শিশুর টিকা কেন জরুরি? কখন কোন টিকা দিতে হবে

আরটিভি নিউজ  

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:২৮ এএম


শিশুর টিকা কেন জরুরি? কখন কোন টিকা দিতে হবে
ছবি: সংগৃহীত

শিশু জন্মের পর থেকেই তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল থাকে। তাই এই সময় থেকেই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, টিকা শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে এবং মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা শুধু ব্যক্তিগত সুরক্ষা নয়, বরং একটি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জন্মের পর থেকেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের টিকা দেওয়া হয়।

সরকারি টিকা: বিনামূল্যে সুরক্ষার ব্যবস্থা

সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, পোলিও, পিসিভি, এমআর এবং ডিপিটিসহ বিভিন্ন টিকা। বিসিজি টিকা শিশুকে যক্ষ্মা থেকে সুরক্ষা দেয়। পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি ও হিব সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। পোলিও টিকা শিশুকে স্থায়ী পক্ষাঘাতের ঝুঁকি থেকে বাঁচায়। পিসিভি টিকা নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস ও রক্তে সংক্রমণ প্রতিরোধে কাজ করে। এমআর টিকা হাম ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা দেয়, যা শিশু ও গর্ভবতী মায়ের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রোগ। এছাড়া ডিপিটি, টিটি ও টিডি টিকা ধনুষ্টংকার ও ডিপথেরিয়ার মতো মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। জলাতঙ্কের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য সরকারি হাসপাতালে র‌্যাবিস টিকাও দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

বেসরকারি টিকা: অতিরিক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা

সরকারি টিকার পাশাপাশি কিছু বেসরকারি টিকা অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে রোটা ভাইরাস, ভারিসেলা, হেপাটাইটিস এ, টাইফয়েড, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এমএমআর, এইচপিভি এবং মেনিনজোকক্কাল টিকা। এই টিকাগুলো শিশুদের ডায়রিয়া, জলবসন্ত, টাইফয়েড, ফ্লু এবং বিভিন্ন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

কখন কোন টিকা দিতে হবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের পর প্রথম ছয় মাসে বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, পোলিও ও পিসিভি টিকার নির্ধারিত ডোজ দেওয়া হয়। এরপর ধাপে ধাপে ৬ সপ্তাহ, ১০ সপ্তাহ ও ১৪ সপ্তাহে এসব টিকার বাকি ডোজ সম্পন্ন করা হয়। ৯ মাসে এমআর টিকা এবং ১৫ মাসে এর বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়। এক বছর বয়সের পর হেপাটাইটিস এ টিকা, ১৮ মাসে ডিপিটি ও পোলিও বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়। দুই বছর বয়সের পর টাইফয়েডসহ অন্যান্য বেসরকারি টিকা দেওয়া যেতে পারে। ৫ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়ার আগে ডিটি টিকা দেওয়া হয়। ১০ বছর বয়সের পর থেকে কিশোরীদের জন্য এইচপিভি টিকা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

চিকিৎসকরা বলছেন, টিকা গ্রহণের নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। এতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

সব মিলিয়ে, টিকা শুধু একটি চিকিৎসা নয়, বরং শিশুর সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


আরটিভি/জেএমএ 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission