ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বজুড়ে নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস আতঙ্ক

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ইনফ্লুয়েঞ্জা গোত্রের নতুন এবং অপরিচিত এক ভাইরাস ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের মহামারির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সাধারণ সর্দি-কাশির অ্যাডিনোভাইরাসের চেয়েও অধিক সংক্রামক এই ভাইরাসটি দ্রুত তার চারিত্রিক রূপ বদলাতে সক্ষম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, আমরা আগে থেকে পরিচিত ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ এবং ‘বি’ ভাইরাসের কথা জানলেও, এই নতুন ‘ডি’ ধরনটি বিশ্ববাসীর জন্য চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সম্প্রতি ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ বাড়ার নেপথ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জার আরও এক প্রতিরূপ ‘সাবক্ল্যাড কে’ ভাইরাসের সক্রিয়তা লক্ষ করা গেলেও গবেষকদের মূল দুশ্চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই রহস্যময় ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি মূলত একটি আরএনএ ভাইরাস যা আগে কেবল গবাদি পশুর শরীরে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি পশুর দেহ থেকে মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ করার ক্ষমতা অর্জন করেছে বলে ধারণা করছেন আমেরিকার হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি এবং জার্মানির ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বিজ্ঞানীরা।

যদিও এটি এখনও মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েনি, তবে পশু খামারের কর্মীদের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি মেলায় এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে মানুষের শরীরে এর সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এই ভাইরাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে পারে এবং অত্যন্ত স্থিতিশীল, ফলে যেকোনো আবহাওয়ায় এটি দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম।

বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের লিভারে তৈরি হওয়া ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন ডি’ নামক একটি প্রোটিন এই ভাইরাসের সংক্রমণকে আরও মারাত্মক করে তোলে। রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে এই প্রোটিন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং লিভার ও ফুসফুসের কোষ নষ্ট করতে শুরু করে।

আরও পড়ুন

এটি শরীরের শক্তির উৎস মাইটোকন্ড্রিয়াকে আক্রমণ করে সুস্থ কোষের মৃত্যু ঘটায়, যার ফলে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়ে। সাধারণ জ্বর বা সর্দি-কাশির মতোই প্রাথমিক উপসর্গ থাকলেও এটি শরীরের ভেতরে ভাইরাসের বিভাজন ও বৃদ্ধিতে উস্কানি দেয় বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।

এই ভাইরাসটি বর্তমানে ঠিক কবে নাগাদ বড় আকারে বিবর্তিত হয়ে মানুষের শরীরে চরম সংক্রামক রূপ নেবে তা অজানা থাকলেও এর বিস্তার রোধে এখন থেকেই কাজ শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও প্রতিষেধক তৈরির উপায় খুঁজছেন গবেষকরা।

যেহেতু এটি অত্যন্ত অভিযোজনক্ষম, তাই সাধারণ ফ্লু হিসেবে একে অবহেলা না করে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আগামী দিনে এই ভাইরাস যেন করোনার মতো বৈশ্বিক বিপর্যয় ডেকে আনতে না পারে, সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৭ বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে ১২ গুণ, আক্রান্ত ১৫ গুণের বেশি
বাংলাদেশে দুই দশকের অধিক সময় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। মশাবাহিত রোগটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
৭ বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে ১২ গুণ, আক্রান্ত ১৫ গুণের বেশি
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ২৮৩ শিশু। 
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
ভয়ংকর রূপে ডেঙ্গু, প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে ডব্লিউএইচও’র সতর্কবার্তা
বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে বেশ ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে এডিস মশা । তাই ডেঙ্গুকে এখন আর শুধুমাত্র মৌসুমি রোগ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।
ভয়ংকর রূপে ডেঙ্গু, প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে ডব্লিউএইচও’র সতর্কবার্তা
রংপুরে অ্যানথ্রাক্সের নতুন ক্লাস্টারের শঙ্কা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ৩৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় রংপুর বিভাগ অ্যানথ্রাক্সের নতুন ক্লাস্টারে পরিণত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধানে সেখানে দল পাঠিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।
রংপুরে অ্যানথ্রাক্সের নতুন ক্লাস্টারের শঙ্কা
ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ বাংলাদেশেও, তবে চাইলেই কি করা যায়?
নানা কারণে অনেক নারী সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা কিছুটা পিছিয়ে দেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমতে থাকে। বিশেষ করে মধ্য ত্রিশের পর এ সম্ভাবনা দ্রুত কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বয়স বাড়লে ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমজনিত ত্রুটির ঝুঁকিও বাড়ে। ফলে গর্ভধারণ হলেও কিছু জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের জন্য ডিম্বাণু সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন এ প্রযুক্তির সুযোগ রয়েছে। তবে চাইলেই যে কোনো নারী ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেই ভবিষ্যতে সন্তানধারণ নিশ্চিত হবে বিষয়টি এমন নয়। বয়স কতটা গুরুত্বপূর্ণ? চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর বয়সের পর নারীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। মধ্য ত্রিশের পর এই হার আরও দ্রুত কমে। ৪৫ বছর বয়সের দিকে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা খুবই কমে যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর গুণগত মানও কমতে পারে। একই সঙ্গে ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমাল অস্বাভাবিকতার ঝুঁকি বাড়ে। ফলে গর্ভধারণ হলে ভ্রূণের কিছু জিনগত বা জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ডিম্বাণু সংরক্ষণ কীভাবে করা হয়? ডিম্বাশয়ে থাকা ডিম্বাণুগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থায় থাকতেই সেগুলো সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা যায়। এ জন্য প্রথমে হরমোন ইনজেকশনের মাধ্যমে একসঙ্গে একাধিক ডিম্বাণুকে পরিণত করে তোলা হয়। সাধারণত ৮ থেকে ১২ দিন পর নির্দিষ্ট সময়ে ডিম্বাণু সংগ্রহের প্রক্রিয়া করা হয়। এ সময় রোগীকে ঘুমের ওষুধ বা চেতনানাশক দেওয়া হয়। এরপর ট্রান্সভ্যাজাইনাল সনোগ্রাফি বা টিভিএস প্রোবের সাহায্যে বিশেষ সূচের মাধ্যমে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত ডিম্বাণু তরল নাইট্রোজেনের অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ওই নারী সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সংরক্ষিত ডিম্বাণু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনা হয়। এরপর শুক্রাণুর মাধ্যমে ডিম্বাণুর নিষেক ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। পরে সেই ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। কারা ডিম্বাণু সংরক্ষণ করতে পারেন? ক্যানসারে আক্রান্ত কোনো নারীর চিকিৎসার কারণে ভবিষ্যতে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে আগেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যতে সন্তানধারণের একটি সম্ভাবনা ধরে রাখার সুযোগ দিতে পারে। এ ছাড়া সুস্থ কোনো নারী ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে চাইলে তিনিও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। তবে ডিম্বাণু সংরক্ষণ তাঁর জন্য উপযুক্ত কি না, তা নির্ভর করবে বয়স, শারীরিক অবস্থা, ডিম্বাণুর মজুত ও গুণগত মানসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেই কি সন্তানধারণ নিশ্চিত? না। ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যতে সন্তানধারণের নিশ্চয়তা দেয় না। বিশেষ করে সংরক্ষিত ডিম্বাণু পরে গলিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় আনার সময় কিছু ডিম্বাণু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এরপর নিষেক ও ভ্রূণ তৈরির ক্ষেত্রেও সাফল্য নিশ্চিত নয়। এ ছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে নারীর অন্যান্য শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপনের পরও গর্ভপাতসহ বিভিন্ন জটিলতার আশঙ্কা থাকতে পারে। ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেও ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্মগত ত্রুটি সম্পূর্ণভাবে ঠেকানো সম্ভব এমন নিশ্চয়তাও নেই। ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ডিম্বাণু সংগ্রহের আগে দেওয়া হরমোন ইনজেকশনের কারণে কারও কারও ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম (OHSS) হতে পারে। এতে ডিম্বাশয় ফুলে যাওয়া, শরীরে পানি জমা, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব, বমি বা পাতলা পায়খানা হতে পারে। জটিলতা বেশি হলে দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া, তীব্র পেটব্যথা, অনবরত বমি, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা রক্ত জমাট বাঁধার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া হরমোনের প্রভাবে ডিম্বাশয় বড় ও ভারী হয়ে গেলে সেটি নিজের অক্ষের ওপর মুচড়ে যেতে পারে, যাকে ওভারিয়ান টরশন বলা হয়। এটি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এমন একটি পরিস্থিতি। ডিম্বাণু সংগ্রহের সময় যোনিপথ বা ডিম্বাশয়ের রক্তনালিতে আঘাত লাগারও আশঙ্কা থাকে। বিরল ক্ষেত্রে মূত্রথলি, অন্ত্র বা আশপাশের রক্তনালিতেও আঘাত লাগতে পারে। সংক্রমণের ঝুঁকিও পুরোপুরি বাদ যায় না। খরচও কম নয় ডিম্বাণু সংরক্ষণের পুরো প্রক্রিয়া তুলনামূলক ব্যয়বহুল। ডিম্বাণু সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পাশাপাশি ফ্রিজারে সংরক্ষিত ডিম্বাণুর জন্য প্রতিবছর অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। তাই ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। একই সঙ্গে যে প্রতিষ্ঠানে প্রক্রিয়াটি করানো হবে, সেখানে ডিম্বাণু সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ভবিষ্যতে ব্যবহারের প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ সব মিলিয়ে মোট খরচ সম্পর্কে আগেই বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত। সব মিলিয়ে, ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যতে সন্তানধারণের একটি সুযোগ ধরে রাখার প্রযুক্তি হলেও এটি কোনো নিশ্চয়তা নয়। কার জন্য এটি উপযুক্ত, কখন করা ভালো এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কতটা এসব সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতেই নেওয়া উচিত। আরটিভি/এসকে
ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ বাংলাদেশেও, তবে চাইলেই কি করা যায়?
আরও পড়ুন
পরিবারে একজন অসুস্থ হলে অন্যদের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে যা করবেন
কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব, মৃত্যু বেড়ে ২৬৪২
মাদরাসার ১২ শিক্ষার্থীর এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার দাবি সঠিক নয়: সিভিল সার্জন
ভাইরাসের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা