্তিক আচরণ, তীব্র প্রেরণা, প্রজনন অংশীদারিত্ব বজায় রাখার জন্য আয়োজন ইত্যাদি। স্নায়ুবিজ্ঞানীরা রোমান্টিক ভালোবাসা মগ্ন মানুষের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করেছেন। তাদের মস্তিষ্কের কিছু এলাকা বিচারকের ভূমিকা এবং নিজেকে প্রতিফলিত করে। রোমান্টিক ভালোবাসায় বাইরের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য ব্যক্তি সম্পর্কে রায় নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য এবং অন্যান্য বোধ হারিয়ে যায়। আরেকটি দৃষ্টিকোণ থেকে ধারণা করা হয় এ ভালোবাসা শুধু মনের মধ্যের মোহাচ্ছন্নতা বা বিভ্রম থেকে আসে। কিছু সমাজবিজ্ঞানী কীভাবে রোমান্টিক ভালোবাসা মিডিয়াতে চিত্রিত এবং একটি ফ্যান্টাসি তৈরি করার মাধ্যমে বরাবর দেখানো হয় তা বিশ্লেষণ করেছেন। এ ভালোবাসায় একটি ‘ঐন্দ্রজালিক অন্যান্য’ সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। যখন বাস্তবতার সঙ্গে মেলানো হয়, তখন সেটি খুঁজে পাওয়া যায় না। বিশ্লেষণমুখী মনোবিজ্ঞানীদের (Jungian) মতে, এই ভালোবাসা নিজের খুব ভেতরের প্রধান একটি অংশের ‘প্রতিফলন’। সাধারণত নতুন কারো সঙ্গে পরিচিত হলে এবং ‘ঝলমল করে দ্যুতি ছড়ালে’, আমাদের কল্পনা থেকে সব বিস্ময়কর বিষয় সেখানে যুক্ত করি। এটা মূলত বাস্তবতাকে অনেক আড়ম্বরপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা। অনেকটা দেব-দেবীর মতো অবস্থা। যেন একদম ‘নিখুঁত’ সে। যখন তার সম্পর্কে আমাদের কাছে খুব সামান্য তথ্য থাকে তখন আমরা নিজেদের কল্পনা এবং বিশ্বাসের মাধ্যমে তা পূরণ করে থাকি। রোমান্টিক ভালোবাসায় বাস্তব মানুষ হিসেবে আমরা অনেক সময় সঙ্গীদের সঙ্গে সংযুক্ত হই।
অঙ্গীকারবদ্ধ ভালোবাসা: এ ধরনের ভালোবাসার গল্প অনেক ভিন্ন। এটা ঝলমল করে না কিন্তু এখানে- সেখানে জন্য একটি মুহূর্ত। অঙ্গীকারবদ্ধ ভালোবাসা স্বাভাবিক জীবন একসঙ্গে ভাগাভাগি করে। এটা সমর্থন, অনুরক্ত, সদয় দেখাশোনা, প্রতিশ্রুতি ,দায়িত্বশীলতা এবং অনুগত থাকে। দীর্ঘমেয়াদী দম্পতিদের জন্য এটি স্বাস্থ্যকর এবং চিন্তা করা যেতে পারে যে ‘প্রেমে নিমগ্ন’। মনোবিজ্ঞানের বিখ্যাত লেখক রবার্ট জনসন একে বলেছেন ‘রোমাঞ্চকর যবের তৈরি খাবার’(stirring the oatmeal) আর বর্ণনা করেছেন ‘... আটপৌরে সাধারণ জীবনে একসঙ্গে চলার ইচ্ছা, জীবনধারণের জন্য রোজগার, বাজেটের মধ্যে জীবনযাপন, আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা, মাঝরাতে শিশুকে খাওয়ানো। দু’মুঠো খাবার থেকে শুরু করে চিন্তা-চেতনায় সম্পর্কিত হওয়া। সাধারণ জিনিসের মাঝেও সৌন্দর্য বিদ্যমান। চিরকাল শুধু মহাকাব্যিক নাটকের দাবি নয়, একটি বিনোদন কিংবা সবকিছুতেই অসাধারণ গভীরতার দাবি নয়। এটা একটি পবিত্র আবিষ্কারের প্রতিনিধিত্ব করে যা বিনম্র এবং সাধারণ। অঙ্গীকারবদ্ধ ভালোবাসা রাতারাতি ঘটে না। এ ভালোবাসায় সময় লাগে। অঙ্গীকারবদ্ধ ভালোবাসা একগামী হতে সাহায্য করে। অঙ্গীকারবদ্ধ ভালোবাসায় দম্পতিরা একসঙ্গে থাকার পুরস্কারের উপলব্ধি পেতে পারে। অনেকেই মনে করেন এ ধরনের ভালোবাসা ভিত্তি হলো আকর্ষণ। কিন্তু ‘সুস্থ সম্পর্কের মাঝে অঙ্গীকার’ বিষয়ক এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে ভালোবাসায় একে অপরের প্রতি অঙ্গীকারের জন্যও প্রয়োজন নিয়মিত সমর্থন, মমত্ব এবং বন্ধুত্ব।
ভালবাসার অন্তহীন পথ পরিক্রমা
ভালোবাসা ‘রোমান্টিক’ নাকি ‘অঙ্গীকারবদ্ধ’ এ নিয়ে রয়েছে বিস্তর মতবিরোধ, তর্ক-বিতর্ক। ভালোবাসার হাসি-কান্না, ভালোবাসার আনন্দ-বিষাদ, ভালোবাসার বর্তমান-ভবিষ্যতের সব পাজল টুকরোগুলি একসঙ্গে করা খুব কঠিন। প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হয়। যৌন আকাঙ্ক্ষা, সংযুক্তি এবং ভালোবাসার মধ্যে যেমন পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে তেমনি রয়েছে বিস্তর ফরাক। স্থান, কাল, পাত্র ভেদে বিরাট তারতম্য। ক্ষমতার তারতম্যের কারণে নারী-পুরুষের ভালোবাসার মধ্যে অনেক পার্থক্য তৈরি হয়। এমনকি সম্পর্ক যুক্ত সঙ্গীদের মধ্যেও ক্ষমতার তারতম্য হয়। বিয়ের মাধ্যমে নারী-পুরুষ বা সঙ্গীদের মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরী হয় তা বৈষম্যমূলক। বিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের মধ্যে ‘অঙ্গীকারবদ্ধতা’ তৈরি করে না। কখনো কখনো এ বৈষম্যমূলক অবস্থাটা বুঝতে না পারার কারণে ভালোবাসা নিয়ে মিশ্র অনুভূতি এবং বিভ্রান্তি তৈরি হয়। কেউ কেউ বলবেন ‘অঙ্গীকারবদ্ধতা উহু খুব বিরক্তিকর শোনাচ্ছে!’ হ্যা, আমাদের সম্পর্ক যদি ভালোবাসার চেয়ে সবসময় উত্তেজনা দেখানোর মধ্যে বিকাশ লাভ করে তাহলে অবশ্যই এটা বিরক্তিকর। আবার কেউ বলেন যখন রোমান্টিক ভালোবাসার আগুন বিবর্ণ হয়ে যায় তখন অঙ্গীকারবদ্ধ ভালোবাসা শুরু হয়। ‘রোমান্টিক’ বনাম ‘অঙ্গীকারবদ্ধ’ ভালোবাসা নিয়ে বিতর্কের সহজ কোনো সমাধান নাই। অনেক মানুষ উদ্বিগ্ন হয় যখন তারা রোমান্টিক ভালোবাসা থেকে অঙ্গীকারবদ্ধতার দিকে যায়। তারা মনে করে সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা ‘ভুল’ অথবা তারা ‘ভালোবাসা থেকে দূরে’। কিন্তু সম্পর্ক অঙ্গীকারবদ্ধ হলেও ভালোবাসা সবসময় সহজ নয়। সম্পর্কের মাঝেও উত্থান ও পতন থাকে। অনেক মনোবিজ্ঞানী বলছেন মানুষের একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক এবং একটি উত্তেজনাপূর্ণ জীবন একসঙ্গে থাকতে পারে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন দীর্ঘকাল ধরে সম্পর্কের মাঝে খুটো-খুটির চেয়ে দু’জনে মিলে ছুটিতে যেতে, কিছু কাজ গুটিয়ে নিতে, ভালোবাসার মধ্যে নতুন কিছু অন্বেষণ করতে। একটি অঙ্গীকারবদ্ধ সম্পর্কেও রোমান্সের ভালো এবং মন্দ দিককে অতিক্রম করতে হয়। পারস্পরিক মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে যেমন রোমান্টিকতা থাকে তেমনি অঙ্গীকারবদ্ধতা তৈরী হয়। তখন দু’জনে একসঙ্গে তাদের পছন্দমত একটি জীবন অতিবাহিত করতে পারে।
সহায়ক তথ্যসূত্র:
1. Fisher et al. Reward, Addiction, and Emotion Regulation Systems Associated With Rejection in Love. Journal of Neuropsyiology. 2010
2. Johnson.We: Understanding the Psychology of Romantic Love. Harper. 1985.
3. The Nature of Emotions, Robert Plutchik,American Scientist, Volume 89, 2001. http://www.americanscientist. org /article/01 article/plutichik
4. Xu et all . Reward and motivation systems: A brain mapping study of early-stage intense romantic love in Chinese participants. Human Brain Mapping. 2010
আবু রাকিব, উন্নয়ন সংগঠক ও গবেষক




