ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

হামের ঊর্ধ্বগতি রোধে কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের পরামর্শ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ১১:৩১ এএম
প্রতীকী ছবি

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিরোধ কার্যক্রমে কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবাকে চিকিৎসার মূল কেন্দ্রে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান, পুষ্টি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক রোগতাত্ত্বিক নজরদারির সমন্বয়ে একটি সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ ছাড়া এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে অপরিহার্য।

প্রখ্যাত মহামারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, সম্মুখসারির স্বাস্থ্যসেবাই হলো প্রধান রক্ষাকবচ।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কমিউনিটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগ কেবল বর্তমান হামের পুনরুত্থানই ঠেকাবে না, বরং ভবিষ্যতে যেকোনো জনস্বাস্থ্য হুমকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ রোগ শাখার সাবেক লাইন ডিরেক্টর ড. বড়ুয়া বলেন, কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদেরই এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণই হবে মূল চাবিকাঠি।

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএসটিসি)’র সাবেক উপাচার্য ড. বড়ুয়া বলেন, ‘কমিউনিটি পর্যায়ে নজরদারি ও দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’

তিনি তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী রোগতাত্ত্বিক নজরদারি চালানোরও পরামর্শ দেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ কর্মীদের মতো কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগী শনাক্ত, লক্ষণ পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও রিয়েল-টাইম রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে তাদের প্রচেষ্টা জোরদার করছেন। একইসঙ্গে তারা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখছেন।

ড. বড়ুয়া বলেন, ‘কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরাই স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন।’

বিশেষজ্ঞরা জানান, মাতৃকালীন অপুষ্টি, কম ওজনের শিশু জন্ম এবং সঠিক শিশুখাদ্য অভ্যাসের অভাবের মতো কাঠামোগত সমস্যাও শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে হামসহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

আরও পড়ুন

টিকাদান কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা
সরকার ২০২৬ সালের এপ্রিলে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে দেশব্যাপী জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করে।

ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও ও গ্যাভি’র সহায়তায় ৫ এপ্রিল থেকে ৩০টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় শুরু হওয়া এই কার্যক্রম ২০ এপ্রিলের মধ্যে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে।

সংক্রমণের কারণ ও ঝুঁকি
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, দেশের ৫৮টি জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পেছনে মূল কারণ ছিল কোভিড-১৯ মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটা।

তৎকালীন সরকারের সময়ে লকডাউন, সরবরাহ সংকট এবং টিকা নিয়ে দ্বিধার কারণে সে সময় অনেক শিশু নির্ধারিত ডোজ থেকে বঞ্চিত হয়।

শিশু রোগ ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বেগম শরীফুন নাহার বলেন, ‘আমরা এখন সেই ঘাটতির ফল ভোগ করছি।’

তিনি জানান, এমনকি টিকা নেওয়ার নির্ধারিত বয়সের চেয়ে ছোট শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, একজন আক্রান্ত শিশু সর্বোচ্চ ১৮ জন সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে।

লক্ষণ ও সতর্কতা
চিকিৎসকদের মতে, হামের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হওয়া। পরে কানের পেছন থেকে শুরু করে শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

রোগ জটিল আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস, অন্ধত্ব কিংবা কানের সংক্রমণ হতে পারে। শ্বাসকষ্টকে বিপজ্জনক লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান পরিস্থিতি
গত ৬ মে দেশে ১৫ লাখ ডোজ হাম-রুবেলা (এমআর) এবং ৯ লাখ ডোজ টিটেনাস-ডিপথেরিয়া (টিডি) টিকার নতুন চালান এসেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে টিকার কোনো সংকট হবে না।

তিনি বলেন, আগের সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের কারণে ইপিআই কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমান প্রশাসন এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ মে পর্যন্ত সম্ভাব্য হাম নিয়ে মোট ৩৩ হাজার ৬৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৭৪৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তথ্যানুসারে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৬৫ জন এবং সন্দেহভাজন হামে ৩৪৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব খাটিয়ে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (৪ নভেম্বর) বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিইনি। এতে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চাপ আসছে। কিন্তু মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবে, এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। দেশে চিকিৎসা শিক্ষার বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টন তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজই ঢাকা বিভাগে পুঞ্জীভূত। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। সংসদ বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ চাওয়ার মতো জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতা পরিহার করে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন না করলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন। সন্তানদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
পেছালো মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা
আগামী ৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ২০২৬-২৭ সেশনের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আরও কিছুদিন পিছিয়ে পরীক্ষাটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন। অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, পূর্বনির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে এখনও নতুন তারিখ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এইচএসসি ও সমমানের পুনঃপরীক্ষায় (সাপ্লিমেন্টারি) অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী হবে, তার ওপর নির্ভর করছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার নতুন তারিখ। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এডিজি রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বর্তমানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ পাবে কিনা, এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।  এ ছাড়া এখনও ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি। সেটি চূড়ান্ত হলেও আমরা সে অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে পারব। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি বা বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। এ বছর পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।  এমন পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ পরীক্ষা নেওয়া এবং একই মাসের শেষে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা চলতি শিক্ষাবর্ষেই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবেন। আরটিভি/টিআর
পেছালো মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা
ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৮৬৬
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৬ জন। বুধবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৪ জন রোগী। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী।  এছাড়া চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে মোট ৪৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি রয়েছে ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৮৬৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ঢাকা বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ২৮৪ জনে এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১২ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার ফলে মোট আক্রান্ত বেড়ে ২১ হাজার ৪৪৭ জনে এবং মোট মৃত্যু ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হলেও এই সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে এই বিভাগে এখন পর্যন্ত মোট ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ৮৮৬ জন। রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৭১ জন (মৃত্যু নেই), মোট আক্রান্ত ১১ হাজার ৫২ জন এবং মোট মৃত্যু ২৯ জন। অন্যদিকে রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যেখানে মোট আক্রান্ত ৪ হাজার ৯৮০ জন এবং এ পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২০৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, ফলে এই বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৭১২ জনে এবং মোট মৃত্যু ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। তুলনামূলক কম আক্রান্ত হওয়া সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩ জন, এবং এ পর্যন্ত এই বিভাগে মোট ৯১২ জন আক্রান্ত ও ৪ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। আরটিভি/টিআর
ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৮৬৬
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৯ জনে। বুধবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩২৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৪৮ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ১৫০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হাম উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৫ জনের। বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৬ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ জন, সিলেট বিভাগে ১ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা জেলাতেই সর্বোচ্চ ৪ জনের মৃত্যু নিবন্ধিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫২০ জন নতুন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৩১ জন, বরিশালে ১৫৮ জন, সিলেটে ১৪৪ জন, খুলনায় ৯৭ জন, ময়মনসিংহে ৯১ জন এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ৪২ জন করে রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৬৩৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২০৬ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ১৪২ জন। আরটিভি/টিআর
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’র সেবা পেয়েছেন ৬ লাখেরও বেশি রোগী
সৌদি আরবের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ফলে অবহেলিত গড়ইখালী ও আশপাশের অঞ্চলের দুস্থ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য বঞ্চনার অবসান হতে চলেছে।
বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’র সেবা পেয়েছেন ৬ লাখেরও বেশি রোগী
আরও পড়ুন
বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেলেন সোনাবাড়ীয়ার শতাধিক মানুষ
মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ৪৯০ কোটি ডলারের প্রতারণার অভিযোগ, গ্রেপ্তার নারী
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৫০০ মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে যুবদল
ফ্লোরিডার গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় ১৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলার দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন