প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বন্য পাখিদের মধ্যে লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সানশাইন কোস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির পাঁচটি সাধারণ প্রজাতির প্রায় ৬ শতাংশ পাখির জেনেটিক লিঙ্গ ও প্রজনন অঙ্গের লিঙ্গ এক নয়। চলতি সপ্তাহে বায়োলজি লেটারস নামের একটি সাময়িকীতে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।

গবেষণায় অস্ট্রেলিয়ান ম্যাগপাই, লাফিং কুকাবারা, ক্রেস্টেড পিজিয়ন, রেনবো লরিকিট ও স্কেলি ব্রেস্টেড লরিকিট অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রায় ৫০০ মৃত পাখির ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জেনেটিকভাবে স্ত্রী পাখির শরীরে পুরুষ প্রজনন অঙ্গ গড়ে উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে উভয় লিঙ্গের অঙ্গও পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বেশি লিঙ্গ পরিবর্তন দেখা গেছে ক্রেস্টেড পিজিয়নের মধ্যে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, আর সবচেয়ে কম ম্যাগপাইয়ে ৩ শতাংশ। এক কুকাবারা পাখি ছিল জেনেটিকভাবে স্ত্রী। কিন্তু তার শরীরে পুরুষের প্রজনন অঙ্গ পাওয়া গেছে আবার এক পুরুষ কুকাবারার শরীরে ডিম উৎপাদনের অঙ্গ পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পরিবেশে থাকা এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টিং কেমিক্যাল নামের রাসায়নিক পাখিদের হরমোনের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এ ধরনের রাসায়নিক আগেও কিছু মাছ, কীটপতঙ্গ ও সরীসৃপের লিঙ্গ পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রার তারতম্য ও প্রাকৃতিক কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষকরা সতর্ক করে বলেন, এই প্রবণতা পাখিদের প্রজনন ব্যাহত করে সংখ্যা হ্রাস করতে পারে। এমনকি কিছু প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতেও পড়তে পারে। এছাড়া পাখির লিঙ্গ নির্ধারণ প্রক্রিয়াও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের তৈরি দূষণ ও রাসায়নিকের প্রভাবে প্রকৃতির এই অস্বাভাবিক রূপান্তর অস্ট্রেলিয়ার বন্যপ্রাণীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আরটিভি/এসকে




