ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস আজ

দেশে আক্রান্ত রোগী ৭০ হাজারের বেশি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
প্রতীকী ছবি

থ্যালাসেমিয়া মূলত বংশগত রক্তস্বল্পতাজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্তরা ছোট বয়স থেকেই রক্তস্বল্পতায় ভুগে থাকে। দেশে বংশগত রক্তরোগ থ্যালাসেমিয়া রোগী দিনদিন বাড়ছে। ৮ বছরে বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। প্রতিবছর ৬ থেকে ৮ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে।

বর্তমানে দেশে ৭০ হাজারের বেশি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সারা বিশ্বের মতো আজ দেশে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস-২০২৬’। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য-‘আর নয় আড়ালে : শনাক্ত হোক অজানা রোগী, পাশে দাঁড়াই অবহেলিতদের’।

দিবসটি উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি জটিল বংশগত রক্তরোগ; যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। রক্তরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানবকোষে রক্ত তৈরি করার জন্য দুটি জিন থাকে। কোনো ব্যক্তির রক্ত তৈরির একটি জিনে ত্রুটি থাকলে তাকে থ্যালাসেমিয়া বাহক বলে। আর দুটি জিনেই ত্রুটি থাকলে তাকে থ্যালাসেমিয়া রোগী বলে। তবে, সব বাহকই রোগী না। শিশু জন্মের এক থেকে দুই বছরের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া রোগ ধরা পড়ে। এই রোগের লক্ষণগুলো হলো-ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, ঘনঘন রোগ সংক্রমণ, শিশুর ওজন না বাড়া, জন্ডিস, খিটখিটে মেজাজ প্রভৃতি।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মমতাজ জাহান কলি বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের নিবন্ধিত রোগী ছিল ২ হাজার ৭২৫ জন। ২০১৯ সালে ৩ হাজার ৯৮ জন, ২০২০ সালে ৩ হাজার ৪১৬ জন, ২০২১ সালে ৪ হাজার ৯৪১ জন, ২০২২ সালে ৬ হাজার ৫৫ জন, ২০২৩ সালে ছিল ৭ হাজার ২২ জন এবং ২০২৪ সালে ৭ হাজার ৫১১ জন। ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৪৬ জন রোগী পাওয়া গেছে।

ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। যাদের চিকিৎসায় বছরে ৩৬ হাজার ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদার তুলনায় মাত্র ১৮ শতাংশের জোগান দেওয়া সম্ভব হয়। একজন রোগীর চিকিৎসা বাবদ মাসে কমপক্ষে ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়।

বিশ্বের ১.৫ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়া বহন করছে। অর্থাৎ ৮ থেকে ৯ কোটি মানুষ এই রোগের বাহক। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় থ্যালাসেমিয়ার প্রাদুর্ভাব ৩ থেকে ১০ শতাংশ।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, দেশের ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক, যা মোট জনসংখ্যার ১১.৪ শতাংশ। ২০১৪-১৫ সালে বাংলাদেশে ৭ থেকে ৮ শতাংশ মানুষ এ রোগের বাহক ছিল। গ্রামাঞ্চলে থ্যালাসেমিয়ার বাহক ১১.৬ এবং শহরে ১১.০ শতাংশ।

আরও পড়ুন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, থ্যালাসেমিয়া বাহকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রংপুরে ২৭.৭ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাজশাহীতে ১১.৩ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা চট্টগ্রামে ১১.২ শতাংশ। এছাড়া ময়মনসিংহে ৯.৮, খুলনায় ৮.৬, ঢাকায় ৮.৬, বরিশালে ৭.৩ এবং সিলেটে সবচেয়ে কম ৪.৮ শতাংশ। ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়সিদের মধ্যে এই বাহক রয়েছে ১১.৯ শতাংশ, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সিদের ১২ শতাংশ, ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের ১০.৩ শতাংশ এবং ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ১১.৩ শতাংশ।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক বলেন, রোগটি নির্ণয়ের টেস্ট যদি এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার সময় বাধ্যতামূলক বা উৎসাহ দিয়ে করা যায়, অথবা প্রসূতি নারীদের এন্টিনেটাল কেয়ারের (এএনসি) সময় মা থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না, সেটা জানা যাবে।

তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। সবকিছু হচ্ছে অটোলোগাস, অর্থাৎ আক্রান্ত নিজেরই বোনম্যারো দিয়ে নিজেরটা সারানোর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু ট্রান্সপ্লান্টের মূল সাফল্য হলো এলোজেনিক ট্রান্সপ্লান্ট, সেটা বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত থ্যালাসেমিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে করতে পারিনি। এই ধরনের রোগীর আসলে বেঁচে থাকার সুযোগ কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধযোগ্য। বাহকদের মধ্যে বিয়ে বন্ধ করে সাইপ্রাস, ইতালি ও গ্রিসের মতো দেশ থ্যালাসেমিয়া রোগী প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে। সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা পেলে থ্যালাসেমিয়া রোগী সুন্দর জীবনযাপন করতে পারে। এই রোগের চিকিৎসায় সরকারকে ভর্তুকি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এদিকে, বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন মালিবাগ কার্যালয়ে সচেতনতামূলক র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি, মেডিকেলের হেমাটোলজি বিভাগসহ বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব খাটিয়ে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (৪ নভেম্বর) বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিইনি। এতে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চাপ আসছে। কিন্তু মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবে, এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। দেশে চিকিৎসা শিক্ষার বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টন তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজই ঢাকা বিভাগে পুঞ্জীভূত। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। সংসদ বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ চাওয়ার মতো জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতা পরিহার করে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন না করলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন। সন্তানদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
পেছালো মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা
আগামী ৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ২০২৬-২৭ সেশনের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আরও কিছুদিন পিছিয়ে পরীক্ষাটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন। অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, পূর্বনির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে এখনও নতুন তারিখ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এইচএসসি ও সমমানের পুনঃপরীক্ষায় (সাপ্লিমেন্টারি) অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী হবে, তার ওপর নির্ভর করছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার নতুন তারিখ। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এডিজি রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বর্তমানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ পাবে কিনা, এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।  এ ছাড়া এখনও ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি। সেটি চূড়ান্ত হলেও আমরা সে অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে পারব। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি বা বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। এ বছর পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।  এমন পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ পরীক্ষা নেওয়া এবং একই মাসের শেষে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা চলতি শিক্ষাবর্ষেই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবেন। আরটিভি/টিআর
পেছালো মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা
ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৮৬৬
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৬ জন। বুধবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৪ জন রোগী। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী।  এছাড়া চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে মোট ৪৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি রয়েছে ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৮৬৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ঢাকা বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ২৮৪ জনে এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১২ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার ফলে মোট আক্রান্ত বেড়ে ২১ হাজার ৪৪৭ জনে এবং মোট মৃত্যু ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হলেও এই সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে এই বিভাগে এখন পর্যন্ত মোট ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ৮৮৬ জন। রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৭১ জন (মৃত্যু নেই), মোট আক্রান্ত ১১ হাজার ৫২ জন এবং মোট মৃত্যু ২৯ জন। অন্যদিকে রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যেখানে মোট আক্রান্ত ৪ হাজার ৯৮০ জন এবং এ পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২০৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, ফলে এই বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৭১২ জনে এবং মোট মৃত্যু ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। তুলনামূলক কম আক্রান্ত হওয়া সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩ জন, এবং এ পর্যন্ত এই বিভাগে মোট ৯১২ জন আক্রান্ত ও ৪ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। আরটিভি/টিআর
ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৮৬৬
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৯ জনে। বুধবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩২৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৪৮ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ১৫০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হাম উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৫ জনের। বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৬ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ জন, সিলেট বিভাগে ১ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা জেলাতেই সর্বোচ্চ ৪ জনের মৃত্যু নিবন্ধিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫২০ জন নতুন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৩১ জন, বরিশালে ১৫৮ জন, সিলেটে ১৪৪ জন, খুলনায় ৯৭ জন, ময়মনসিংহে ৯১ জন এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ৪২ জন করে রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৬৩৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২০৬ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ১৪২ জন। আরটিভি/টিআর
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’র সেবা পেয়েছেন ৬ লাখেরও বেশি রোগী
সৌদি আরবের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ফলে অবহেলিত গড়ইখালী ও আশপাশের অঞ্চলের দুস্থ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য বঞ্চনার অবসান হতে চলেছে।
বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’র সেবা পেয়েছেন ৬ লাখেরও বেশি রোগী
আরও পড়ুন
থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে: প্রধানমন্ত্রী